দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩৯০ ধারায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
নিম্নে দস্যুতার সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলোঃ
দস্যুতাঃ
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর বর্ণিত, প্রত্যেক দস্যুতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ থাকবে।
যে ক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে গণ্য হয়ঃ
যদি চোর চুরি করার জন্য অথবা চুরি করার সময় অথবা চোরাই মাল পরিবহনের সময় স্বেচ্ছায় কারও মৃত্যু ঘটায় অথবা মৃত্যু ঘটানোর জন্য উদ্যত হয় অথবা আঘাত করে বা আঘাত করতে উদ্যত হয় অথবা অন্যায়ভাবে রুদ্ধ করে বা রুদ্ধ করতে উদ্যত হয় অথবা তাৎক্ষনিক মুত্যুভয়, আঘাতের ভয় অথবা অন্যায়ভাবে রুদ্ধ করার ভয় দেখায়, তাহলে সে চুরিকে দস্যুতা বলে।
যেক্ষেত্রে বলপুর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে গণ্য হয়ঃ
যদি অপরাধী বলপূর্বক গ্রহনের সময় হাজির থেকে কাউকে তাৎক্ষনির মুত্যুর ভয, আঘাতের ভয় অথবা অন্যায়ভাবে আটকানোর ভয় অথবা অন্য কোন ব্যক্তির মৃত্যু, আঘাত বা রুদ্ধ করার ভয় দেখিয়ে ভীত ব্যক্তিকে তাৎক্ষনিক কোন কিছু দিতে বাধ্য করে, তাকে দস্যুতা বলে।দস্যুতার উদাহরণঃ
কামাল, জামালকে অন্যায়ভাবে আটক করে তার টাকা-পয়সা কেড়ে নেয়। এখানে, কামাল চুরির অপরাধ করল। কেননা টাকা-পয়সা নেওয়ার ব্যাপারে জামালের কোন সম্মতি ছিল না। একই সঙ্গে কামাল দস্যুতার অপরাধ করল কেননা সে জামালকে অন্যায়ভাবে আটক করেছে।
দস্যুতার শাস্তিঃ
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩৯২ ধারায় দস্যুতার শাস্তির বিধান বলা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি যদি দস্যুতা সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি ১০ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়ে রাজপথে দস্যুতা অনুষ্ঠিত হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ ১৪ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।

Post A Comment:
0 comments: