দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)
দণ্ডবিধিতে ধারাঃ ৫১১ টি। (মূল দণ্ডবিধিতে ধারা ছিলঃ ৪৮৮টি।)
অধ্যায়ঃ ২৩টি।


অধ্যায়সমূহের বিবরণ

প্রথম অধ্যায় [ ধারা (১ - ৫) ]
সূচনা  (Preamble)

দ্বিতীয় অধ্যায় [ ধারা (৬ - ৫২ক) ]
সাধারণ ব্যাখ্যাসমূহ (General Explanation)

তৃতীয় অধ্যায় [ ধারা (৫৩ - ৭৫) ]
সাজা প্রসঙ্গে (Of Punishments)

চতুর্থ অধ্যায় [ ধারা (৭৬ - ১০৬) ]
সাধারণ বাতিক্রমগুলো (General Exceptions)

পঞ্চম অধ্যায় [ ধারা (১০৭ - ১২০) ]
অপরাধের সহায়তা প্রসঙ্গে (Of Abetment)

পঞ্চম-ক অধ্যায় [ ধারা (১২০ক - ১২০খ) ]
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy)

ষষ্ঠ অধ্যায় [ ধারা (১২১ - ১৩০) ]
রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ প্রসঙ্গে (Of offences against the state)

সপ্তম অধ্যায় [ ধারা (১৩১ - ১৪০) ]
সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনী সম্পর্কিত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে (Of offences relating to the Army, NAVY and AIR Force)

অষ্টম অধ্যায় [ ধারা (১৪১ - ১৬০) ]
সর্বসাধারণের শান্তি পরিপন্থী অপরাধসমূহ সম্পর্কিত (Of offences against the public tranquility)

নবম অধ্যায় [ ধারা (১৬১- ১৭১) ]
সরকারী কর্মচারী কর্তৃক বা সরকারী কর্মচারীগণ সম্পর্কিত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে (Of offences by or relating to public servants)

নবম-ক অধ্যায় [ ধারা (১৭১ক - ১৭১ঝ) ]
নির্বাচন সম্পর্কিত অপরাধসমূহ প্রসঙ্গে (Of offences relating to elections)

দশম অধ্যায় [ ধারা (১৭২-১৯০) ]
সরকারী কর্মচারীগণের আইনানুগ ক্ষমতা অবমাননা প্রসঙ্গে (Of contempts of the lawful authority of public servants)

একাদশ অধ্যায় [ ধারা (১৯১ - ২২৯) ]
মিথ্যা সাক্ষ্য ও গণ-বিচারের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রসঙ্গে (Of false evidence and offences against public justice)

দ্বাদশ অধ্যায় [ ধারা (২৩০ - ২৬৩ক) ]
মুদ্রা ও সরকারী স্ট্যাম্প সংক্রান্ত অপরাধসমূহ সম্পর্কিত (Of offences relating to coin and government stamps)

এয়োদশ অধ্যায় [ ধারা (২৬৪ - ২৬৭) ]
ওজন ও মাপকাঠি সংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কে (Of offences relating to weights and measures)

চতুর্দশ অধ্যায় [ ধারা (২৬৮ - ২৯৪খ) ]
জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সুবিধা, শালীনতা ও নৈতিকতা সংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কিত (Of offences affecting the public health, safety, convenience, decency and morals)

পঞ্চদশ অধ্যায় [ ধারা (২৯৫ - ২৯৮) ]
ধর্ম সংক্রান্ত অপরাধসমূহ সম্পর্কিত (Of offences relating to religion)

ষোড়শ অধ্যায় [ ধারা (২৯৯ - ৩৭৭) ]
মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ সম্পর্কিত (Of offences affecting the human body)

সপ্তদশ অধ্যায় [ ধারা (৩৭৮ -৪৬২খ) ]
সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধসমূহ সম্পর্কিত (Of offences against property)

অষ্টাদশ অধ্যায় [ ধারা (৪৬৩ - ৪৮৯উ) ]
দলিলাদি এবং ব্যবসায় বা সম্পত্তি চিহ্ন সংক্রান্ত অপরাধসমূহ সম্পর্কিত (Of offences relating to documents and to trade or property marks)

ঊনিশতম অধ্যায় [ ধারা (৪৯০ - ৪৯২) ]
অপরাধমূলকভাবে চাকরি-চুক্তিসমূহের ভঙ্গকরণ সম্পর্কিত (Of the criminal breach of contracts of services)

বিশতম অধ্যায় [ ধারা (৪৯৩ - ৪৯৮) ]
বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ সম্পর্কিত (Of offences relating to marriage)

একুশতম অধ্যায় [ ধারা (৪৯৯ - ৫০২) ]
মানহানি সম্পর্কিত (Of Defamation)

বাইশতম অধ্যায় [ ধারা (৫০৩ - ৫১০) ]
অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, অপমান, অনিষ্টকর কার্য ও বিরক্তিকরণ সম্পর্কিত (Of criminal intimidation, insult prejudicial act and annoyance)

তেইশতম অধ্যায় [ ধারা ৫১১ ]
অপরাধসমূহ সংঘটনের উদ্যোগ সম্পর্কিত (Of attempts commit offences)

দণ্ডবিধি ১৮৬০
The Penal Code, 1860

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ভিত্তিক আলোচনা


প্রথম অধ্যায়
সূচনা (Preamble)
[ ধারা (১ - ৫) ]

ধারা ২: বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত অপরাধসমূহের দণ্ড [বাংলাদেশী/ বিদেশী নাগরিক কর্তৃক]
              বাংলাদেশী/ বিদেশী নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত অপরাধসমূহের বিচার ও শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার বাংলাদেশের ফৌজদারী আদালতের রয়েছে।            


ধারা ৩ : বাংলাদেশের বহির্ভাগে সংঘটিত অপরাধসমূহের দণ্ড [বাংলাদেশী নাগরিক কর্তৃক]

                বাংলাদেশী নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশের বহির্ভাগে সংঘটিত অপরাধসমূহের বিচার ও শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার বাংলাদেশের ফৌজদারী আদালতের রয়েছে। (বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অপরাধটি সংঘটিত হলে অনুরুপ শাস্তি)


ধারা ৪ : বিদেশে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির আওতা [বাংলাদেশী/ বিদেশী নাগরিক কর্তৃক]
  • বাংলাদেশী নাগরিক [ধারা ৪(১)]
  • বাংলাদেশে নিবন্ধিত যে কোন জাহাজ/ বিমানের আরোহী যে কোন ব্যক্তি (বাংলাদেশী বা বিদেশী) [ধারা ৪(৪)]
        ----- ---- --- -- - কর্তৃক বিদেশে সংঘটিত অপরাধসমূহের বিচার ও শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার বাংলাদেশের ফৌজদারী আদালতের রয়েছে, যখন তাকে বাংলাদেশের কোথাও পাওয়া যাবে।


দ্বিতীয় অধ্যায়
সাধারণ ব্যাখ্যাসমূহ (General Explanation)
[ ধারা (৬ - ৫২ক) ]
ধারা ১৭ : সরকার
                বাংলাদেশ বা এর কোন অংশে কার্যনির্বাহী সরকার পরিচালনা করার জন্য আইন অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রদত্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ।


ধারা ১৯ : বিচারক (Judge)


ধারা ২০ : বিচারালয়
                    বিচার করার জন্য সরকার কর্তৃক ঘোষিত নির্ধারিত কোন জায়গা বা স্থান।


ধারা ২১ : সরকারী কর্মচারীবার (১২) ধরণের)
                 যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সরকারের দেওয়া নিয়মনীতি মেনে বেতন ভাতা ভোগ করেন এমন সব ব্যক্তি।


ধারা ২২ : অস্থাবর সম্পত্তি
                   ভূমি ও ভূমির সাথে সংযুক্ত বস্তু ব্যতিরেকে অন্যান্য সকল বস্তু।


ধারা ২৩ : অবৈধ লাভ (Wrongful Gain) এবং অবৈধ ক্ষতি (Wrongful Loss)
    • অবৈধ লাভ (Wrongful Gain) : অন্যায় বা বেআইনীভাবে কোন সম্পত্তি লাভ করা
    • অবৈধ ক্ষতি (Wrongful Loss) : অন্যায় বা বেআইনীভাবে কোন সম্পত্তি ক্ষতি করা


ধারা ২৪ : অসাধুভাবে
                 অন্যায়ভাবে কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কোন কিছু করলে।


ধারা ২৫ : প্রতারণামূলকভাবে
                  প্রতারণার অভিপ্রায়ে কোন কিছু করা।


ধারা ২৮ : নকল করা
                  কোন ব্যক্তি সরকার কর্তৃক অনুমতি ব্যতীত কোন জিনিস বা বস্তুর মতই অন্য কোন জিনিস বা বস্তু তৈরি করলে।


ধারা ২৯ : দলিল
                  এমন কোন জিনিস বা বস্তু যার দ্বারা নিজের অধিকার আদায় করা যায় বা অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়।


ধারা ৩০ : মূল্যবান জামানত
                  এমন কোন জিনিস বা বস্তু যার দ্বারা নিজের জন্য অন্যের কাছে কোন কিছু দাবি করা যায় এমন বিষয় বা বস্তুকে মূল্যবান জামানত বলে।


⇛ সাধারণ অভিপ্রায়/ যৌথদায় (Common Intention/ Joint Liability)
        [ ধারা ৩৪, ৩৫, ৩৭ এবং ৩৮ ]

ধারা ৩৪ : সাধারণ অভিপ্রায় (Common Intension) [ ব্যতিক্রমঃ ধারা ৩৮ ]
                  দুই বা ততোধিক ব্যক্তি সাধারণ (অভিন্ন) উদ্দেশ্যে কোন অপরাধমূলক কার্য সম্পাদন করলে প্রত্যেকে দায়ী হবে।

                   উপাদানঃ
    • দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা।
    • অভিন্ন উদ্দেশ্য 
    • পূর্ব পরিকল্পনা এবং
    • অপরাধটি অবশ্যই সংঘটিত হতে হবে।
                সদস্যা সংখ্যাঃ দুই (২) বা ততোধিক ব্যক্তি।


ধারা ৩৫ : অপরাধজনক জ্ঞান এবং অভিপ্রায়ে অপরাধ
                   যখন একের অধিক কোন ব্যক্তি কোন কাজ অপরাধজনক জ্ঞান বা অভিপ্রায় নিয়ে সম্পাদন করে তখন তারা যৌথভাবে দায়ী হবে। জ্ঞানের ভিন্নতার জন্য শাস্তি হবে ভিন্ন ভিন্ন।


ধারা ৩৭ : কতিপয় কার্যের একটি সম্পাদনের মাধ্যমে অপরাধে সহযোগিতা
                  অপরাধমূলক কতিপয় কার্যের একটি করলেও প্রত্যেকে সমান শাস্তি পাবে।


ধারা ৩৮ : অপরাধমূলক কাজে জড়িত ব্যক্তিগণ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন [ ব্যতিক্রমঃ ধারা ৩৮ ]
                   অভিপ্রায়ের ভিন্নতায় জন্য শাস্তি হবে ভিন্ন ভিন্ন।

------------------- *** ** * ** *** ------------------- 


ধারা ৪০ : অপরাধ
                যে কাজ করলে বা না করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান আছে বা আইনে যে কাজ করতে বলা হয়েছে সেই কাজ না করা আর যে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে সেই কাজ করা।


ধারা ৫২ : সদবিশ্বাস
                  যথাযথ সতর্কতা এবং মনোযোগ সহকারে কোন কাজ করা হলে সেই কাজ সদবিশ্বাসে করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।


ধারা ৫২ক : আশ্রয়দান
                      স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত, কোন ব্যক্তি কোন অপরাধীকে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, পানীয় বা অন্য কিছু দ্বারা সাহায্য করলে সেই ব্যক্তি অপরাধীকে আশ্রয়দান করেছে বলে গণ্য হবে।


তৃতীয় অধ্যায়
সাজা প্রসঙ্গে (Of Punishments)
[ ধারা (৫৩ - ৭৫) ]

ধারা ৫৩ : দণ্ডসমূহ/ শাস্তির প্রকারভেদ
                  শাস্তি পাঁচ (০৫) প্রকার। যথাঃ
    1. মৃত্যুদণ্ড (Death sentence) [ সর্বোচ্চ শাস্তি/ দণ্ড; ধারা ৩০৩ ] 
    2. যাবজ্জীবন কারাবাস (Imprisonment for Life) [ সর্বোচ্চ কারাবাস- ২০ বৎসর; ধারা ৫৫ ]
    3. কারাবাস (Imprisonment), যা হতে পারেঃ ক) সশ্রম (Rigorous) বা, খ) বিনাশ্রম (Simple) [ সর্বনিম্ন কারাবাস- ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত; ধারা ৫১০ ]
    4. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (Forfeiture of Property) [ ধারাঃ ১২৬, ১২৭, এবং ১৬৯ ]
    5. অর্থদণ্ড বা জরিমানা (Fine) [ সর্বনিম্ন অর্থদণ্ড ১০ টাকা; ধারা ৫১০ ]

                বিঃ দ্রঃ
    • যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে কারাবাস সর্বদাই সশ্রম (Rigorous) হবে।
    • অন্যান্য ক্ষেত্রে কারাবাস সশ্রম বা বিনাশ্রম হতে পারে।
    • দণ্ডবিধির অধীনে বেত্রাঘাত (Whipping) এবং যাবজ্জীবন দীপান্তর (Transportation for Life) অননুমোদিত সাজা।


ধারা ৫৩ক : কারাবাস উল্লেখের ব্যাখ্যা
    • যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরঃ যাবজ্জীবন কারাবাসকে বুঝাবে। [ ১৯৮৫ সালের ৪১নং আইন দ্বারা প্রতিস্থাপিত ]
    • যাবজ্জীবন কারাবাসঃ দণ্ডিত ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনের অবশিষ্ট জীবনব্যাপী (Imprisonment for life) সশ্রম কারাবাস।
    • যাবজ্জীবন কারাবাস সর্বদাই সশ্রম (Rigorous) হবে।
    • বর্তমানে দণ্ডবিধিতে যাবজ্জীবন দীপান্তর (Transportation for Life)  অননুমোদিত সাজা
    • স্বল্প মেয়াদের দ্বীপান্তরের উল্লেখ থাকলে তা রদ হবে।


ধারা ৫৪ : মৃত্যুদণ্ড হ্রাসকরণ
                  সরকার অপরাধীর সম্মতি ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে অন্য যেকোন দণ্ডে রূপান্তরিত করতে পারেন।


ধারা ৫৫ : যাবজ্জীবন কারাবাস হ্রাসকরণ
                 সরকার অপরাধীর সম্মতি ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে যে কোন বর্ণনার অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদী সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দন্ডিত করতে পারেন।


ধারা ৫৫ক : রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধিকার সংরক্ষণ
                      ধারা ৫৪ অথবা ধারা ৫৫ এর কোন কিছুই রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, দণ্ড লাঘব, দণ্ড বিলম্বন বা দণ্ড মওকুফকরণের অধিকার খর্ব করবে না।


ধারা ৫৭ : দণ্ডের মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশ
                  যাবজ্জীবন কারাবাসকে ত্রিশ (৩০) বছর মেয়াদী কারাবাস সমতুল্য বলে গণনা করা হবে। [ পূর্বে ছিলঃ ২০ বছর; ১৯৮৫ সালের ৪১নং আইন দ্বারা সংশোধিত ]


ধারা ৬০ : কারাবাস হতে পারেঃ সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে সশ্রম বা বিনাশ্রম
                  যেকোন বর্ণনার কারাবাসের ক্ষেত্রেঃ কারাবাস সম্পূর্ণরূপে অথবা আংশিকভাবে সশ্রম বা বিনাশ্রম হতে পারে।


➽ অর্থদণ্ড/ জরিমানা (Fine) [ ধারা ৬৩-৭০ ]

ধারা ৬৩ : অর্থদণ্ডের পরিমান
                   অর্থদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখ না থাকলে, সীমা থাকবে না, তবে এটা অতিরিক্ত হবে না।


ধারা ৬৪ : অর্থদণ্ড (জরিমানা) অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান
                  আদালত অর্থদণ্ড (জরিমানা) অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদানের আদেশ দিতে পারেন।

ধারা ৬৬ : অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ডের ধরণ
                  নির্ধারিত কারাদণ্ড যে বর্ণনার (সশ্রম/ বিনাশ্রম) হবে অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ড সেই (সশ্রম/ বিনাশ্রম) বর্ণনার।


ধারা ৬৫ : কারাবাসসহ অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাবাসের মেয়াদ
                   কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড (জরিমানা); উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধী জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে, জরিমানা অনাদায়ে কারাবাসের পরিমাণ।

                       উক্ত অপরাধের নির্ধারিত সর্বোচ্চ কারাবাসের ১/৪ অংশের বেশি হবে না।


ধারা (৫৭+৬৫): যাবজ্জীবন কারাবাসসহ অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাবাসের মেয়াদ
       যাবজ্জীবন কারাবাসকে ৩০ বছর ধরতে হবে। এবং ৩০ বছরের ১/৪ অংশই হবে নির্ণেয় সর্বোচ্চ শাস্তি। [ সমন্বয়ঃ (ধারা ৫৭ + ধারা ৬৫) প্রযোজ্য ]
অর্থ্যাৎ ৩০ × ১/৪ = ৭.৫ বছর।
সুতরাং যাবজ্জীবন কারাবাসসহ অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাবাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ৭ বছর ৬ মাস।


ধারা ৬৭ : শুধুমাত্র অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাবাসের মেয়াদ
                   শুধুমাত্র অর্থদণ্ড অনাদায়ে নিম্নবর্ণিতহারে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দন্ডিত করা হয়। যথাঃ
    • অনধিক ৫০ টাকাঃ ২ মাস
    • অনধিক ১০০ টাকাঃ ৪ মাস
    • ১০০ টাকার অধিকঃ ৬ মাস [ শুধুমাত্র অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ কারাবাসঃ ৬ মাস। ]

ধারা ৬৮ : অর্থদণ্ড আদায় (পরিশোধ/ আইনি প্রক্রিয়ায় আদায়) করলে কারাদণ্ডের সমাপ্তি হবে


ধারা ৬৯ : জরিমানার আনুপাতিক অংশ আদায়ে কারামুক্তি
অর্থদণ্ডের (জরিমানার) কোন অংশ দন্ডিত ব্যক্তি প্রদান করলে, আনুপাতিক হারে অনাদায়ে জনিত কারাদণ্ড ভোগের মেয়াদ কমে যাবে।


ধারা ৭০ : অর্থদণ্ড (জরিমানা) আদায়ের সময়সীমা (Limitation of Levy of Fine)
    • অর্থদণ্ড আদায়যোগ্য (দণ্ডাজ্ঞা প্রদানের পরবর্তী): ৬ বছরের মধ্যে
    • ৬ বছরের অধিক কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড আদায়যোগ্যঃ উক্ত মেয়াদ সমাপ্তির পূর্বে যেকোন সময়
    • অপরাধীর মৃত্যুতে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না; অর্থ্যাৎ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে আদায়যোগ্য।


ধারা ৭১ : কতিপয় অপরাধের সমবায়ে গঠিত অপরাধের শাস্তির সীমা
                    দুই আইন কিংবা একই আইনের দুই ধারায় দণ্ডযোগ্য একটি অপরাধের একাধিক শাস্তি দেওয়া যাবে না।


ধারা ৭২ : কতিপয় অপরাধের একটির জন্য দোষী ব্যক্তির দণ্ড
                    অনেকগুলো অপরাধের অভিযুক্ত কিন্তু কোন অপরাধী দোষী সন্দেহপূর্ণ হলে অপরাধীকে সর্বনিম্ন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।


➼ নির্জন কারাবাস (Solitary Confinement) [ ধারা ৭৩-৭৪ ]

ধারা ৭৩ : নির্জন কারাবাস
                  প্রযোজ্য ক্ষেত্রঃ সশ্রম কারাদণ্ডে আদালত এ আদেশ দিতে পারেন। (সর্বোচ্চ ৩ মাস)

নির্জন কারাবাস


ধারা ৭৪ : নির্জন কারাবাসের সীমা
    • নির্জন কারাবাস এককালীন ১৪ দিনের বেশি হবে না।
    • আরোপিত কারাবাসের মেয়াদ ৩ মাসের বেশি হলে নির্জন কারাবাস কোন মাসে ৭ দিনের বেশি হবে না।
    • নির্জন কারাবাসে পূর্বে ও পরে বিরাম থাকবে অথ্যাৎ বিরতিহীন হবে না


চতুর্থ অধ্যায় (Chapter IV)
সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ (General Exceptions)
[ ধারা ৭৬- ১০৬ ]
(অপরাধ বলে গণ্য হবে না।)
---------------------------------------------------------------

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৭৬ হতে ১০৬ ধারায় নিম্নোক্ত কতিপয় সাধারণ ব্যতিক্রম (General Exceptions) বর্ণিত হয়েছে, যেগুলো অপরাধ বলে গণ্য হবে না। যথাঃ

ভুল (Mistake) [ ধারা ৭৬-৭৯]
            অত্র (৭৬-৭৯) ধারাসমূহে আইনের সাধারণ নীতি স্বীকৃতিঃ
            ঘটনার অজ্ঞতা অব্যাহতির অজুহাত হতে পারে কিন্তু আইনের অজ্ঞতা (অব্যাহতির) কোনো অজুহাত নহে (ignorance of fact is excusable but ignorance of law is not excusable)

            ল্যাটিন ম্যাক্সিমঃ Ignorantia facti excusat, ignorantia juris non excusat

            আইনের দৃষ্টিতে ভুল (Mistake) দুই (০২) প্রকার। যথাঃ
    1. ঘটনাগত ভুল (Mistake of Fact)
    2. আইনগত ভুল (Mistake of Law)


ধারা ৭৬ : আইনত বাধ্য বা ভুল ধারণাবশত নিজেকে আইনবলে বাধ্য বলে বিশ্বাসকারী ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক সম্পাদিত কার্য
                যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে কোন কাজ করতে আইনগত ভাবে বাধ্য মনে করে সরল বিশ্বাসে কোন কার্য সম্পাদন করলে তার উক্ত কার্য অপরাধ হবে না।

ধারা ৭৭ : বিচার সম্পর্কিত কার্য পরিচালনাকালে বিচারকের কার্য
                আদালতের বিচার বিষয়ক কার্য পরিচালনার জন্য বিচারক সরল বিশ্বাসে যে ক্ষমতা প্রয়োগ করবে তা অপরাধ নয়।

ধারা ৭৮ : আদালতের রায় বা আদেশের অনুসরণে সম্পদিত কার্য


ধারা ৭৯: আইন সমর্থিত কিংবা ভুল ধারণাবশত নিজেকে আইন সমর্থিত বলে বিশ্বাসকারী ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত কার্য


ধারা ৮০ : আইনানুগ কার্য সম্পাদনকালে দুর্ঘটনা


ধারা ৮১ : সম্ভাব্য ক্ষতিকারক কার্য, কিন্তু অপরাধমূলক অভিপ্রায় ব্যতিরেকে এবং অন্যবিধ ক্ষতি নিবারণকল্পে সম্পাদিত


ধারা ৮২ : নয় (০৯) বছরের কম বয়স্ক শিশুর কার্য


ধারা ৮৩: নয় (০৯) বছরের অধিক বয়স্ক ও বার (১২) বছরের কম বয়স্ক অপরিণত বোধশক্তি সম্পন্ন শিশুর কার্য


ধারা ৮৪ : অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির কার্য


ধারা ৮৫ : অনিচ্ছাকৃত নেশাগ্রস্থতার কারণে বিচারশক্তি রহিত ব্যক্তির কার্য


ধারা ৮৬ : যে অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্দেশ্য বা জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে, নেশাগ্রস্থ ব্যক্তি কর্তৃক সে অপরাধ সংঘটন


ধারা ৮৭ : মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটানোর জন্য অভিপ্রেত নয়, এবং অনুরূপ সম্ভাবনাপূর্ণ বলে অজ্ঞাত কার্য সম্মতি সহকারে সম্পাদন করা


ধারা ৮৮ : মৃত্যু ঘটানোর জন্য অভিপ্রেত নয় এমন কার্য ব্যক্তি বিশেষের উপকারার্থে সদ্‌বিশ্বাসে সম্মতি সহকারে সম্পাদন


ধারা ৮৯ : অভিভাবক কর্তৃক বা অভিভাবকের সম্মতিক্রমে শিশু বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সদ্বিশ্বাসে কৃত কার্য


ধারা ৯০ : ভীতি বা ভ্রান্ত ধারণার অধীনে প্রদত্তবলে বিদিত সম্মতি


ধারা ৯১ : যে সমস্ত কার্য সাধিত ক্ষতি হতে স্বতন্তভাবে অপরাধ বলে গণ্য, সে সমস্ত কার্য বর্জন


ধারা ৯২ : সম্মতি ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য


ধারা ৯৩ : সরল বিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ


ধারা ৯৪ : হুমকির ফলে বাধ্য হয়ে কোন ব্যক্তি কর্তৃক কৃত কার্য


ধারা ৯৫ : সামান্য ক্ষতিকারক কার্য



⭆ ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রসঙ্গে [ ধারা ৯৬-১০৬ ]

ধারা ৯৬ : ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষায় কৃত কার্যসমূহ
                    ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগকালে কৃত কোন কিছুই অপরাধ নয়।


ধারা ৯৭ : ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্র
                    ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্র দুই (০২) টি। যথাঃ শরীর ও সম্পত্তি
      1. নিজের বা অন্যের শরীর [ ৬ টি ক্ষেত্রে; ধারা ১০০ ]
      2. নিজের বা অন্যের স্থাবর/ অস্থাবর সম্পত্তি [ ৪ টি ক্ষেত্রে; ধারা ১০৩ ]
                                ---------- সম্পর্কিত রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায়।


ধারা ৯৮ : যে সকল ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার আছে
                   অপ্রকৃতিস্থ, নেশা গ্ৰস্থ, তরুণ, অপরিণত বিবেকবান ইত্যাদি ব্যক্তির কার্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা অধিকার প্রয়োগ করা যায়।


ধারা ৯৯ :  যেসব কার্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার নাই [ ব্যতিক্রমঃ ধারা ১০০ ]
    1. পদাধীকার বলে সরল বিশ্বাসে সরকারী কর্মচারী কর্তৃক সম্পাদিত কার্য যা গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর সম্ভাবনা সৃষ্টি করে না
    2. সরকারী কর্মচারীর নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পাদিত কোন কার্য
    3. সরকারী কর্তৃপক্ষসমূহের আশ্রয় লাভের সুযোগ থাকলে
    4. প্রতিরক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতি করা প্রয়োজন তা অপেক্ষা অধিক ক্ষতির ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যাবে না।


ধারা ১০০ : যেক্ষেত্রে (৬টি) শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগে মৃত্যু ঘটানো যায়  [ ব্যতিক্রমঃ ধারা ৯৯ ]
                    ছয় (০৬) টি ক্ষেত্রে শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে যায়। যথাঃ
      1. এমন আঘাত যা মৃত্যু ঘটাবে
      2. এমন আঘাত যা প্রকারান্তরে গুরুতর আঘাত তৈরি করে
      3. ধর্ষণের অভিপ্রায়ে আক্রমণ
      4. অপ্রকৃত কাম-লালসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্য আক্রমণ
      5. অপহরণের অভিপ্রায়ে আক্রমণ
      6. অবৈধভাবে আটক


ধারা ১০১ :  যেক্ষেত্রে অনুরূপ অধিকার মৃত্যু ব্যতীত অন্য যেকোন ক্ষতির প্রতি প্রযোজ্য হয়



ধারা ১০২ :  দেহের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকারের আরম্ভ ও স্থিতিকারল


ধারা ১০৩ : যেক্ষেত্রে (৪টি) সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগে মৃত্যু ঘটানো
                     চার (০৪) টি ক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে যায়। যথাঃ
    1. দস্যুতা বা ডাকাতির ক্ষেত্রে
    2. রাত্রিবেলা অপথে গৃহে প্রবেশ
    3. গৃহ বা তাবুতে অগ্নি সংযোগ
    4. এমন অবস্থায় চুরি যে ক্ষেত্রে অধিকার প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর জখমের সম্ভাবনা রয়েছে।

ধারা ১০৪ :  যেক্ষেত্রে অনুরূপ অধিকার মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোন ক্ষতিসাধনের প্রতি প্রযোজ্য হয়



ধারা ১০৫ :  সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা অধিকারের আরম্ভ ও স্থিতিকাল



ধারা ১০৬ :  নিরপরাধ ব্যক্তির প্রতি ক্ষতিসাধিত হওয়ার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে মারাত্মক আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অীধকার

পঞ্চম অধ্যায়
অপরাধের সহায়তা প্রসঙ্গে (Of Abetment)
[ ধারা (১০৭ - ১২০) ]
ধারা ১০৭ :  অপরাধের সহায়তা (Abetment)

                    অপরাধে সহায়তা ৩ (তিন) ভাবে করা হতে পারে। যথাঃ
                    ক) প্ররোচিত করে (By Instigation)
                    খ) ষড়যন্তে অংশগ্রহন করে (By Engaging in the Conspiracy)
                    গ) কোন কাজ করে বা করা হতে বিরত থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (Intentionally aids, by any act or illegal omission)

    ‌                বিঃ দ্রঃ অপরাধের সহায়তার সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যাঃ ১ জন।

ধারা ১০৮ : সংজ্ঞাঃ অপরাধের সহায়তাকারী/ প্ররোচনা দাতা
                    যে ব্যক্তি কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচনা দেয় বা সহায়তা করে তাকে দুষ্কর্মের সহায়তাকারী বলে।

    ‌                বিঃ দ্রঃ ১০৮ ধারায় ব্যাখ্যা রয়েছেঃ ৮ টি।

ধারা ১০৯ : অপরাধের সহায়তাকারীর/ প্ররোচনা দাতার শাস্তি
      • নির্ধারিত শাস্তিঃ কোন অপরাধে সহায়তা করার জন্য শাস্তি নির্ধারিত থাকলে, উক্ত শাস্তি।
      • অনির্ধারিত শাস্তিঃ কোন অপরাধে সহায়তা করার জন্য শাস্তি নির্ধারিত না থাকলে, মূল অপরাধের সমান শাস্তি।
                বিঃ দ্রঃ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর প্রথম শাস্তি ধারাঃ ১০৯ ধারা

ধারা ১১১ : সহায়তাকৃত কার্য হতে ভিন্ন কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে সহায়তাকারীর দায়
                   যে কার্য করার জন্য সহায়তা করা হয়েছে সেই কার্যটি ব্যতীত ভিন্ন কার্য সম্পাদিত হলে, অপসহায়তাকারী (Abettor) সংঘটিত কার্যটির জন্য সরাসরিভাবে সহায়তার করার জন্য দায়ী হবে।

ধারা ১১৫ : মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরণ
    • অপরাধ সংঘটিত না হলে (শাস্তি): যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ড; ৭ বছর পর্যন্ত ও অর্থদণ্ড।
    • অপরাধ সংঘটিত হলে (শাস্তি): যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ড; ১৪ বছর পর্যন্ত ও অর্থদণ্ড।

ধারা ১১৬ কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরণ
  • অপরাধ সংঘটিত না হলে (শাস্তি): অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির ১/৪ অংশ।
  • অপরাধ সংঘটিত হলে (শাস্তি): অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি।

ধারা ১১৭ : জনসাধাণ বা দশের অধিক ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধ অনুষ্ঠানে সহায়তাকরণ
                   শাস্তিঃ যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ড; ৩ বছর পর্যন্ত/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।

পঞ্চম-ক অধ্যায়
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy)
[ ধারা (১২০ক - ১২০খ) ]
ধারা ১২০কঃ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা
                        যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি- 
                        ১. কোন অবৈধ কাজ, অথবা
                        ২. কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে
                            সম্পাদন করতে সম্মত হলে অনুরুপ চুক্তি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত হবে।
                    
                        বিঃ দ্রঃ     অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের----
                                            ন্যূনতম সদস্য সংখ্যাঃ ২ জন।
                                            শর্তঃ ২ টি।
                                            মূল উপাদানঃ সম্মতি

ধারা ১২০খঃ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের শাস্তি
      • মৃত্যূদণ্ড/ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড/ দুই বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের জন্য সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রেঃ মূল অপরাধের সমান শাস্তি।
      • উপরিউক্ত বর্ণিত অপরাধ ব্যতিত অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে (বা ২ বছরের কম ): ৬ মাস পর্যন্ত/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।

ষষ্ঠ অধ্যায়
রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ প্রসঙ্গে
(Of offences against tje state)
[ ধারা (১২১ - ১৩০) ]

ধারা ১২১ : বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধ ঘোষণার ‍উদ্যোগ গ্রহণ করা বা যুদ্ধ ঘোষণায় সহায়তা করা
                    শাস্তিঃ মুত্যুদন্ড / অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।


ধারা ১২১ক : বাংলাদেশের ভিতরে বা বাইরে থেকে ১২১ ধারায় উল্লিখিত দণ্ডনীয় অপরাধসমূহ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করা
                    শাস্তিঃ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড / ১০ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

ধারা ১২২ : বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি সংগ্রহ করা
                    শাস্তিঃ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড / ১০ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

ধারা ১২৩ : যুদ্ধ সুগম করার অভিপ্রায়ে ষড়যন্ত্র গোপনকরণ
                    শাস্তিঃ যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ড; ১০ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।


------------------- *** ** * ** *** -------------------


অষ্টাদশ অধ্যায়
দলিলাদি এবং ব্যবসায় বা সম্পত্তি চিহ্ন সংক্রান্ত অপরাধসমূহ সম্পর্কিত
(Of offences relating to documents and to trade or property marks)
[ ধারা (৪৬৩ - ৪৮৯উ) ]

জালিয়াতি (Forgery)

ধারা ৪৬৩ : জালিয়াতি- সংজ্ঞা
                        নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে মিথ্যা দলিল বা দলিলের অংশ বিশেষ প্রণয়নঃ
      • কোন ব্যক্তি বা ব্যাক্তিবিশেষের ক্ষতি বা অনিষ্ট সাধনকল্পে;
      • কোন দাবি বা অধিকার সমর্থন কল্পে;
      • কোন ব্যক্তি কোন সম্পত্তি ত্যাগে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে চুক্তি সম্পাদন করতে বাধ্য করতে;
      • প্রতারণা করার বা প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে এরূপ উদ্দেশ্যে।

ধারা ৪৬৫ : জালিয়াতি- শাস্তি
                        ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।

ধারা ৪৭১: কোন জাল দলিলকে খাঁটি হিসেবে ব্যবহারকরণ- শাস্তি
                        জালিয়াতি করার সমান শাস্তি; অর্থ্যাৎ ধারা ৪৬৫ প্রযোজ্য

                        কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলক ভাবে বা অসাধুভাবে এমন একটি দলিলকে খাঁটি দলিল হিসেবে ব্যবহার করে, যে দলিলটি একটি জাল দলিল মর্মে  সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি যেন সে নিজে দলিলটি জাল করেছে, এমনভাবে দণ্ডিত হবে।


ধারা ৪৬৪ : মিথ্যা দলিল প্রণয়ন
      • মিথ্যা দলিল প্রণয়ন জালিয়াতি বলে বিবেচিত।
      • মিথ্যা দলিল প্রণয়নের পন্থাঃ ৩টি।
      • নিজের নাম স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে।

ধারা ৪৭০ : জাল দলিল- সংজ্ঞা
                        সমগ্র বা আংশিকভাবে জালকৃত যে কোন মিথ্যা দলিল।


ধারা ৪৬৬ : আদালতের নথিপত্র বা সরকারি রেজিষ্টার ইত্যাদি জালকরণ- শাস্তি
                        ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।

ধারা ৪৬৮ : প্রতারণা করার লক্ষ্যে জালিয়াতি- শাস্তি
                        ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।


ধারা ৪৬৭ : মূল্যবান জামানত, উইল ইত্যাদি জালকরণ- শাস্তি
                        যাবজ্জীবন কারাদণ্ড/ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।


ধারা ৪৬৯ : মানহানির লক্ষ্যে জালিয়াতি- শাস্তি
                        ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।


বিশতম অধ্যায়
বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ সম্পর্কিত
(Of offences relating to marriage)
[ ধারা (৪৯৩ - ৪৯৮) ]

ধারা ৪৯৭ : ব্যভিচার (Adultry)- সংজ্ঞা ও শাস্তি
                        কোন ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোন লোকের স্ত্রী/ স্ত্রী বলে জানে/ তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে এমন কোন ব্যক্তির সঙ্গে উক্ত অন্য লোকের সম্মতি বা সমর্থন ব্যতিরেকে এরূপ যৌনসঙ্গম করা যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়।

                               শাস্তিঃ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।

                বিঃ দ্রঃ ব্যভিচারের জন্য দোষী হবে শুধুমাত্র পুরুষ ব্যক্তিটি। স্ত্রীলোকটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারিনী হিসাবে দন্ডিত হবে না।


একুশতম অধ্যায়
মানহানি সম্পর্কিত (Of Defamation)
[ ধারা (৪৯৯ - ৫০২) ]

ধারা ৪৯৯ : মানহানি (Defamation)- সংজ্ঞা
    • ইংরেজিতেঃ Defamation, libel, loss of honor or respectability, insult
    • বাংলায়ঃ  অবমাননা বা মর্যাদাহানি
    • দণ্ডবিধি অনুসারে: যে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা এমন হবে জেনেও উদ্দেশ্য মূলক শব্দাবলি বা চিহ্নাদি বা দৃশ্যমান প্রতীকের সাহায্যে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এমন ভাবে কোনো নিন্দা প্রণয়ন বা প্রকাশ করে, তা হলে ওই ব্যক্তির মানহানি করেছে বলে ধরা হবে।
    • মৃত লোকের নিন্দা করা মানহানির সামিল হতে পারে।
    • কোম্পানী বা সমিতির বিরুদ্ধে নিন্দা করা মানহানি হতে পারে।
    • মানহানি সম্পর্কিত ব্যাখ্যাঃ ৪টি
    • মানহানি সম্পর্কিত ব্যাতিক্রমঃ ১০টি


ধারা ৫০০ : মানহানি (Defamation)- শাস্তি
                    বিনাশ্রম কারাদণ্ড; ২ বছর পর্যন্ত/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।


বাইশতম অধ্যায়
অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, অপমান, অনিষ্টকর কার্য ও বিরক্তিকরণ সম্পর্কিত
(Of criminal intimidation, insult prejudicial act and annoyance)
[ ধারা (৫০৩ - ৫১০) ]

ধারা ৫০৩ : অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন (Criminal Intimidation)- সংজ্ঞা
                         কোন ব্যক্তির দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের জন্য ভয় দেখিয়ে যে কাজ করতে সে আইনতঃ বাধ্য নয়, সেই কাজ করতে বাধ্য করা বা কাজ করা থেকে বিরত রাখাকে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বলে।

                    ব্যাখ্যাঃ ভীতি প্রদর্শিত ব্যক্তির স্বার্থ নিহিত রয়েছে এমন কোন মৃত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার হুমকি অত্র ধারার আওতাধীন হবে।

                      উদাহরণঃ ‘ক’, ‘খ’ কে দেওয়ানী মোকদ্দমা পরিচালনা থেকে বিরত রাখার ইচ্ছায় ‘খ' এর ঘর  পোড়ানোর হুমকি দেয়। ‘ক’ অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে দোষী।


ধারা ৫০৬ : অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন (Criminal Intimidation)- শাস্তি
    • অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনঃ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।
    • মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের, নারীর সতীত্ব নষ্ট করার ভয় দেখিয়ে ভীতি প্রদর্শনঃ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।


ধারা ৫০৭ : বেনামী পত্রের দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন- শাস্তি
                      ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড। [ অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শের শাস্তি; ধারা ৫০৬]


ধারা ৫০৯ : নারীর শালীনতা অমর্যাদা করা/ ইভটিজিং - শাস্তি
                      ইচ্ছাকৃতভাবে কোন নারীর শালীনতা অর্মাযাদা করার (Insulting the modesty of a woman) অভিপ্রায়ে কোন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা এমন কোন কাজ।

                      শাস্তিঃ বিনাশ্রম কারাদণ্ড; ১ বছর পর্যন্ত/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।


ধারা ৫১০ : প্রকাশ্যে মাতাল ব্যক্তির অসদাচরণ - শাস্তিসর্বনিম্ন শাস্তির ধারা ]
                      বিনাশ্রম কারাদণ্ড; ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত/ ১০ টাকা পর্যন্ত- অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।

তেইশতম অধ্যায়
অপরাধসমূহ সংঘটনের উদ্যোগ
(Attempts to commit offences)
 [ ধারা ৫১১ ]

ধারা ৫১১ :  যাবজ্জীবন করাদণ্ডে বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধসমূহ সংঘটনের উদ্যেগের শাস্তি

                    অত্র ধারায় অপরাধটি নিম্নোক্ত শর্তে শাস্তিযোগ্য হবেঃ
      1. অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগ গ্রহণ;
      2. উক্ত অপরাধমূলক উদ্যোগটি দণ্ডবিধিতে শাস্তিযোগ্য হতে হবে;
      3. অপরাধটি অবশ্যই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড/ কারাদণ্ড/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে;
      4. অপরাধটি সংঘটনের উদ্যোগ গ্রহণের শাস্তির স্পষ্ট বিধান দণ্ডবিধিতে নেই;
      5. অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্বারা অপরাধ কার্যটি সম্পাদিত হতে হবে
                        
                       শাস্তিঃ দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ড/ অর্থদণ্ড/ উভয়দণ্ড।

উদাহরণ:
  1. 'ক' একটি বাক্স ভেঙ্গে কিছু অর্থ-সম্পদ চুরি করার চেষ্টা করে। সে বাক্সটি ভেঙ্গে দেখতে পায় যে, তাতে কোন অর্থ-সম্পদ নেই। সে চুরির উদ্দেশ্যে এই কার্যটি করেছে,  সুতরাং সে অত্র ধারার অধীনে দোষী সাব্যস্ত হবে।
  2. 'ক', 'গ' - এর পকেটে তার হাত ঢুকিয়ে 'গ' - এর পকেট মারার উদ্যোগ করে। 'গ' - এর  পকেটে কিছু না থাকার দরুন 'ক' অনুরুপ উদ্যোগে ব্যর্থ হয়। ক অধীনে দোষী সাব্যস্ত হবে।


++++




ধারা

বিবরণ




৭৬
সরকারি কর্মচারী নিজেকে আইনবলে বাধ্য মনে করে বা ভূল ধারনা বশত: কোন কাজ করতে গিয়ে অপরাধ হয়ে গেলেও তাহা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৭৯
জনসাধারণ নিজেকে আইনবলে বাধ্য মনে করে বা ভূল ধারণা বশতঃ কোন কাজ করতে গিয়ে অপরাধ হয়ে গেলেও তাহা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৮০
কোন ব্যক্তি কোন আইনানুগ কাজ করতে গিয়ে কোন দুর্ঘটনাবশতঃ অপরাধ ঘটলে তাহা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৮১
কোন ব্যক্তি কোন আইনানুগ কাজ করতে গিয়ে এক সঙ্গে দুটি অপরাধ তার সম্মুখে আসলে তুলনামূলকভাবে বড় অপরাধটি না করে ছোট অপরাধটি করলে সেক্ষেত্রে তার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

৮২

৯ বছরের কম বয়স্ক কোন শিশু কর্তৃক কৃতকার্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৮৩৯ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়স্ক কোন শিশু কর্তৃক কৃতকার্য:

১। শিশুটির বুদ্ধির পরিপক্কতা থাকলে অপরাধ হবে।

২। শিশুটির বুদ্ধির পরিপক্কতা না থাকলে অপরাধ হবে না।
৮৪পাগল ব্যক্তির কৃতকার্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৮৫কোন ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অন্যের দ্বারা নেশাগ্রস্থ হয়ে খুন বা রাষ্ট্রদ্রাহি কোন অপরাধ ব্যতীত অন্য কোন অপরাধ সংঘটন করলে সে অপরাধের দায় থেকে রেহায় পাবে বা তাহা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৮৬কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নেশাগ্রস্থ হয়ে অপরাধ সংঘটন করলে সে অপরাধের দায় হতে রেহায় পাবে না।
৮৭অনুমতিসহ খেলাধুলা করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত: কোন ক্ষতি হয়ে গেলে তাহা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৮৮অনুমতিসহ সৎবিশ্বাসে কোন ব্যক্তির উপকার করতে গিয়ে ক্ষতি হয়ে গেলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৮৯শিশু বা পাগলের উপকার করার জন্য তার অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে উপকার করতে গিয়ে কোন ক্ষতি হলে তাহা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৯২অনুমতি ছাড়া সদবিশ্বাসে কোন ব্যক্তির উপকার করতে গিয়ে ক্ষতি হয়ে গেলে তাহা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৯৩সরল বিশ্বাসে কৃত যোগাযোগের ফলে অপরাধ সংঘটিত হলে তাহা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৯৪কোন ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা গুরুতর জঘমের ভয় দেখিয়ে অপরাধ করে নিলে উক্ত ব্যক্তি অপরাদের দায় থেকে রেহায় পাবে। তবে সরকারি আশ্রয়ের সুযোগ থাকলে রেহায় পাবে না।
৯৫কোন সামান্য ক্ষতিকারক কার্জ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
৯৬-৯৭আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার:

পেনাল কোড আইনের ৯৯ ধারার শর্ত সাপেক্ষে নিজের জানমাল, অপরের জানমাল এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আইনে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে সেই অধিকারকে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার বলে।
৯৮পাগলের ক্ষেত্রেও আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করা যায়।


১০১দেহের ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে মৃত্যু ছাড়া অন্য কোন ক্ষতি সাধন করে যদি অধিকার আদায় করা যায় সেক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটানো যায় না।
১০২দেহের ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার আরম্ভ স্থিতিকালঃ

পেনাল কোড ৯৯ ধারার শর্ত সাপেক্ষে দেহের উপর আক্রমনকারীর আক্রমন যখন শুরু হয় তখন আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ শুরু হয় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আক্রমণকারীর আক্রমন চলবে ততক্ষণ অধিকার বলবৎ থাকবে বা চলবে, যখন আক্রমণকারীর আক্রমণ শেষ হবে তখন অধিকার প্রয়োগ শেষ হবে।


১০৪সম্পত্তির ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে মৃত্যু ছাড়া অন্য কোন ক্ষতি সাধন করে যদি অধিকার আদায় করা যায় সেক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটানো যায় না।
১০৫সম্পত্তির ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার আরম্ভ স্থিতিকাল:

পেনাল কোড ৯৯ ধারার শর্ত সাপেক্ষে সম্পত্তির উপর আক্রমনকারীর আক্রমন যখন শুরু হয় তখন আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ শুরু হয় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আক্রমণকারীর আক্রমন চলবে ততক্ষণ অধিকার বলবৎ থাকবে বা চলবে, যখন আক্রমণকারীর আক্রমণ শেষ হবে তখন অধিকার প্রয়োগ শেষ হবে।
১০৬নিরপরাধ ব্যক্তি বা শিশুর ক্ষেত্রেও আত্মরক্ষার অধিকার:

পেনাল কোড আইনের ৯৯ ধারার শর্ত সাপেক্ষে নিজের জানামাল অপরের জানমাল এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে নিরপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োজ করা যায়।

পিআরবি-১৫৩ বিধি
১০৭সহায়তা:

কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করার জন্য বুদ্ধি পরামর্শ বা অন্য কোন ভাবে সাহায্য করলে সে ব্যক্তি সহায়তা করেছে বলে গণ্য হবে।

১৪০সৈনিক বা নাবিক বা বৈমানিকের ব্যবহৃত পোষাক ব্যবহার করা বা প্রতিক ধারণ করার সাজা
১৪১বেআইনী সমাবেশ:

পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে যদি সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে বা সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা প্রদান করে বা সরকারি কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখায় বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করে বা জনগণের আইনানুগ অধিকার খর্ব করে তবে তাকে বেআইনী সমাবেশ বলে।

পুলিশ আইন-৩০-ক ধারা
১৪৩বেআইনী সমাবেশ করার সাজা।
১৪৪মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে বেআইনী সমাবেশ করার সাজা
১৪৬দাঙ্গা:

বেআইনী সমাবেশের সদস্য কর্তৃক যদি উগ্রতা প্রদর্শন করা হয় বা অস্ত্র প্রদর্শন করা হয় কিংবা বলপ্রয়োগ করা হয় বা গাড়ী ভাংচুর করা হয় তখন সেই সমাবেশকে দাঙ্গা বলে।
১৪৭দাঙ্গা করার সাজা
১৪৮মারাত্মক অস্ত্রসহ দাঙ্গা করার সাজা
১৫৪জমি জমার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর সেই আদেশ অমান্য করার সাজা।

কাঃবিঃ ১৪৫ ধারা

পিআরবি ২৫২ বিধি
১৫৯মারামারি/কলহ:

দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে যদি জনসম্মুখে ঝগড়া করে জনগণের শান্তি বিনস্ট করে তবে তাকে মারামারি/কলহ বলে।
১৬০কলহ/মারামারি করার সাজা
১৬১ঘুষ:

কোন সরকারি কর্মচারী তার বৈধ পারিশ্রমিক ব্যতীত অন্যায়ভাবে অতিরিক্তি অর্থ উপার্জন করাকে ঘুষ বলে।
১৬১ঘুষের ব্যাখ্যা:

ঘুষ আদান প্রদানে তিন ধরনের লোক লাগে:

১। ঘুষ গ্রহীতা

২। ঘুষ দাতা

৩। ঘুষ দেওয়ার মাধ্যম
১৬১যে ব্যক্তি ঘুষ নিবে, সে ব্যক্তি কর্তৃক টাকা ঘুষ নেওয়ার সাজা।
১৬২যার মা্ধ্যমে ঘুষ দিবেন সে যদি ঘুষ গ্রহিতার উপর ব্যক্তিগত প্রভাব খাটাতে না পারেন এমন দালালের সাজা
১৬৩যার মাধ্যমে ঘুষ নিবেন সে যদি নিকটতম লোক হয়, সেই নিকটতম দালালের সাজা।
১৬৪কাছের এবং দুরের উভয় দালাল সহায়তাকারী হিসেবে দালালের সাজা
১৬৫যে ব্যক্তি ঘুষ নিবে সে ব্যক্তি কর্তৃক মূল্যবান জিনিসপত্র ঘুষ নেওয়ার সাজা
১৬৫-কযে ব্যক্তি ঘুষ দিবেন, তার ঘুষ যদি অফিসার গ্রহণ না করেন তাহলে ঘুষ প্রদানকারী ব্যক্তি ঘুষের সহায়তাকারী হিসেবে সাজা পাবেন

১। টাকা ঘুষ না নিলে ১৬১/১১৬ ধারায় সাজা

২। মূল্যবান দ্রব্যাদি গ্রহণ না করলে ১৬৫/১১৬ ধারায় সাজা।
১৬৫-খযে ব্যক্তি ঘুষ দিবেন, তার ঘুষ যদি অফিসার গ্রহণ করেন তাহলে ঘুষ প্রদানকারী ব্যক্তি অপরাধের দায় হতে রেহায় পাবেন।
১৬৮সরকারি কর্মচারী কর্তৃক বেআইনীভাবে ব্যবসায় লিপ্ত হওয়ার সাজা।
১৬৯সরকারি কর্মচারী কর্তৃক বেআইনীভাবে সম্পত্তি ক্রয় করার সাজা।
১৭০সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করা বা সরকারি কর্মচারী বলিয়া মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার সাজা
১৭১সরকারি কর্মচারীর পোষাক পরিধান বা প্রতীক ধারণ করার সাজা
১৭২সমন যার প্রতি জারি করা হবে, সে যদি সমন জারি করার সময় আত্মগোপন করেন তবে তার সাজা
১৭৩যার প্রতি সমন জারি করা হবে, সে যদি সমন জারি করার সময় বাধা দেয় তার সাজা।
১৭৪পুলিশ অফিসারের নিকট হাজির হওয়ার জন্য কোন ব্যক্তিকে লিখিত আদেশ দেওয়ার পর যদি সেই ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের নিকট হাজির না হন সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির সাজা।

কাঃবিঃ ১০৩(১), ১৬০, ১৭৫ ধারা।
১৭৫পুলিশ অফিসারের নিকট দলিলাদি হাজির করার জন্য লিখিত আদেশ দেওয়ার পর যদি সেই ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের নিকট উক্ত দলিল হাজির না করার সাজা।

কাঃবিঃ ৯৪ ধারা
১৭৬কোন ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের খবর পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটকে না দেওয়ার সাজা।

কাঃবিঃ ৪৪, ৪৫ ধারা
১৭৭অপরাধ সংঘটিত হয়েছে একরকম, পুলিশকে খবর দিয়েছে অন্য রকম কোন ব্যক্তি কর্তৃক এমন মিথ্যা খবর দেওয়ার সাজা।
১৭৯কোন ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের নিকট হাজির হয়ে পুলিশ অফিসারের জিজ্ঞাসায়িত প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার সাজা।
১৮৭পুলিশ অফিসার কোন ব্যক্তির নিকট যুক্তিসংগত ভাবে সাহায্য দাবি করলে সেই ব্যক্তি পুলিশ অফিসারকে সাহায্য না করার সাজা।

কাঃবিঃ ৯৪, ১০৩(১), ১৬০, ১৭৫ ধারা
১৯১মিথ্যা সাক্ষ্যদান:

কোন ব্যক্তি কোন বিষয়কে অসত্য বলে জানার পরেও যদি সেই বিষয় সম্পর্কে সত্য হিসেবে বিবৃতি প্রদান করেন তাহলে সেই ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেছে বলে গণ্য হবে।
১৯৩মিথ্যা সাক্ষ্য দানের সাজা
১৯৭কোন ব্যক্তি কর্তৃক মিথ্যা সার্টিফিকেট দেওয়া বা সাক্ষর করার সাজা
১৯৮কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন বিষয়কে বা সার্টিফিকেটকে মিথ্যা বলিয়া জানার পরও তাহা সত্য বলিয়া ব্যবহার করার সাজা।
২০১কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধীকে বাচাঁনোর জন্য অপরাধের আলামত নষ্ট করার সাজা।
২০২কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধীকে বাচাঁনোর জন্য অপরাধের খবর পুলিশকে না দেওয়ার সাজা।
২০৪কোন সরকারি কর্মচারী কর্তৃক অপরাধের আলামত নষ্ট করার সাজা
২১১কোন ব্যক্তি কর্তৃক কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার সাজা
২১২কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন মামলার অপরাধীকে আশ্রয়দান করা সাজা (স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত)
২১৬হাজত হতে পলায়ন করেছেন এমন আসামীকে আশ্রয়দান করার সাজা
২১৬-ককোন ব্যক্তি কর্তৃক ডাকাত বা দস্যুকে আশ্রয়দান করার সাজা
২২০কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক গ্রেফতারের অযোগ্য ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার সাজা।
২২৩পুলিশ হেফাজত থেকে আসামী পলায়ন করলে যে পুলিশের নিকট থেকে আসামী পলায়ন করবে সেই পুলিশের সাজা।
২২৪কোন আসামীকে গ্রেফতারের সময় আসামী নিজেই গ্রেফতার কাজে বাধা প্রদান করার সাজা।
২২৫কোন আসামীকে গ্রেফতারের সময় তার আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক গ্রেফতার কাজে বাধা প্রদান করার সাজা।
২২৫কোন আসামীকে গ্রেফতারের সময় তার আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক গ্রেফতার কাজে বাধা প্রদান করার সাজা।
২৬৮গণউপদ্রব:

কোন ব্যক্তি কর্তৃক জনসম্মুখে এমন কোন কাজ করা যার দ্বারা জনগণের বিরক্তি সৃষ্টি হয় এমন কার্য করাকে গণউপদ্রব বলে।
২৬৯অবহেলা করে মারাত্মক রোগের সংক্রমন বিস্তার করার সাজা।
২৭০ইচ্ছাকৃতভাবে জীবন বিপন্নকারী রোগের সংক্রমন বিস্তার করার সাজা।
২৭৯রাজপথে বোপরোয়াভাবে গাড়ী চালানোর সাজা

মটরযান আইন ১৪৩ ধারা।
২৯০কোন ব্যক্তি কর্তৃক গণউপদ্রব করার সাজা।
২৯৫কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্মীয় সমাবেশে উপসনালয়ের ক্ষতি সাধন করার সাজা।
২৯৬কোন  ব্যক্তি কর্তৃত ধর্মীয় সামাবেশে গোলমাল করার সাজা।
২৯৭কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধ সংঘটনের জন্য গোরস্থানে অনধিকার প্রবেশ করার সাজা।
২৯৮কোন ব্যক্তি কর্তৃক কথার দ্বারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার সাজা।
২৯৯দন্ডার্হ নরহত্যা/অপরাধজনক প্রাণহানি:

পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া, উত্তেজনা বসত, মেরে ফেলার ইচ্ছা ব্যতীত আঘাত করে কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে সেই মৃত্যুকে দন্ডার্হ নরহত্যা বা অপরাধজনক প্রাণহানি বলে।
৩০০খুন:

পূর্ব পরিকল্পিতভাবে, সুস্থ্য মস্তিস্কে, মেরে ফেলার ইচ্ছায় এমনভাবে আঘাত করেন যার দ্বারা মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে জেনে আঘাত করে মৃত্যু ঘটানোকে খুন বলে।
৩০১যে ব্যক্তি খুন করার ইচ্ছা ছিল ভুলবসত অন্য ব্যক্তিকে খুন করার সাজা।
৩০২কোন ব্যক্তিকে খুন করার সাজা।
৩০৩একবার খুন করে আবার খুন করার সাজা।
৩০৪অপরাধজনক প্রাণহানি বা দন্ডার্হ করার সাজা।
৩০৪-ককোন ব্যক্তি কর্তৃক অবহেলা করে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানোর সাজা।
৩০৪-খরাজপথে বেপরোয়া গাড়ী চালিয়ে কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানোর সাজা।
৩০৫কোন ব্যক্তি কর্তৃক শিশু বা পাগলকে আত্মহত্যায় সহায়তা করার সাজা।
৩০৬কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রাপ্ত বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে আত্মহত্যায় সহায়তা করার সাজা।
৩০৭কোন ব্যক্তিকে খুনের চেষ্টা করার সাজা।
৩০৯নিজে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করার সাজা।
৩১৯আঘাত:

কোন ব্যক্তি অপর কোন  ব্যক্তিকে শারিরীকভাবে যন্ত্রণা দিলে সেই ব্যক্তি আঘাত করেছে বলে গণ্য হবে।
৩২০গুরুতর আঘাত:

কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে নিম্ন বর্ণিতভাবে শারিরীকভাবে যন্ত্রণা দিলে সে ব্যক্তি গুরুতর আঘাত করেছে বলে গণ্য হবে।

১। পুরুষত্বহীনকরণ

২। স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টিশক্তি রহিতকরন

৩। স্থায়ীভাবে কানের শ্রবণশক্তি রহিতকরণ

৪। শরীরের যে কোন অঙ্গ হানিকরণ

৫। যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী কর্মশক্তি হানিকরণ

৬। মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতিকরণ

৭। হাড় বা দাঁত ভঙ্গকরণ

৮। এমন আঘাত যাহা ২০ দিন পর্যন্ত তীব্র দৈহিক যন্ত্রনা দেয়
৩২৩কোন ব্যক্তিকে হাত দ্বারা বা ভোতা অস্ত্র দ্বারা সাধারণ আঘাত করার সাজা।
৩২৪কোন ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা সাধারণ আঘাত করার সাজা।
৩২৫কোন ব্যক্তিকে হাত দ্বারা বা ভোতা অস্ত্র দ্বারা গুরুতর আঘাত করার সাজা।
৩২৬কোন ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা গুরুতর আঘাত করার সাজা।
৩২৬-ককোন ব্যক্তির চোখ উপড়ে ফেলার সাজা।
৩২৮কোন ব্যক্তিকে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে আঘাত করার সাজা অর্থাৎ  মলম পার্টির সাজা।
৩৩০পুলিশ হেফাজতে আসামীকে সাধারণ আঘাত করার সাজা।
৩৩১পুলিশ হেফাজতে আসামীকে গুরুতর আঘাত করার সাজা।
৩৩২আইনানুগ কার্য সম্পাদনকালে জনগণ কর্তৃক সরকারি কর্মচারীকে সাধারণ আঘাত করার সাজা।
৩৩৩আইনানুগ কার্য সম্পাদনকালে জনগণ কর্তৃক সরকারিকে গুরুতর আঘাত করার সাজা।
৩৩৮-করাজপথে বেপরোয়াভাবে গাড়ী চালিয়ে কোন ব্যক্তিকে আঘাত করার সাজা।
৩৪২কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ০২ (দুই) দিন পর্যন্ত আটক রাখার সাজা।
৩৪৩কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ০৩ (তিন) দিন হতে ০৯ (নয়) দিন পর্যন্ত আটক রাখার সাজা।
৩৪৪কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ১০ (দশ) হতে ততোধিক দিন পর্যন্ত আটক রাখার সাজা।
৩৪৯বলপ্রয়োগ:

কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির গতি পরিবর্তন করে দিলে সেই ব্যক্তি বলপ্রয়োগ করেছে বলে গণ্য হবে।
৩৫০অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:

কোন  ব্যক্তি অবৈধভাবে বা অন্যায়ভাবে অপর কোন ব্যক্তির গতি পরিবর্তন করে দিলে সেই ব্যক্তি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করেছে বলে গণ্য হবে।
৩৫১আক্রমণ:

কোন ব্যক্তি জেনে বুঝে এমন অঙ্গ-ভঙ্গি করেন যার দ্বারা অপর কোন ব্যক্তির মনে ভীতির সঞ্চার করে এমন কার্য করাকে আক্রমণ বলে।
৩৫৪নারীর শালীনতা নষ্ট করার অভিপ্রায়ে আক্রমণ করার সাজা।
৩৫৯লোক অপহরণ:

কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে প্ররোচনা দিয়ে বা প্রতারণা করে অন্যায়ভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করাকে ব্যক্তি অপহরণ বলে।
৩৬২ব্যক্তি অপহরণ:

কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে প্ররোচনা দিয়ে বা প্রতারণা করে অন্যায়ভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করাকে ব্যক্তি অপহরণ বলে।
৩৬৩লোক বা ব্যক্তি অপহরণ করার সাজা
৩৬৪খুন করার উদ্দেশ্যে লোক বা ব্যক্তি অপহরণ করার সাজা্
৩৭৫ধর্ষণঃ

কোন ব্যক্তি নিম্ন বর্ণিতভাবে কোন স্ত্রী লোকের সহিত যৌন সঙ্গম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে গণ্য হবে।

১। স্ত্রী লোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

২। স্ত্রী লোকটির সম্মতি ব্যতীত।

৩। স্ত্রী লোকটির সম্মতিসহ যে ক্ষেত্রে ভয় দেখিয়ে সম্মতি নেওয়া হয়েছে।

৪। স্ত্রী লোকটির সম্মতিক্রমে যে ক্ষেত্রে পুরুষটি জানে সে তার স্ত্রী না আর স্ত্রী লোকটি জানে সে তার স্বামী।

৫। যে ক্ষেত্রে স্ত্রী লোকটির বয়স ১৪ বছরের কম।
৩৭৬ধর্ষণের সাজা

বর্তমানে না:শি:নি: ৯ ধারা প্রযোজ্য।
৩৭৮চুরি:

কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত অস্থাবর সম্পত্তি অসৎ উদ্দেশ্যে সম্মতি ব্যতীত একস্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করাকে চুরি বলে।
৩৭৯ঘরের বাহির হতে বা খোলা জায়গা হতে মালামাল চুরি করার সাজা।
৩৮০ঘর বা আবদ্ধ স্থান হতে মালামাল চুরি করার সাজা।
৩৮১কেরানী বা চাকর কর্তৃক মনিবের মালামাল চুরি করার সাজা।
৩৮২আঘাত করার প্রস্তুতি নিয়ে চুরি করার সাজা
৩৮৩বলপূ্র্বক সম্পত্তি গ্রহণ:

কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি প্রদান করতে বাধ্য করলে তাকে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় বা গ্রহণ বলে।
৩৮৫কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে সম্পত্তি প্রদানের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে উক্ত সম্পত্তি আদায় না হলে তার সাজা
৩৮৬কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে সম্পত্তি প্রদানের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে উক্ত সম্পত্তি আদায় হলে তার সাজা।
৩৯০দস্যুতা:

চুরিকালে বা চুরি করার সময় চোরের সদস্য কর্তৃক যদি কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয় বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় তবে এমন চুরিকে দস্যুতা বলে।
৩৯১ডাকাতি:

পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক অপর কোন ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে উক্ত ব্যক্তির অস্থাবর সম্পত্তি ছিনাইয়া নিলে বা হস্তান্তরে বাধ্য করলে তাকে ডাকাতি বলে।
৩৯২দস্যুতা করার সাজা
৩৯৪দস্যুতাকালে আঘাত করার সাজা।
৩৯৫ডাকাতি করার সাজা।
৩৯৬খুনসহ ডাকাতি করার সাজা
৩৯৯ডাকাতি করার প্রস্তুতির সাজা
৪০৩কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন কিছু কুড়িয়ে পাওয়ার পর সেই সম্পত্তি ফেরত না দেওয়া বা পুলিশের নিকট হস্তান্তর না করিয়া নিজে ভোগ বা তসরুপ করার সাজা।
৪০৪কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন মৃত ব্যক্তির সম্পদ কেড়ে নেওয়া বা তসরুপ করা বা নিজে ভোগ বা আত্মসাৎ করার সাজা।
৪০৮কেরানী বা চাকর কর্তৃক কোন সম্পত্তিতে ক্ষমতাবান দেখাশুনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে উক্ত সম্পত্তি নিজে ভোগ করা বা বিশ্বাস ভঙ্গ করার সাজা।
৪০৯ব্যাংকার, বণিক বা সরকারি কর্মচারী কর্তৃক কোন সম্পত্তিতে ক্ষমতাবান বা দেখাশুনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে উক্ত সম্পত্তি নিজে ভোগ করা বা বিশ্বাস ভঙ্গ করার সাজা।
৪১০চোরাইমাল:

যে সম্পত্তি দস্যুতা বা ডাকাতি বা চুরি বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বা অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে বা সন্দেহজনক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এমন সম্পত্তিকে চোরাইমাল বলে।

কাঃবিঃ ৫৫০ ধারা
৪১১কোন ব্যক্তি কর্তৃক চোরাইমাল নিজ হেফাজতে রাখার সাজা।
৪১২কোন ব্যক্তি কর্তৃক ডাকাতির মাল নিজ হেফাজতে রাখার সাজা।
৪১৩কোন ব্যক্তি কর্তৃক চোরাইমাল কেনা বেচা করার সাজা।
৪১৫প্রতারণাঃ

কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে কোনভাবে ফাঁকি দিয়া বা অসাধুভাবে কোন সম্পত্তি আদায় করলে সে ব্যক্তি প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হবে।
৪১৬অপরের রুপ ধারণপূর্বক প্রতারণা করা।
৪১৭কোন ব্যক্তি প্রতারণা করলে তার সাজা।
৪১৯অপরের রুপ ধারণপূর্বক প্রতারণা করার সাজা।
৪২০কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা ধার নিয়ে উক্ত টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতারণা করার সাজা।
৪২৫অনিষ্ট:

কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে বা অন্যায়ভাবে অপর কোন ব্যক্তির সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করলে সেই ব্যক্তি অনিষ্ট করেছে বলে গণ্য হবে।
৪২৬কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির অনিষ্ট সাধন করলে তার সাজা।
৪৩৬কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপর কোন ব্যক্তির ঘরে অগ্নিসংযোগ করার সাজা।
৪৪১
অনধিকার প্রবেশঃ
কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির দখলভূক্ত সম্পত্তিতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে সে ব্যক্তি অনাধিকার প্রবেশ করেছে বলে গণ্য হবে।
৪৪২
অনধিকার গৃহে প্রবেশঃ
কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপর কোন ব্যক্তির বসবাসের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত স্থানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে সেই ব্যক্তি অনাধিকার গৃহে প্রবেশ করেছে বলে গণ্য হবে।
৪৪৭কোন ব্যক্তি কর্তৃক খোলা কোন জায়গায় অনধিকার প্রবেশ করার সাজা।
৪৪৮কোন ব্যক্তি কর্তৃক আবদ্ধ কোন স্থানে বা গৃহে অনধিকার প্রবেশ করার সাজা।
৪৫৪কোন ব্যক্তি কর্তৃক চুরি করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির বসবাসের স্থানে বা ঘরে দিনের বেলায় প্রবেশ করা বা সিধেল কাটি করার সাজা।
৪৫৭কোন ব্যক্তি কর্তৃক আঘাত, আক্রমনের প্রস্তুতিসহ চুরির উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির বসবাসের স্থানে বা ঘরে রাত্রিবেলা প্রবেশ করা বা সিধেঁল কাটি করার সাজা।
৪৬০
কোন ব্যক্তি কর্তৃক চুরি করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির বসবাসের স্থানে বা ঘরে রাত্রিবেলা প্রবেশ করিয়া কাউকে গুরুতর আঘাত করা বা কারো মৃত্যু ঘটানোর সাজা।

৪৬১

দোকান ঘর চুরি করার সাজা।

৪৬৩

৪৬৬
জালিয়াতিঃ কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপর কোন ব্যক্তির অন্যায়ভাবে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা দলিল প্রস্তুত করা।

৪৬৫

জালিয়াতি করার সাজা।


0 comments: