তথ্য সূত্রঃ দৈনিক পূর্বাঞ্চল (জুন ১৮, ২০২০)
২ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু, আজ সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টারঃ নগরীর গল্লামারী রাইসা ক্লিনিকের মালিক ও বাগেরহাট ম্যাটস-এর অধ্যক্ষ ডা: আব্দুর রকিব খান হত্যার ঘটনায় খুলনা থানায় গতকাল মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ গতকাল একজনকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে, ডা: রকিব খান হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন খুলনা শাখা দু’দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর সাতরাস্তা মোড়স্থ ডা: মিলন চত্বরের বিক্ষোভ সমাবেশ ও পরে বিএমএতে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়। এ ব্যাপারে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএমএ। সোমবার রাত আটটার দিকে গল্লামারী রাইসা ক্লিনিকের সামনে থেকে মৃত প্রসূতির স্বজনদের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডা: রকিব খান মঙ্গলবার বিকেলে মারা যান।
খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম বাহার বুলবুল বলেন, নিহতের ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ডা: রকিব খান হত্যার ঘটনায় গতকাল বুধবার একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-৬, তারিখ-১৭/৬/২০। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিএম মনিরুজ্জামান বলেন, ওই মামলায় মো: আব্দুর রহিম(৩২) নামের এক আসামীকে গতকাল লবণচরা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে। ডা: আব্দুর রকিব খানের লাশের ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বুধবার দাফন করা হয়েছে।
এদিকে, খুলনা বিএমএ’র আজীবন সদস্য ডা. মোঃ আব্দুর রকিব খাঁন-এর উপর সন্ত্রাসীদের নির্মম হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনায় খুলনা বিএমএ’র জরুরী সভা ও শহীদ ডা. মিলন চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হামলার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও খুলনা সদর থানার ওসি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত খুলনা জেলার সকল চিকিৎসা সেবা বদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধুমাত্র কোভিড-১৯ হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী সেবা চালু থাকবে ।
গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা বিএমএ’র কার্যকরী পরিষদের জরুরী সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা করোনা মহামারীর এই দুর্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা একজন চিকিৎসকের উপর এই ধরনের ন্যাক্কারজনক বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা করে চিকিৎসক হত্যা করার ঘটনায় খুলনা বিএমএ’র পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেন। অভিযোগ ও মামলা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করায় বক্তারা খুলনা সদর থানার ওসির প্রত্যাহার দাবি করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে চিকিৎসকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তার জোর দাবি জানান।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হামলার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও খুলনা সদর থানার ওসি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত খুলনা জেলার সকল চিকিৎসা সেবা বদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধুমাত্র কোভিড-১৯ হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী সেবা চালু থাকবে। খুলনা বিএমএ, বিপিএমপিএ ও বিপিএইচসিডিওএ অফিসসহ সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন এবং সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বিএমএ’র নির্বাহী কমিটির সভা থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় খুলনা বিএমএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোঃ মামুনূর রশিদকে আহবায়ক, ডা. মোঃ সওকাত আলী লস্করকে যগ্ম আহবায়ক, ডা. সুমন রায়কে সদস্য সচিব এবং ডা. ইউনুচ উজ্জামান খাঁন তারিম, ডা. দেবনাথ তালুকদার রনি, ডা. এস এম তুষার আলমকে সদস্য করে আন্দোলন মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়।
খুলনা বিএমএ’র সভাপতি ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে খুলনা বিএমএ’র প্রচার ও জন-সংযোগ সম্পাদক ডা. সুমন রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ মেহেদী নেওয়াজ, যুগ্ম সম্পাদক ডা. বঙ্গ কমল বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোঃ মামুনূর রশিদ, কার্যকরী পরিষদের সদস্য ডা. ইউনুচ উজ্জামান খাঁন তারিম, ডা. দেবনাথ তালুকদার রনি, খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. রাশেদা সুলতানা, খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এম এ আহাদ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার, খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ, খুলনা বিপিএমপিএ ও বিপিএইচসিডিওএ এর সাধারন সম্পাদক ডা. মোঃ সওকাত আলী লস্কর প্রমুখ।

Post A Comment:
0 comments: