ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898)

(১৮৯৮ সালের ৫নং আইন)

⇛ আইনের ধরনঃ                        পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law/ Adjective Law)

[ এই আইনে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে নিয়ম বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার কার্য পরিচালিত হবে তার উল্লেখ থাকে বিধায় একে পদ্ধতিগত আইন বলা হয়। ]

            ⇛ আইন নং                                        ⭆ ১৮৯৮ সালের ৫নং আইন।

            ⇛ সর্ব প্রথম প্রণয়ন                           ⭆ ১৮৬১ সালে।

            ⇛ সংস্কারপূর্বক গ্যাজেট প্রকাশ     ⭆ ২২ মার্চ, ১৯৮৯।

            ⇛ কার্যকর                                          ⭆ ১লা জুলাই, ১৮৯৮ সালে।

            ⇛ মোট ধারা                                      ⭆ ৫৬৫ টি। (বর্তমানে কার্যকরঃ ৪৭৩ টি)

            ⇛ অধ্যায়ঃ                                          ⭆ ৪৬ টি।

            ⇛ মোট তফসিলঃ                               ⭆ ৫ টি। (বাতিলঃ ১ম তফসিল; কার্যকরঃ ৪টি)

            ⇛ সর্বশেষ সংশোধনীঃ                      ⭆ ২০১২ সালে।


তফসিল সম্পর্কিত আলোচনাঃ

তফসিল (Schedule) : মোট তফসিলঃ ৫টি।

            তফসিল                     আলোচিত বিষয়সমূহ
    ➲ ১ম তফসিল           :           বাতিল। (১৯১৪ সালের ১০নং আইন দ্বারা।)

    ➲ ২য় তফসিল           :           অপরাধসমূহের বিবরণ।

    ➲ ৩য় তফসিল          :           ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতা।

    ➲ ৪র্থ তফসিল           :           ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা।

    ➲ ৫ম তফসিল          :           ফরমসমূহ।


২য় তফসিল (2nd Schedule): মোট কলামঃ ৮টি।

        কলাম             ⇔         বিষয়সমূহ
    ➵ ১ম কলাম          :           ধারা (দণ্ডবিধির)

    ➵ ২য় কলাম          :           অপরাধ

    ➵ ৩য় কলাম          :           পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবে কিনা
                                                 (অপরাধটি আমলযোগ্য বা আমলঅযোগ্য অপরাধ কিনা?)

    ➵ ৪র্থ কলাম          :           প্রথম পর্যায়ে সাধারণতঃ পরোয়ানা বা সমন প্রদত্ত হবে
                                                 (কিনা?)

    ➵ ৫ম কলাম          :           জামিনযোগ্য কিনা
                                                 (অপরাধ জামিনযোগ্য বা জামিনঅযোগ্য কিনা?)

    ➵ ৬ষ্ঠ কলাম          :           মীমাংসাযোগ্য কিনা
                                                 (অপরাধ আপোসযোগ্য বা মীমাংসাযোগ্য কিনা?)

    ➵ ৭তম কলাম          :           দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তি

    ➵ ৮ম কলাম          :           কোন আদালতে বিচার্য
                                                 (অপরাধটি যে আদালতে বিচাযোগ্য)


ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা

ধারা ৪(১) : সংজ্ঞাসমূহ
(ক) এডভোকেটঃ বলবৎ আইন অনুযায়ী এরূপ যেকোন আদালতে আইন ব্যবসা করতে ক্ষমতাবান এডভোকেট এবং এরূপ কার্যক্রমে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে নিযুক্ত অন্য যেকোন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত বুঝাবে।

(খ) জামিনযোগ্য অপরাধঃ সেই সমস্ত অপরাধ যা দ্বিতীয় তফসিলে জামিনযোগ্য বলে দেখানো হয়েছে অতবা যা বর্তমানে বলবৎ কোন আইন দ্বারা জামিনযোগ্য করা হয়েছে এবং ‘জামিনের অযোগ্য অপরাধ’ বলতে অন্য যেকোন অপরাধ বুঝাবে।

(ট) ইনকোয়ারি বা অনুসন্ধানঃ অত্র আইন অনুসারে কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত কর্তৃক পরিচালিত বিচার ব্যতীত যাবতীয় ইনকোয়ারিকে বুঝাবে।

(ঠ) তদন্তঃ সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কোন পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অপর কোন ব্যক্তি (ম্যাজিস্ট্রেট নহে) কর্তৃক পরিচালিত সমস্ত কার্যক্রম।

(চ) ‘আমলযোগ্য অপরাধ’ ও ‘আমলযোগ্য মামলা’: সেই সকল অপরাধ ও মামলাকে বুঝায়, যা ফৌজদারী কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে অথবা বর্তমানে বলবৎ যেকোন আইন অনুযায়ী কোন পুলিশ অফিসার বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারেন।

(জ) নালিশ (Complaint): জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়েরকৃত অভিযোগ।

(ঢ) ‘আমলের অযোগ্য অপরাধ’ ও ‘আমলের অযোগ্য মামলা’: সেই সকল অপরাধ ও মামলা যে সকল ক্ষেত্রে পুলিশ অফিসার পরোয়ানা ব্যতীত গ্রেফতার করতে পারেন না।

(ণ) অপরাধঃ সেই সকল কার্য যা বর্তমানে বলবৎ কোন আইনে শাস্তিযোগ্য।

(ন) সরকারি আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর): অত্র আইনের ৪৯২ ধারা অনুযায়ী নিযুক্ত যেকোন ব্যক্তি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের নির্দেশক্রমে কার্যরত ব্যক্তি ইহার অন্তর্ভুক্ত হবে।

 

0 comments: