ব্যক্তির অধিকার ও সম্পত্তির অধিকার ব্যতিত যে কোন অপরাধ ফৌজদারী মামলার অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার ফলে যে মামলা পরিচালিত হয় সেগুলোই ফৌজদারী মামলা।  বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হাঙ্গামা, ব্যক্তির জীবন হরণ, অর্থসম্পদ লুটপাট ও যৌন হয়রানির অপরাধে ফৌজদারি মামলার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।


Criminal justice system

চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, লুটপাট, খুন, জখম, বিস্ফোরণ, অপহরণ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, বেআইনি সমাবেশ, প্রতারণা, জালিয়াতি, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান প্রভৃতি অপরাধে যেসব মামলা রুজু করা হয় তাকে ফৌজদারী মামলা বলে। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে জেল-জরিমানা, যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।


সাধারণত কয়েকটি ধাপে এসকল ফৌজদারী মামলার বিচার ব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে থাকে। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার ধাপসমূহ আলোচনা করা হলোঃ


ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থা

👉 প্রথম ধাপঃ মামলা দায়ের

ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয় ০২ (দুই) স্থানে। যথাঃ

ক) থানায় অথবা খ) আদালতে

  • সংশ্লিষ্ট মামলার ঘটনাস্থল যে থানার সীমানার মধ্যে অবস্থিত সেই থানায় এজাহার দাখিল করতে হয়।
  • থানায় এজাহার না নিলে কোর্টে নালিশী দরখাস্ত দাখিল করতে হয়।


ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির দ্বারা মামলা দায়ের হলে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশীট অথবা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে। পুলিশ চার্জশিট দিলে বিচারিক কোর্ট অভিযোগ গ্রহণ করে বিচারকার্য শুরু করেন।


👉 দ্বিতীয় ধাপঃ গ্রেফতার

পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (আসামী) গ্রেফতার করতে পারেঃ

  • আদালত এর আদেশের ভিত্তিতে,
  • অথবা আদালত এর আদেশ ব্যতীত (গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলে)।


👉 তৃতীয় ধাপঃ অভিযোগ শুনানি

অভিযোগ শুনানির সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নিম্নোক্ত সুযোগ পাবেঃ

  • তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পারবে।
  • দোষ স্বীকার/ নির্দোষ দাবী করতে পারে।
  • অভিযোগ থেকে অব্যাহতি/ জামিন আবেদন করতে পারে। 

মামলার যে কোন পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনের দরখাস্ত করে জামিন পেতে পারেন।


👉 চতুর্থ ধাপঃ সাক্ষী পরীক্ষা

  • অভিযোগকারী/ বাদী পক্ষ আদালতে স্বাক্ষী উস্থাপন করবে।
  • আত্মপক্ষ সমর্থনে অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবী অভিযোগকারীর/ বাদী পক্ষের সাক্ষীকে জেরা করবে।


👉 পঞ্চম ধাপঃ আসামীর পরীক্ষা

  • অভিযুক্ত/ আসামী আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে।
  • দোষ স্বীকার/ নির্দোষ দাবী করতে পারে।


👉 ষষ্ঠ ধাপঃ যুক্তিতর্ক

  • বাদী ও অভিযুক্ত/ আসামী পক্ষ স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবে।
  • আদালত রায় প্রদানের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবে।


👉 সপ্তম ধাপঃ খালাস/ সাজা

  • অভিযুক্ত/ আসামী নির্দোষ প্রমাণিত হলে খালাস পাবে।
  • দোষী সসাব্যস্ত হলে সাজা পাবে।

এক কথায়, বিচার শেষে বিচারিক কোর্ট খালাস অথবা শাস্তির আদেশ প্রদান করেন।


👉 অষ্টম ধাপঃ আপিল

আপিল দায়ের করা হয় নিম্নোক্ত কারণেঃ

  • বাদী অথবা সংক্ষুব্ধ আসামী পক্ষের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে।
  • কারাবন্দির ক্ষেত্রে জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আপিল দায়ের করা হয়ে থাকে।

সুনির্দিষ্ট সময়ের (তামাদির) মধ্যে আপিল দায়ের করতে হয়।


👉 নবম ধাপঃ আপিল নিষ্পত্তি

আপিল আদালত নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনঃ

  • বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখতে পারেন;
  • অথবা রায় খারিজ করতে পারেন।
রায় খারিজ হলে অভিযুক্ত/ আসামীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

Hamim LAW Academy

Hamim LAW Academy

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

Post A Comment:

0 comments: