তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act,1908)
(১৯০৮ সালের ৯নং আইন)
সম্পূর্ণ তামাদি আইনটি মোট ৫ (পাঁচ) টি অংশে বিভক্ত। যথাঃ
অংশ বিষয়
➼ Part I ⥤ প্রাথমিক বিষয় (Preliminary) [ধারা ১-২]
➼ Part II ⥤ মামলা, আপীল ও দরখাস্তের তামাদি (Limitation of Suits, Appeals and Applications) [ধারা ৩-১১]
➼ Part III ⥤ তামাদির সময় হিসাব (Computation of Period of Limitation) [ধারা ১২-২৫]
➼ Part IV ⥤ দখলবলে মালিকানা স্বত্ব লাভ (Acquisition of Ownership by Possession) [ধারা ২৬-২৮]
➼ Part V ⥤ সংরক্ষণ ও রহিত (Savings and Repeals) [ধারা ২৯]
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ভিত্তিক আলোচনাঃ
Part I ➼ প্রাথমিক বিষয় (Preliminary)
[ধারা ১-২]
ধারা ১ ⇛ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, কার্যকারিতার সীমা ও প্রবর্তন (Short title, extent and commencement)
- এই আইন ১৯০৮ সালের তামাদি আইন নামে অভিহিত হবে।
- সমগ্র বাংলাদেশে ইহা প্রযোজ্য হবে।
- অত্র ধারা ও ৩১ ধারা অবিলম্বে বলবৎ হবে। এই আইনের অবশিষ্টাংশ ১৯০৯ সালের পহেলা জানুয়ারি হতে বলবৎ হবে।
ধারা ২ ⇛ সংজ্ঞাসমূহ (Definitions)
এই ধারায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সংজ্ঞা রয়েছে। যথাঃ
- ধারা ২(১) : দরখাস্তকারী (Applicant)
- ধারা ২(২) : বিনিময় পত্র (Bill of exchange)
- ধারা ২(৩) : মুচলেকা (Bond)
- ধারা ২(৪) : বিবাদী (Defendant)
- ধারা ২(৫) : ব্যবহারস্বত্ব (Easement)
- ধারা ২(৭) : সরল বিশ্বাস (Good faith)
- ধারা ২(৬) : বিদেশ (Foreign country)
- ধারা ২(৮) : বাদী (Plaintiff)
- ধারা ২(৯) : অঙ্গীকার পত্র (Promissory note)
- ধারা ২(১০) : মামলা (Suit)
- ধারা ২(১১) : অছি (Trustee)
Part II ➼ মামলা, আপীল ও দরখাস্তের তামাদি
(Limitation of Suits, Appeals and Applications)
[ধারা ৩-১১]
ধারা ৩ ⇛ তামাদির মেয়াদ অন্তে দায়েরকৃত মামলা ইত্যাদিঃ খারিজ (Dismissal)
অত্র ধারা অনুযায়ী তামাদির বিষয়বস্তু ৩টি। যথাঃ
- মামলা (Suit)
- আপীল (Appeal)
- আবেদনপত্র (Application)।
বিঃ দ্রঃ এই ধারার বিধান আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
ধারা ৪ ⇛ আদালত বন্ধ থাকিলে তখনকার কার্য পদ্ধতি
আদালত বন্ধ থাকাবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ঃ
সেক্ষেত্রে আদালত পুনরায় খোলার দিন উক্ত মামলা, আপীল বা আবেদনপত্র রুজু (দাখিল) করা যাবে।
ধারা ৫ ⇛ ক্ষেত্রবিশেষে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধিকরণ
⇒পাঁচ (০৫) টি ক্ষেত্রে ৫ ধারা প্রযোজ্যঃ
ক) আপীল (Appeal)
খ) আপীল করার অনুমতি (Leave to Appeal)
গ) রিভিউ (Review)
ঘ) রিভিশন (Revision)
ঙ) অন্য কোন আইনের দরখাস্তে, যেখানে তামাদি আইনের ৫ ধারা প্রযোজ্য।
শর্তঃ আদালত কে সন্তুষ্ট করতে হবে যে, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আপীল, রিভিউ, রিভিশন বা দরখাস্ত দাখিল না করার যথেষ্ট কারণ ছিল। যথেষ্ট কারন বলতে অসুস্থতা, সরল বিশ্বাসে ভুল, দারিদ্রতা, কৌসুলির ভুল ও আদালতের সংঘাত পূর্ণ সিদ্ধান্ত কে বুঝাবে।
⇒ যে সকল ক্ষেত্রে ৫ ধারা প্রযোজ্য নয়ঃ
দেওয়ানি মূল মোকদ্দমার ক্ষেত্রে (যেমনঃ স্বত্ত্ব ঘোষনা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চুক্তির সুনির্দিষ্ট প্রতিপালন ইত্যাদি।)
বিঃ দ্রঃ ধারা ৫ আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা।
ধারা ৬ ⇛ বৈধ অপারগতা/ আইনগত অপারগতা (Legal disability)
আইনগত (বৈধ) অপারগতার বিষয় ৩ টি। যথাঃ
ক) নাবালক (Minor)
খ) উন্মাদ (Insane) এবং
গ) জড়বুদ্ধ বা চরম বুদ্ধিহীনতা (An idiot)।
বিঃ দ্রঃ যদি মামলা করার অধিকারী সময়ে এরকম (উপর্যুক্ত তিনটি) অপারগতায় পতিত হয় তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে এরকম অপারগতার অবসান হলে।
⮊ তামাদির মেয়াদঃ আইনগত অপারগতার অবসানের পর থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী ৩ বছর পর্যন্ত।
⮊ ক্ষেত্রে প্রযােজ্যঃ নিম্নোক্ত দুই (০২) টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্যঃ
- মূল মামলা
- ডিক্রি জারির আবেদনের জন্য প্রযোজ্য।
ধারা ৭ ⇛ কতিপয় বাদী অথবা দরখাস্তকারীর একজনের অপারগতা (Disability of one of several plaintiffs or applicants)
- যৌথভাবে অধিকারী কয়েক ব্যক্তির একজন যদি অপারোগ হয় এবং ঐ একজনকে বাদ দিয়ে যদি দায়িত্ব সম্পাদনের সুযোগ থাকে তবে তামাদির মেয়াদ চলমান থাকবে।
- যেক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পাদনের মত কেহই থাকবে না সেক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ স্থগিত থাকবে।
ধারা ৮ ⇛ বিশেষ ব্যতিক্রম (Special exceptions)
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আইনগত অপারগতায় তামাদি স্থগিত থাকবেনা। অর্থ্যাৎ ধারা ৬ অথবা ধারা ৭ এর কোন কিছুই প্রযোজ্য নয়।
• অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায়
• আইনগত অপারগতা শেষ হওয়ার পর ৩ বছরের বেশি সময় তামাদি থাকবেনা। অর্থ্যাৎ অপারগতা শেষ হওয়ার ৩ বছর পর মামলা দায়ের করলে তা খারিজ হয়ে যাবে।
ধারা ৯ ⇛ সময়ের অভিরাম চলমান (Continuous running of time)
একবার তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করলে পরবর্তী কোন অপারগতায় বা অক্ষমতায় তা বন্ধ হবে না।
উদাহরণঃ আপীল করার সময় শুরু হওয়ার পর তিনি পাগল হয়ে গেলেন। তারপরও তাহার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আপীল করতে হবে।
ব্যতিক্রমঃ যেক্ষেত্রে পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদারের উপর।
ধারা ১০ ⇛ প্রকাশ্য অছি এবং তাহাদের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা (Suits against express trustees and their representatives)
ট্রাষ্টি এবং তাদের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে যেকোন সময় মামলা করা যায়।
ট্রাষ্ট বা তার প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করতে হলে তা কখনাে তামাদি দ্বারা বারিত হবে না।
অর্থ্যাৎ যার উপর ট্রাষ্ট সম্পত্তি পরিচালনার ভার অর্পণ করা হয় এবং সে যদি তার অপব্যবহার করে বা আত্মসাৎ করে, তার বিরুদ্ধে যেকোন সময় মামলা করা যায়। এক্ষেত্রে কোন তামাদি সময় থাকবে না।
ধারা ১১ ⇛ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলা (Suits on foreign contracts)
- ধারা ১১(১) ⮚ বিদেশে সম্পন্ন চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলো অত্র আইনে বিধৃত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।
- ধারা ১১(২) ⮚ ধারা ১১(১) এর অধীন দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশী কোন আইনের তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাবস্বরূপ গ্রাহ্য হবে না।
ব্যতিক্রমঃ চুক্তির পরিসমাপ্তি এবং নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে।
Part III ➼ তামাদির সময় হিসাব
(Computation of Period of Limitation)
[ধারা ১২-২৫]
ধারা ১২ ⇛ আইনগত কার্যধারায় যে পরিমাণ সময় গণনা থেকে বাদ দিতে হবে
- ধারা ১২(১) : মোকদ্দমার কারণ উদ্ভবের দিন।
- ধারা ১২(২) : রায় বা আদেশ ঘোষনার দিন।
- ধারা ১২(৩) : রায়ের নকল সংগ্রহের দিন।
- ধারা ১২(৪) : রোয়েদাদ (Award) এর নকল সংগ্রহের দিন।
বিঃ দ্রঃ ধারা ১২ এর ক্ষেত্র চার (০৪) টি। এবং অত্র ধারা অনুযায়ী তামাদি মেয়াদ গণনা হতে বাদ দেওয়া আদালতের বাধ্যতামূলক ক্ষমতা।
- রোয়েদাদ (Award): সালিশের সিদ্ধান্ত।
- আদেশ বা ডিক্রিঃ দেওয়ানী আদালতের সিদ্ধান্ত।
ধারা ১৩ ⇛ বিবাদীর ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনাঃ
বাংলাদেশ এবং অন্যান্য কয়েকটি এলাকা হতে বিবাদীর অনুপস্থিতকালীণ (defendants absence) সময় গণনা হতে বাদ (exclusion) দিতে হবে।
বিঃ দ্রঃ অত্র ধারাটি শুধুমাত্র বিবাদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সংজ্ঞাঃ
- বিবাদী (Defendant) [২(৪)] : যে ব্যক্তির নিকট হতে বা যার মাধ্যমে বিবাদী তাহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার দায়-দ্বায়িত্ব লাভ করে।
- বিদেশ (Foreign country) [(ধারা ২(৬)] : বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য যেকোন দেশ বুঝায়।
ধারা ১৪ ⇛ এখতিয়ারবিহীন আদালতে সদুদ্দেশ্যমূলক কার্যধারায় (bonafide proceeding) যেই সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবেঃ
শর্ত দুই (০২) টিঃ
- এখতিয়ারবিহীন আদালতে মূল মামলা বা আপীল দায়ের করা হয়েছে।
- এবং উপরিউক্ত ভুলটি সরল বিশ্বাসে (Good faith) হতে হবে।
সংজ্ঞাঃ
সরল বিশ্বাস (Good faith) [ধারা ২(৭)] : যদি যথাবিহীত যত্ন ও মনোযোগ সহকারে কোন কাজ না করা হয়।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রঃ ধারা ১৪ এর বিষয়বস্তু দুই (০২) টি। যথাঃ
ধারা ১৪(১) : মূল মামলা এবং
ধারা ১৪(২) : আবেদন (আপীল) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
বিঃ দ্রঃ ধারা ১৪ আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
ধারা ১৫ ⇛ কার্যক্রম স্থগিত (Proceedings are suspended) থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হবে
কোন আদালত কর্তৃক কোন কার্যধারা স্থগিত রাখা হলে উক্ত দিনগুলাে তামাদির মেয়াদ গণনায় বাদ দিতে হবে।
ধারা ১৬ ⇛ ডিক্রজারীতে বিক্রয় রদ করিবার কার্যদ্বারা মুলতবী থাকাকালীন যে পরিমান সময় বাদ দিতে হইবে
ধারা ১৭ ⇛ মামলা করিবার অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যু র ফলাফল
ধারা ১৮ ⇛ প্রতারনার ফলাফল
ধারা ১৯ ⇛ লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার
ধারা ২০ ⇛ উত্তর দায় সংক্রান্ত ঋণ পরিশোধের অথবা সুদ প্রদানের ফলাফল (Effect of payment on account of debt as of interest on legacy)
বন্ধকী জমির ফসল প্রাপ্তির রসিদের ফলাফলঃ যেই ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি দেনা পরিশোধের জন্য নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বেই দেনা পরিশোধ করে তাহলে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
ধারা ২১ ⇛ অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি (Agent of person under disability)
যথাবিহিতরূপে ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি’ বলতে অপারগতাগ্রস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রেঃ
- আইন সম্মত অভিভাবক;
- কমিটি বা ম্যানেজারকে; অথবা
- অনুরূপ অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক স্বীকৃতি স্বাক্ষর করিবার বা অর্থ প্রদান করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বুঝাবে।
ধারা ২২ ⇛ নতুন বাদী বা বিবাদীকে (plaintiff or defendant) কাহারও স্থলাভিষিক্ত ৰা পক্ষভুক্ত ( substituting or adding) করার ফলাফল
মামলা দায়ের করার পর নতুন কোন বাদী বা বিবাদীকে কারাের স্থলাভিষিক্ত (Substituted) বা পক্ষভুক্ত (Added) করা হলে, যে বাদী বা বিবাদী যে তারিখে পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
ধারা ২৩ ⇛ অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা
ফলাফলঃ চুক্তিভঙ্গের প্রতি মুহুর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ গননা শুরু হতে থাকে।
ধারা ২৫ ⇛ দলিলের উল্লিখিত সময়ের গণনা (Computation of time mentioned in instruments)
যাবতীয় দলিল গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian Calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
Part IV ➼ দখলবলে মালিকানা স্বত্ব লাভ
(Acquisition of Ownership by Possession)
[ধারা ২৬-২৮]
ধারা ২৬ ⇛ সুখাধিকারসমূহ অর্জন (Acquisition of right to easements)
➺ সুখাধিকার (Acquisition):
যে অধিকার অর্জনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির জমি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
➺ সুখাধিকার অর্জনের পদ্ধতিঃ দুই (০২) ভাবে সুখাধিকার অর্জন করা যায়। যথাঃ
ক) দীর্ঘকালীন ভোগদখল (Prescription)
খ) সুখাধিকার অর্জন (Easement): সরকারী সম্পত্তিতে ৬০ বছর এবং বেসরকারী সম্পত্তিতে ২০ বছর
➺ স্বত্ব দাবি করে মামলাঃ সুখাধিকার মামলা করতে হলে ২০ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়।
ধারা ২৮ ⇛ সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি (Extinguishment of right to property):
স্বত্ব বিলুপ্তি/ জবর দখল/ বিরুদ্ধ দখল (Adverse Possession):
১২ (বার) বৎসর দখলে থাকলে স্থাবর সম্পত্তিতে মালিকানাসত্ব লাভ।
অত্র ধারার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকণিকাঃ
- জবর দখল/ বিরুদ্ধ দখল প্রকাশ্যে, পূর্ণ, বাদীর অবগতিতে হতে হবে।
- ১২ বছর পরে উক্ত দখলকারীর দখল চূড়ান্ত স্বত্বে পরিনত হয়। [ অনুচ্ছেদ ১১৪; তামাদি আইন, ১৯০৮ ]
- তামাদির কারণে প্রতিকার নষ্ট হয়, অধিকার নয়।
- তামাদি আইন কেবলমাত্র অধিকার ধ্বংস করে না, পরোক্ষভাবে অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে।
Part V ➼ সংরক্ষণ ও রহিত (Savings and Repeals)
[ধারা ২৯]
ধারা ২৯ ⇛ সংরক্ষণ ও বাতিল (Saving and Repeals)
নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য হয় নাঃ
- ধারা ২৯(১) : চুক্তি আইন, ১৮৭২ (১৮৭২ সালের ৯নং আইন) এর ২৫ ধারা।
- ধারা ২৯(২) : তামাদি আইনের ৫ ধারা বিশেষ আইনে উল্লেখিত তামাদির জন্য প্রযােজ্য না।
- ধারা ২৯(৩) : বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৬৯ (১৯৬৯ সালের ৪নং আইন)।
- ধারা ২৯(৪) : সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ এর ২, ২৬ এবং ২৭ ধারা।
এছাড়া,
⇛ তামাদি আইন মূল ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে ফৌজদারী আপীলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
⇛ তামাদি আইনের ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে না অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩, বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং বিশেষ আইনের তামাদির মেয়াদের ক্ষেত্রে।
তামাদি আইনের তফসিলসমূহ
(Schedule of Limitations Act 1908)
- মোট তফসিল (Schedule): ৩ টি
- তন্মধ্যে বাতিলঃ ২য় ও ৩য় তফসিল
- বর্তমানে বলবৎ আছেঃ শুধুমাত্র ১টি ; ১ম তফসিল
- ১ম তফসিলে মোট অনুচ্ছেদঃ ১৮৩ টি
প্রথম তফসিল (The First Schedule)
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরণে বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। যথাঃ
- ১ম বিভাগ (First Division) ⇛ মোকদ্দমা (Suits) দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filling Suits) [ অনুচ্ছেদঃ ১ - ১৪৯ ]
- ২য় বিভাগ (Second Division) ⇛ আপীল (Appeals) দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filling Appeals) [ অনুচ্ছেদঃ ১৫০ - ১৫৭ ]
- ৩য় বিভাগ (Third Division) ⇛ বিভিন্ন দরখাস্ত (Petitions) দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filling Applications and Petitions) [ অনুচ্ছেদঃ ৫৮ - ১৮৩ ]
0 comments: