বাংলাদেশের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন আইনের প্রচলন রয়েছে। প্রচলিত এই আইনকানুনসমূহকে প্রধানত তিন (০৩) শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়। যথাঃ
  1. দন্ডবিধি; 
  2. ফৌজদারী কার্যবিধি এবং
  3. দেওয়ানী দন্ডবিধি।



উপরিউক্ত প্রচলিত আইনসমূহের কোনটিই স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন নয়। প্রতিটি আইন বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় একে অপরের উপর নির্ভরশীল।প্রচলিত প্রধান তিন প্রকারের আইন ছাড়াও প্রয়োজনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ আইন তৈরি পাশ করা হয়।

নিম্নে বিভিন্ন আইনের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলোঃ

০১) দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)

দণ্ডবিধি থেকে অপরাধ এবং অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে জানা যায়। মোট ৫১১টি ধারা আছে দণ্ডবিধিতে, এসব ধারাগুলোর অনেকগুলোর আবার উপধারা আছে। ধারাগুলোর কোনটিতে অপরাধের বর্ণনা বা সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে আবার কোনটিতে অপরাধের শাস্তির পরিমাণ বর্ণিত হয়েছে। ১৮৬০ সালে প্রথম ভারতীয় দণ্ডবিধি প্রবর্তিত হয়। দণ্ডবিধিকে একটি দেশের মৌলিক আইন বলা হয়ে থাকে।

তথ্যকণিকা
  • আইনের ধরণঃ আইনের ধরন মূল আইন/ বিষয় ভিত্তিক আইন/ Subjective Law/ Substantive Law
  • আইন নং: ১৮৬০ সালের ৪৫নং আইন।
  • দণ্ডবিধিতে ধারাঃ ৫১১ টি। (মূল দণ্ডবিধিতে ধারা ছিলঃ ৪৮৮টি।)
  • অধ্যায়ঃ ২৩টি।

ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন গঠনঃ ১৮৩৪ সালে।
প্রথম আইন কমিশনের -
    - চেয়ারম্যানঃ থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Loard Macaulay)
    - কমিশনারঃ G.W. Anderson , F. Millet এবং J.M. Macleod
  • আইন কমিশন কর্তৃক দণ্ডবিধি প্রণয়নের খসড়া জমাঃ ১৮৩৭
  • প্রথম পাশঃ ৬ অক্টোবর, ১৮৬০
  • কার্যকরঃ ১ জানুয়ারী, ১৮৬২
  • সর্বশেষ সংশোধনঃ ২০০৪ সালে। (ধারা ৮২ এবং ধারা ৮৩)

ফৌজদারী অপরাধের অভিযুক্ত করার প্রাথমিক শর্তসমূহঃ
  1. অপরাধী মন (ল্যাটিন: Mens Rea, ইংরেজি: Guilty Mind) এবং
  2. দোষাবহ কার্য বা অপরাধজনক কার্য (Actus Reus)

০২) ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898)

অপরাধের তদন্তের পদ্ধতি, গ্রেফতার-জমিনের বিধান এবং বিচারকার্য কিভাবে পরিচালিত হবে সেটা ফৌজদারী কার্যবিধি আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধ যাতে না ঘটতে পারে তার জন্য কিছু ব্যবস্থা ফৌজদারী আইনে পাওয়া যায়।

তথ্যকণিকা
  • আইনের ধরনঃ পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law/ Adjective Law) [ এই আইনে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে নিয়ম বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার কার্য পরিচালিত হবে তার উল্লেখ থাকে বিধায় একে পদ্ধতিগত আইন বলা হয়। ]
  • আইন নংঃ ১৮৯৮ সালের ৫নং আইন।
  • সর্ব প্রথম প্রণয়নঃ ১৮৬১ সালে।
  • সংস্কারপূর্বক গ্যাজেট প্রকাশঃ ২২ মার্চ, ১৯৮৯।
  • কার্যকরঃ ১লা জুলাই, ১৮৯৮ সালে।
  • মোট ধারাঃ ৫৬৫ টি। (বর্তমানে কার্যকরঃ ৪৭৩ টি)
  • অধ্যায়ঃ ৪৬ টি।
  • মোট তফসিলঃ ৫ টি। (বাতিলঃ ১ম তফসিল; কার্যকরঃ ৪টি)
  • সর্বশেষ সংশোধনীঃ ২০১২ সালে।


দণ্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধি
হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। দণ্ডবিধির ২৯৯ এবং ৩০০ ধারায় খুন বা হত্যাকান্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে। এবং দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের শাস্তির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

কিন্তু কিভাবে এই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে, কিভাবে তদন্তকার্য পরিচালনা করা হবে, কোন আদালতে মামলাটি দায়ের করতে হবে তথা বিষয়টি কোন আদালতের আওতাধীন ইত্যাদি সম্পর্কে দণ্ডবিধিতে কোন আলোচনা করা হয়নি। ফৌজদারী কার্যবিধিতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, বিধায় বিচারিক কার্য পরিচালনায় দণ্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধির সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।

০৩) দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (The Code of Civil Procedure, 1908)

দেওয়ানী কার্যক্রমে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। যেগুলো ফৌজদারী অপরাধ নয় সহজ ভাষায় সেগুলোই দেওয়ানী আদালতের আওতায় নেয়া হয়। বাড়ি-ঘর, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ, আর্থিক দেনদেন সংক্রান্ত প্রসঙ্গ ইত্যাদি দেওয়ানী আদালাতের আওতাভুক্ত। দেওয়ানী আদালত কিভাবে তার বিচারকার্য পরিচালনা করবে দেওয়ানী কার্যবিধিতে তার উল্লেখ আছে। দেওয়ানী কার্যবিধিকে মোটাদাগে দুইভাগে ভাগ করা যায়: কার্যবিধি ও অর্ডার। প্রতিটি অর্ডারের আবার একাধিক রুল আছে।

তথ্য কণিকা
  • CPC: Code of Civil Procedure
  • সর্বপ্রথম বিধিবদ্ধ হয়ঃ ১৮৫৯ সালে। 
  • প্রথম প্রণয়নঃ ২১ মার্চ, ১৯০৮।
  • কার্যকরঃ ১ জানুয়ারি, ১৯০৯। আমাদের।
  • আইনের ধরণঃ পদ্ধতিগত আইন। (Procedural Law/ Adjective Law)
  • আইন নংঃ ৫নং (১৯০৮ সাল)।
  • মোট ধারাঃ ১৫৮টি। (কার্যকরঃ ১৫৫টি।)
  • মোট আদেশঃ ৫১টি। (কার্যকরঃ ৫০টি।)
  • মোট তফসিলঃ ০৫টি। (কার্যকরঃ ০৩টি।)
  • অধ্যায়ঃ ১১টি। কববত।তত্ত
  • সর্বশেষ সংশোধনঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭। (ধারা ৮৯ক)

দেওয়ানী কার্যবিধিকে দুই (০২) ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
  • ধারাঃ ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলা আছে। পরিবর্তন করতে পারেঃ জাতীয় সংসদ।
  • আদেশঃ পদ্ধতি প্রসঙ্গে বলা আছে। পরিবর্তন করতে পারেঃ মহামান্য হাইকোর্ট।
Hamim LAW Academy

Hamim LAW Academy

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

Post A Comment:

0 comments: