Articles by "তামাদি আইন"
তামাদি আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

সুখাধিকার (Acquisition):

যে অধিকার অর্জনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যকোন ব্যক্তির জমি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।


উপধারা ১ :

যেই ক্ষেত্রে কোনো দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বত্‍সর যাবত্‍ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হইয়াছে এবং যেইক্ষেত্রে কোনো পথ বা জলস্রোত অথবা কোনো পানির ব্যবহার অথবা অন্য যেই কোনো সুখাধিকার (ইতিবাচক, নেতিবাচক যাহাই হউক না কেন) কোনো ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকারহিসাবে উহাতে স্বত্ব দাবি করিয়া অব্যাহতভাবে এবং বিশ বত্‍সর যাবত্‍ শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে, সেই ক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোনো সুখাধিকার নিরষ্কুশ ও অলংঘনীয় অধিকারে পরিণত হইবে।


Acquisition


    যদি কোনো মামলায় উক্তরূপ কোনো অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সেই মামলায় উক্তউভয় ক্ষেত্রেই বিশ বত্‍সর বলিতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহতি পূর্ববর্তী দুই বত্‍সরেরমধ্যে সমাপ্ত বিশ বত্‍সর বুঝাইবে।


উপধারা ২ :

যেই সম্পত্তির উপর উপধারা ১ অনুসারে অধিকার দাবি করা হয়, তাহা যদি সরকারের সম্পত্তি হয়, তবে উক্ত উপধারায় ‘বিশ বত্‍সর’ কথাগুলির স্থলে ‘ষাট বত্‍সর’ কথাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।


ব্যাখ্যাঃ

অত্র ধারার অর্থানুসারে কোনো কিছুই ব্যাহত হইবে না যদি দাবিদার ব্যতীত অন্য কোনোলোকের কার্য দ্বারা বাধার ফলে দখল বা ভোগ প্রকৃত বিরতি না হয় এবং যদি উক্ত বাধা মানিয়া না লওয়া হয় অথবা উহাতে মৌন সম্মতি প্রকাশ না করা হয় এবং তাহা দাবিদারের গোচরীভুত হইবার পর এক বত্‍সর অতিবাহিত হয়।


সুখাধিকারসমূহ অর্জন (Acquisition of right to easements):

দুই (০২) ভাবে সুখাধিকার অর্জন করা যায়। যথাঃ

ক) দীর্ঘকালীন ভোগদখল (Prescription)

খ) সুখাধিকার অর্জন (Easement): সরকারী সম্পত্তিতে ৬০ বছর এবং বেসরকারী সম্পত্তিতে ২০ বছর।


বিঃ দ্রঃ সুখাধিকার মামলা করতে হলে ২০ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়।

তথ্যসূত্রঃ তামাদি আইন, ১৯০৮

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act,1908)
(১৯০৮ সালের ৯নং আইন)

তথ্যকণিকা
⇛ তামাদি                                             ⤇ আরবী শব্দ (অর্থঃ বিলুপ্ত/ অচল)
⇛ তামাদি আইনের প্রবক্তা                      ⤇ লর্ড কর্নওয়ালিশ 
⇛ উপমহাদেশে প্রথম প্রণীত হয়               ⤇ ১৭৯৬ সালে
⇛ সর্বপ্রথম বিধিবদ্ধ হয়                         ⤇ ১৮৫৯ সালে
⇛ প্রথম তামাদি আইন কার্যকর হয়         ⤇ ১৮৬২ সালে
⇛ বর্তমান আইনটি প্রনয়ণ (পাশ) হয়      ⤇ ৭ আগস্ট, ১৯০৮ সালে
⇛ বর্তমান আইনটি কার্যকর                   ⤇ ১ জানুয়ারী, ১৯০৯ সালে
⇛ আইন নং                                         ⤇ ১৯০৮ সালের ৯নং আইন
⇛ ধারা                                               ⤇ ২৯ টি (৩ টি বাতিল, বাতিলসহ ৩২ টি)
⇛ তফসিল                                           ⤇ ৩ টি (বলবত ১ টিঃ ১ম তফসিল; বিলুপ্ত ২টিঃ ২য় ও ৩য় তফসিল)
⇛ অনুচ্ছেদ                                          ⤇ ১৮৩ টি [ ১ম তফসিল ]
⇛ আইনের ধরন                                  ⤇ পদ্ধতিগত (Adjective/ Procedural Law)
⇛ সর্বশেষ সংশোধন হয়                        ⤇ ২০০৪ সালে (১১৩ ও ১১৪ অনুচ্ছেদ)

[ বিঃ দ্রঃ তামাদি আইন দেওয়ানি মোকদ্দমায় প্রযোজ্য। ফৌজদারী মামলায় শুধুমাত্র আপীল, রিভিউ, রিভিশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।]

Limitation Act


সম্পূর্ণ তামাদি আইনটি মোট ৫ (পাঁচ) টি অংশে বিভক্ত। যথাঃ
            অংশ                                                       বিষয়
➼ Part I            ⥤    প্রাথমিক বিষয় (Preliminary) [ধারা ১-২]
➼ Part II          ⥤    মামলা, আপীল ও দরখাস্তের তামাদি (Limitation of Suits, Appeals and Applications) [ধারা ৩-১১]
➼ Part III         ⥤    তামাদির সময় হিসাব (Computation of Period of Limitation) [ধারা ১২-২৫]
➼ Part IV         ⥤    দখলবলে মালিকানা স্বত্ব লাভ (Acquisition of Ownership by Possession) [ধারা ২৬-২৮]
➼ Part V          ⥤    সংরক্ষণ ও রহিত (Savings and Repeals) [ধারা ২৯]

⏩ তামাদি বলতে বুঝায় ➲ নির্ধারিত সময় অতিক্রম করা

⏩ তামাদি আইনের বিধান সমূহ প্রযোজ্য নয় ➲ ফৌজদারী মামলায়

⏩ ফৌজদারি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির সময় ➲ অনির্ধারিত

⏩ তামাদির অজুহাত কার বিরুদ্ধে উত্থাপন করা হয় ➲ বাদীর বিরুদ্ধে

⏩ কত সালে তামাদি আইন সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হয় ➲ ১৮৫৯ সালে

⏩ তামাদি আইনের উদ্দেশ্যঃ
  • অধিকার প্রয়োগের মেয়াদ নির্ধারণ করা
  • নির্ধারিত মেয়াদের পর প্রতিকার বিনাশ করা
  • ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা
⏩ তামাদি আইনের উদ্দেশ্য নয় ➲ নির্ধারিত মেয়াদের পর অধিকার বিনাশ করা

⏩ ৩ ধারার বিষয়বস্তুঃঃ তিন (০৩) টি। যথাঃ
  1. মামলা (Suit)
  2. আপিল (Appeal)
  3. দরখাস্ত (Application)

⏩ তামাদি মওকুফ হয় না ➲ স্বত্ব ঘোষণার মোকদ্দমায় (মূল মোকদ্দমায়)

⏩  ৫ ধারার বিষয়বস্তুঃ পাঁচ (০৫) টি। যথাঃ
  1. আপীল (Appeal) এর আবেদন
  2. আপীল করার অনুমতি (Leave to Appeal)' র দরখাস্ত
  3. রিভিউ (Review) এর আবেদন
  4. রিভিশন (Revision) এর আবেদন
  5. অন্যকোন আবেদন (Any other application)।

⏩ ৫ ধারা মূল মোকদ্দমা (Suit)'র  [ যেমনঃ স্বত্ব ঘোষণা, দলিল বাতিল ইত্যাদি ] ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

⏩ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ক্ষেত্রে ৫ ধারা প্রযোজ্য নয়। 

⏩ ৫ ধারার দরখাস্ত মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা

⏩ আইনগত (বৈধ) অপারগতা আলোচনা করা হয়েছে ➲ (৬-৯) ধারায়

⏩ আইনগত অপারগতার বিষয়বস্তু ➲ তিন (০৩) টি। যথাঃ নাবালক, উন্মাদ এবং জড়বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি (তামাদি আইনের ৬ ধারায় সুবিধা ভোগি)

⏩ মামলা দায়েরের জন্য একজন নাবালক নির্ধারিত তামাদির অতিরিক্ত সময় পায় ➲ ৩ বছর

⏩ অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎকরণে প্রযোজ্য নয় ➲ ৬ ও ৭ ধারা

⏩ ৬ ও ৭ ধারার ব্যতিক্রম ➲ ৮ ধারা

⏩ বিশেষ ব্যতিক্রম সম্পর্কিত তামাদি আইনের ধারা ৮ ধারা

⏩ ট্র্যাস্টীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমার তামাদি মেয়াদ নেই ➲ ধারা ১০

⏩ তামাদি মেয়াদ গণনা সংশ্লিষ্ট ধারা ➲ (১২-২৫) ধারা

⏩ কার্যধারা স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ যাবে ➲ ধারা ১৫

সম্পত্তিতে সুখাধিকার অর্জনঃ
  • বেসরকারি সম্পত্তিতে ➲ ২০ বছর
  • সরকারি সম্পত্তিতে ➲ ৬০ বছর
⏩ চুক্তি থেকে উদ্ভূত অধিকার নয় ➲ সুখাধিকার (Easement Right)


তামাদি আইনের তফসিল (Schedule of Limitations Act 1908) সংক্রান্ত তথ্যকণিকা

⏩ মোট তফসিল (Schedule): ৩ টি

⏩ তন্মধ্যে বাতিলঃ ২য় ও ৩য় তফসিল

⏩ বর্তমানে বলবৎ আছেঃ শুধুমাত্র ১টি ; ১ম তফসিল

⏩ ১ম তফসিলে মোট অনুচ্ছেদঃ ১৮৩ টি

সর্বোচ্চ তামাদি মেয়াদঃ ৬০ বছর ( অনুচ্ছেদঃ ১৪৭ - ১৪৯; বন্ধক ইত্যাদি মামলা )

সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদঃ ৭ দিন ( অনুচ্ছেদঃ ১৫০; মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল)
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

আইনের প্রকৃতিঃ

মনে রাখুনঃ দসুঃ মূল আইন | অন্যান্য আইনঃ পদ্ধতিগত আইন বা উভয়
দঃ দন্ডবিধি, ১৮৬০
সুঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আই্ন, ১৮৭৭


কোনটি কত নং আইন?

মনে রাখুনঃ সাসু- ১ | ফৌদে- ৫ | তাদবা- ৯,৪৫,৪৬
সাসুঃ ১নং আইন
সাঃ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
সুঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আই্ন, ১৮৭৭

ফৌদেঃ ৫নং আইন
ফৌঃ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮
দেঃ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮

তাদবা- ৯,৪৫,৪৬নং আইন
তাঃ তামাদি আইন, ১৯০৮ : ৯নং আইন
দঃ দন্ডবিধি, ১৮৬০ : ৪৫নং আইন
বাঃ বার কাউন্সিল, ১৯৭২ : ৪৬নং আইন
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
তামাদি আইন, ১৯০৮

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর তামাদি সময় সংক্রান্ত তথ্যাদি

❖ মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলঃ ৭ দিন

✰ জেলা জজ আদালতে আপীলঃ ৩০ দিন
✰ দায়রা আদালতে আপীলঃ ৩০ দিন
✰ একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ লাভের জন্য বিবাদীর দরখাস্তঃ ৩০ দিন

➳ হাইকোর্টে ফৌজদারী আপীলঃ ৬০ দিন
➳ দন্ডবৃদ্ধির জন্য আপীলঃ ৬০ দিন
➳ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলঃ ৬০ দিন

➤ হাইকোর্টে দেওয়ানী আপীলঃ ৯০ দিন
➤ বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপীলঃ ৯০ দিন
➤ মৃত বাদী বা বিবাদীকে পক্ষভুক্ত করার সময়সীমাঃ ৯০ দিন

✓ দখল পুনরুদ্ধারঃ ৬ মাস
✓ খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীলঃ ৬ মাস

» স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারঃ ১২বছর
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
প্রশ্নঃ তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধিকরণ বা বিলম্ব মওকুফ কাকে বলে? ধারা ৫ কি মূল মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? যুক্তি দাও। কোন ব্যক্তি কি ৫ ধারা অধিকার হিসাবে দাবী করতে পারে? কোন কোন কারণগুলি বিলম্ব মৌকুফের কারণ বলে গন্য করা যায়?

উত্তরঃ
বিলম্ব মৌকুফ:
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারায় বর্ণিত বিলম্ব মৌকুফের বিষয়টির আইনগত মূল্য অপরিসীম। এই ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল, রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মৌকুফ বলে।

বিলম্ব মৌকুফের ক্ষেত্রে দুইটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যথাঃ
প্রথমতঃ পর্যাপ্ত কারণ
দ্বিতীয়ত: আদালতকে সন্তুষ্টি করণ

এই ধারাটি আপীল মামলার জন্য প্রযোজ্য এমনকি ফৌজদারী আপীল মামলার জন্যও।

৫ ধারা কি মূল মামলার জন্য প্রযোজ্যঃ
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারাটি কেবরমাত্র আপীল এবং রিভিউ ,রিভিশন সহ অন্যান্য উল্লেখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমনকি ফৌজদারী মামলার আপীলের ক্ষেত্রেও ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে। মূল মামলার ক্ষেত্রে এ তামাদি আইনের ৫ ধারাটি প্রযোজ্য হবে না। কারণ অধিকাংশ দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর হতে ১২ বৎসর পর্যন্ত সম্প্রসারিত কিন্তু এই ধারার বিধান মতে আপীল এবং আবেদনের তামাদির মেয়াদ ৭ দিন হতে ৬ মাস। যেহেতু আপীরের সময়সীমা কম সেহেতু যুক্তিসংগত কারনে আপীল দাযের করতে কিংবা রিভিশন সহ অন্যান্য দরখাস্ত দাখিল করতে বিলম্ব হলে এই ধারা মতে উপযুক্ত কারণ সাপেক্ষে সেই বিলম্ব মৌকুফ করা যাইতে পারে। তাই মূল মামলায় অনেক সময় পাওয়া যায় বিধায় মূল মামলা ৫ ধারা ব্যবহার যোগ্য নহে।

উল্লেখ্য যে, যথেষ্ট কারণে বিষয়টি তথ্যগত প্রশ্ন আবার আদালতের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে,যুক্তিসংগত স্বত্ব এবং মনোযোগের সাথে কাজ করলে বিলম্বটি এড়ানো যেত তাহলে ঐ ক্ষেত্রে আদালতে বিলম্বটি গ্রহন নাও করতে পারেন তাছাড়া তামাদি আইনের ৫ ধারা মোতাবেক বিলম্ব মৌকুফের জন্য কোন ব্যক্তি আবেদন করলে তাকে বিলম্বের জন্য প্রত্যেক দিনের জন্য ব্যাখ্যা অথবা কৈফিয়ত আদালতের নিকট দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে একটি মামলার রায়ে মাদ্রাজ হাইকোট বলেন, প্রত্যেক মামলার বাদীর কর্তব্য হল তার মামলার আপীল দাখিলের তারিখ জেনে রাখা; যদি তার নিজের কারণে আপীল দাযের করতে বিলম্ব ঘটে এবং এই ধারার আওতাভূক্ত আদালতের স্বীয় বিবেচনা ক্ষমতা তার পক্ষে অথবা অনকূলে বিলম্ব মৌকুফের জন্য পর্যাপ্ত প্রমান আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।

অধিকার হিসাবে ৫ ধারা দাবী প্রসঙ্গেঃ
১৯০৮ সালের তামাদি আইনে বিলম্ব মৌকুফ এর ক্ষেত্রে কোন দরখাস্তকারী এই মর্মে আদালতের সন্তুষ্টি বিধান করতে পারে যে, নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে অনুরুপ আপীর রিভউ ,রিবিশন দাখিল না করার ক্ষেত্রে পয়াপ্ত কারণ ছিল তাহলে তামাদি আইনের ৫ ধারা বিধানে বিলম্ব মওকুফের সুবিধা পাবে।
তবে এই সুবিধা কেউ অধিকার হিসাবে দাবী করতে পারেন না। কারণ আদালতের স্বেচ্ছাদীন , বিবেচনামূলক ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল কাজেই এধারার সুবিধা পেতে হলে পর্যাপ্ত কারণ প্রমান করতে হবে এর্ং তা আদালতকে সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহন করতে হবে। উহা কোন অধিকার নহে, ইহা একান্তই আদালতের বিবেচ্য বিষয়।

বিলম্ব মওকুফের ক্ষেত্রে আইন, সরকারী ও বেসরকারী মামলাকারীর মদ্যে কোন পার্থক্য করেনি। সরকারের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী অসাবধানতা বা অবহেলা বিলম্ব মওকুফের ক্সেত্রেও পর্যাপ্ত কারণ হিসাবে গন্র হয়না। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সরকার বিশেষ কোন সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নয়।তবে উপযুক্ত কারণে বা পরিস্থিতিতে সরকার এর পক্ষে বিলম্ব মওকুফের সুবিধা পাওয়া যাইতে পারে।

উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, ১৯০৮ সালের তামদি আইনের ৫ ধারাকে াধিকার হিসাবে কেহ দাবী করতে পারে না ইহা একান্তই আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা ও পর্যাপ্ত কারণ।

কোন কোন কারণ বিলম্ব মওকুফের কারণ হতে পারেঃ
১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের কারণ হিসাবে নিম্নে লিখিত কারণগুলি বর্ণনা করা হয়েছে। উপমহাদেশের রায়ে যে কারণ বিবেচনা করা হয় তা নিম্নরুপ -

১. বাদীর অসুস্থতা
২. কৌ শলীর ভুল
৩. সরল বিশ্বাসের ভুর
৪. বাদীর কারগারে থাকা
৫. রায বা ডিক্রীর সার্টিফাই কপিতে ভুল
৬. আইনের অজ্ঞতা
৭. ভুল আদালতের শুনানী বা মামলা রুজু।
৮. তামাদি সময় গননায় ভুল হলে।

উপরোক্ত কারনগুলিকে বিলম্ব মওকুফের কারণ হিসাবে বিবেচনা করা হয।
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
প্রশ্নঃ  আইনগত অক্ষমতা/ অযোগ্যতা বলতে কি বুঝ? একটি আইনগত অক্ষমতার পূর্বেই যদি আরেকটি অক্ষমতার উৎপত্তি বা অবতীর্ণ হয় তাহলে উক্ত ব্যক্তি কি তামাদি আইনের কোন সেকশনের সুবিধা ভোগ করতে পারবে?

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৬ ধারা কিছ ক্ষেত্রে কোন মামলা বা আপীলের জন্য নির্ধারিত সময় দেরি করার বা সময় গণনাতে দেরি করার বৈধতা দিয়েছে। এগুলো নিম্নরূপঃ

১) যদি মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার কিংবা ডিংক্রী জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যে সময় হতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হইবে, সেই সময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তার উক্ত অপারগতার অবসান হবার পর, অপারগতা না থাকলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যে মেয়াদের মধ্যে সে ওটা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

২) যদি অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যে সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সে সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যে মেয়াদের মধ্যে সে ওটা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

৩। যদি অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যে মেয়াদের মধ্যে ওটা করা যেতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করতে পারবে।

৪। যদি উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোনো অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে তাদের ক্ষেত্রেও (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
তামাদি আইন, ১৯০৮
The Limitation Act,1908

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহঃ

ধারা ১ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, আওতা

ধারা ২ সংজ্ঞা

ধারা ৩ তামাদির মেয়াদ অন্তেদায়েরকৃত মামলা ইত্যাদি খারিজ

ধারা ৪ আদালত বন্ধ থাকিলে তখনকার কার্য পদ্ধতি

ধারা ৫ ক্ষেত্রবিশেষে মেয়াদ বৃদ্ধিকরন

ধারা ৬ বৈধ অপারগতা/ আইনগত অক্ষমতা

ধারা ৭ একজনের অক্ষমতা বা অপারগতা

ধারা ৮ বিশেষ ব্যতিক্রম

ধারা ৯ সময়ের অবিরাম চলন

ধারা ১২ আইনানুগ কার্যদ্বারায় যে পরিমান সময় গননা হইতে বাদ দিতে হইবে

ধারা ১৩ বাংলাদেশ এবং কয়েকটি এলাকা হইতে বিবাদির অনুপস্থিত থাকাকালীন সময় গননা হইতে বাদ দিতে হইবে

ধারা ১৪ এখতিয়ার বিহীন আদালতে সত্ উদ্দেশ্যমূলক কার্যদ্বারায় যে পরিমান সময় গননা হইতে বাদ দিতে হইবে

ধারা ১৫ কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় যে পরিমান সময় গননা হইতে বাদ দিতে হইবে

ধারা ১৬ ডিক্রজারীতে বিক্রয় রদ করিবার কার্যদ্বারা মুলতবী থাকাকালীন যে পরিমান সময় বাদ দিতে হইবে

ধারা ১৭ মামলা করিবার অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যু র ফলাফল

ধারা ১৮ প্রতারনার ফলাফল

ধারা ১৯ লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার

ধারা ২০ উত্তর দায় সংক্রান্ত ঞ্চিন পরিশোধ অথবা সুদ প্রদানের ফলাফল

ধারা ২১ অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি

ধারা ২৩ অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা

ধারা ২৫ দলিলের সময়ের গননা

ধারা ২৬ সুখাধিকার

ধারা ২৮ সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি

ধারা ২৯ সংরক্ষন
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

তামাদি আইন একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ আইন কি না এর ব্যাখ্যাঃ

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের সুস্পষ্ট বিধান হল এই আইনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোন মামলা, আপীল কিংবা দরখাস্ত আদালতে দাখিল না করলে পরবর্তীতে আদালত তা গ্রহন করবে না।

তামাদি আইনের ৩ ধারা হতে ২৫ ধারা পর্যন্ত বর্ণিত বিধান মোতাবেক যে কোন ধরণের মামলা আপীল কিংবা দরখাস্ত দাখিলের মেয়াদ সম্পর্কে সাধারণ নিয়মাবলী ব্যতিক্রম সহ উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনের মধ্যে ৫ ধারায় তামাদি রেয়াত বা বিলম্ব মৌকুফের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তামাদি আইনের ২৮ ধারায় জবর দখলের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব বিলপ্ত হয় এবং জবর দখলকারীর স্বত্ব অর্জনের সময়সীমার বিষয়ে নির্ধারিত বিধানাবলী বর্ণিত হয়েছে।


ইহা ছাড়া অত্র আইনের ১৬ ও ২৭ ধারায় ব্যবহার সিদ্ধ অধিকার অর্জনের সময়সীমা সম্পর্কে বিধান রয়েছে। তাই এই আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী বিলম্ব মৌকুফের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে উক্ত বিধান ছাড়া আদালত ন্যায় বিচার এর স্বার্থে তামাদি আইন দ্বারা অনুমোদিত সময় সীমার ব্যাপারে কোন অনুমান বা ক্ষমা প্রদর্শন করবেন না।

সুতরাং যে দাবী তামাদি হয়ে যায় তবে সময় সীমা বাড়ানোর এখতিয়ার আদালতের নেই এমনকি তামাদি কৃত দাবী বা অধিকারকে আদালতে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে না।

তাই তামাদি আইন বলতে এমন এক স্বয়ংসম্পূর্ণ আইনকে বুঝায়, যে আইন দ্বারা সর্ব প্রকার দাবী বা স্বত্বের দ্বন্দ্বকে অবিরাম গতিকে দীর্ঘায়িত করার সুযোগ না দিয়ে বরং তা চিরদিনের জন্য নিস্পত্তি করায় সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া এই আইন প্রতারনা মূলক কার্যক্রম প্রতিরোধ করে। ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৯টি ধারা ১ নং তফসিলে ১৮৩ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে অতএব এই আইনে সব ধরনের বিধিবদ্ধ নিয়মাবলী সন্নিবেশিত রয়েছে বিধায় একে স্বয়ং সম্পূর্ণ বিধিবদ্ধ আইন বলে গন্য করা হয়। তাই উপরোক্ত আলোচনার সারতত্বে বলা যায় যে ১৯০৮ সালের তামাদি আইন একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ আইন।
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

প্রশ্নঃ তামাদি আইনের প্রয়োজনীতা বা যৌক্তিকতা আলোচনা কর।

তামাদি আইনের প্রয়োজনীতাঃ

নিম্নে ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করা হলো -

১. দেওয়ানী মোকদ্দমা, আপীল ও কতিপয় দরখাস্ত আদালতে দায়ের করার মেয়াদ সম্পর্কিত আইন একত্রীকরণ ও সংশোধন করা হয়।

২. দখলের দ্বারা ব্যবহার স্বত্বের ও অন্যান্য সম্পত্তির অধিকার অর্জনের নির্ধারিত সময়সীমা প্রণয়ন করা হয়।

৩. তামাদি আইনের সময় সীমার দ্বারা সমাজের বিবাদ নিস্পত্তির মাধ্যমে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখা হয়।

৪. মামলার দীর্ঘসূত্রীতা জিয়য়ে না রেখে জনসাধারনের ভোগান্তি লাঘব করা হয়।

৫. মামলার জটিলতা অর্থাৎ বহুতা বা সময় এর সাশ্রয় করা হয়।

৬. মামলার দীর্ঘসূত্রীতার বন্ধের জন্য অর্থের অপচয় রোধ করা হয়।

৭. প্রতারণামূলক কার্যক্রমকে প্রতিরোধ করা হয়।

৮. প্রতিষ্ঠিত অধিকার সংরক্ষনের জন্য সহায়তা করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।

৯. সর্বোপরি তামাদি আইন দ্বারা সর্বপ্রকার দাবী ও স্বত্বের দ্বন্দ্বকে অবিরাম গতিতে দীর্ঘায়িত করে সুযোগ না দিয়ে বরং চির দিনের জন্য নিস্পত্তি করতে সাহায্য করে।


উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, দেওয়ানী আইনে তামাদি আইনের প্রয়েজনীয়তা অপরিসীম।
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

জবর দখল বা বিরুদ্ধ দখলঃ

আইনগত দখলের বিরুদ্ধে যে দখল তাকেই জবর দখল বলে।

কোন আইনগত স্বত্বের বিরুদ্ধে প্রতিকূল দখলকেই বিরুদ্ধ দখল বা জবর দখল বলে। অর্থাৎ যখন কোন বিবাদীর দখল বাদীর প্রতিকূল হয় তখনই জবর দখলের সৃষ্টি হয়।

অন্য কথায় ১২ বছরের বেশী সময় ধরে অপরের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রাখলে এবং উক্ত দখলের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য সম্পত্তির প্রকৃত মালিক আদালতে শরনাপন্ন না হলে ঐ সম্পত্তির উপরে জবর দখলকারীর স্বত্ব অর্জিত হয় এবং তামাদি আইনের ভাষায় একেই জবর দখল বলে। এই বিষয় সম্পর্কিত বিধান তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৮ ধারায় বর্ণিত আছে।

জবর দখল বা বিরুদ্ধ দখলের উপাদানঃ

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৮ - এ সম্পত্তির অধিকারের অবসান কথাটির আলোকে সম্পত্তি জবরদখল বা বিরুদ্দ দখলের জন্য যে সমস্ত উপাদানের কথা বলা হয়েছে, তা নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ
জবর দখলকারীকে প্রকৃতপক্ষে জমিতে দখলদার থাকতে হবে। জবরদখলকারীর দখল নাই অথচ খতিয়ানে তার নামে দখল দেয়া আছে এরুপ কাগজী দখলের কোন কাজ হবে না।
জবর দখলজনিতকারণেই জমিতে বেদখল অনুষ্ঠিত হতে হবে।
অবশ্যই সম্পত্তির দখল নিরবচ্ছিন্ন, প্রকাশ্য এর্ং প্রকৃত মালিকসহ অন্যান্য সকলের বিরুদ্ধে হতে হবে। এজন্যই এ জাতীয় দখলের অপর নাম বিরুদ্দ দখল জনিত স্বত্ব।
জবরদখল জনিত কারণেই বেদখল অনুষ্ঠিত হতে হবে। বেআইনিভাবে দখল অথবা জবর দখল অনুষ্ঠিত না হলে জবর দখল প্রতিষ্ঠিত হবে না।
বিবাদীর জবর দখল অবশ্যই বাদীর বিরুদ্ধেই হতে হবে।
প্রকৃত মালিকের জ্ঞাতসারে জবর দখল হতে হবে।
জবর দখল হবার সময় হতে ১২ বছরের মধ্যে অবশ্যই দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বাদীকে মামলা দায়ের করতে হবে। অন্যথায় বিবাদীর সম্পত্তি অর্জিত হবে।
জবর দখল পূর্বক সম্পত্তিটি দখলে রাখবার চেষ্টায় বিবাদীকে লিপ্ত থাকতে হবে।
জবর দখলকারীকে বাদীর স্বত্ব অস্বীকারে নিজের দাবীতে জমিতে দখলদার থাকতে হবে।
জবরদখল অর্থাৎ বিবাদীর দ্বারা জবরদখল জনিত কারণে বাদী সম্পত্তির উপর তার শর্ত হারাবে এবং বিবাদীর অনুকূলে সম্পত্তিতে স্বত্ব অর্জিত হবে।
আইনসঙ্গতভাবে প্রথম দখল শুরু হলে পরবর্তীতে জবর দখলের দাবী উত্থাপন করা যাবে না।

কখন জবর দখলকৃত সম্পত্তিতে দখলকারীর স্বত্ব অর্জিত হয় এবং প্রকৃত মালিকের স্বত্ব বিলুপ্ত হয়ঃ

তামাদির সময়সীমা অতিবাহিত হয়ে গেলে অধিকার লংঘনের প্রতিকার ধ্বংস হয়ে যায়, তবে অধিকারটি ধ্বংস হয় না। কিন্তু তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৮ ধারাটি উপরোক্ত বিধানের ব্যতিক্রম। তামাদির সময়সীমা স্বত্বের মামলার জন্য নির্ধারিত রয়েছে ১২ বছর। খাস জমি হতে বাদী বেদখল হলে বেদখলের তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে বিবাদীর বিরুদ্ধে স্বত্বে সাব্যস্তে খাসদখলের মামলা করতে ব্যর্থ হলে বাদীর শুধু প্রতিকারই নষ্ট হয় না। উপরন্ত সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার পর্যন্ত বিনষ্ট হয়ে যায়।

তাই বলা যায় যে, ১২ বৎসর সমযকালই জবরদখলের সময হিসাবে গণনা করা হয়। যা ১৯০৮ সালের তামাদি আইনে ২৮ ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে তামাদি আইন, ১৯০৮ এর  ২৬ ধারার বিধানের অলোকে ব্যবহার সিদ্ধ অধিকারের কারণে উক্ত সম্পত্তিতে বিবাদীর অধিকার অর্জিত হয়। উল্লেখ্য যে, তামাদি আইনের ২৬ ধারা বিধানকে বলা হয় অর্জনকারী প্রেসক্রিপশন এবং ২৮ ধারা বিধানকে বলা হয় বিলোপকারী প্রেসক্রিপশন।

জবর দখলকৃত সম্পত্তিতে জবর দখলকারী ব্যক্তি কি চুড়ান্ত মালিকানা অর্জন করতে পারেঃ

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৮ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন সম্পত্তির দখলপ্রাপ্তি জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনের যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে তা উত্তীর্ণ হবার পর উক্ত সম্পত্তিতে দাবীর বিলুপ্তি হয়ে যাবে।
সুতরাং এই আইনের ২৮ ধারার বিধান মোতাবেক কোন বাদী যদি তার খাস জমি হতে বিবাদী কর্তৃক বেদখল হয় , তাহলে সে ক্ষেত্রে বাদীকে অবশ্যই বেদখলের তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে বিবাদীর বিরুদ্ধে স্বত্ব সাব্যস্তে খাস দখরের মামলা করতে হবে। অন্যথায় দাবীকৃত জমিতে বাদীর সর্বপ্রকার অধিকার এবং স্বত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। যে সময় হতে জবর দখলের কারণে বাদীর মালিকানা বিলুপ্তি হয়ে যাবে ঠিক ঐ সময় হতেই জবর দখলকারীর উপর সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা বর্তাবে। আর এভাবেই জবর দখলের মাধ্যমে প্রকৃত মালিক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির সম্পত্তির উপর বৈধ বা আইনগত স্বত্ব অর্জিত হয়ে থাকে।
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

বিলোপকারী প্রেসক্রিপশন (Extinctive Prescription):

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৮ কে বিলোপকারী প্রেসক্রিপশন (Extinctive Prescription) বলে।

ধারা - ২৮ | তামাদি আইন, ১৯০৮

অব্যাহতভাবে কোন ব্যক্তি ১২ বছর সময় কাল জমির প্রকৃত মালিকের জ্ঞাতসারে প্রকাশ্যভাবে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে জমির বাস্তব ভোগ দখলে থাকলে, প্রকৃত মালিকের অধিকার বিলুপ্ত হবে এবং দখলদার অধিকার অর্জন করবে।

ধারা ২৮ এ প্রতিকার ও অধিকার বিনষ্ট হয়। এজন্য একে Extinctive Prescription বা বিলোপকারী প্রেসক্রিপশন বলা হয়।
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

তামাদি আইন (Limitation Act) কাকে বলে?

তামাদি একটি আরবী শব্দ এর আভিধানিক অর্থ হলো কোন কিছু বিলুপ্ত হওয়া কিংবা বাধা প্রাপ্ত হওয়া। মূলত ১৯০৮ সালের তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন। এই আইন একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের পরে কোন আইনগত অধিকারের বিলুপ্তি ঘটায়। কতদিনের মধ্যে কোন মামলার আপীল , রিভিউ বা রিভিশনের জন্য আদালতে দরখাস্ত পেশ করতে হবে। কখন বিলম্ব মৌকুফ করা যাবে ইত্যাদি বিষয় তামাদি আইনে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

মামলা দায়েরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়া থাকে ঐ নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হলে আর মামলা করা যায় না ঐ নির্দিষ্ট সময়সীমাকে তামাদি আইন বলে।

তামাদি আইন হচ্ছে কোন সম্পত্তির উপর থেকে মালিকানার দ্বন্দ্বকে শেষ করে পক্ষগন যেন তাহাদের মধ্যে পারষ্পারিক বিরোধ অনেক বছর যাতে চলাতে না পারে সেজন্য তামাদি আইনের সৃষ্টি। তামাদি আইন বা Limitation Act সকল প্রকার প্রতারণা মুলক কাজ বন্ধ করে দেয়। কোন মামলার দরখাস্ত কতদিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে হবে কতদিনের মধ্যে আপিল করা যাবে। কোন সময় মামলা করতে দেরি হবার পরও আদালত মামলার দরখাস্ত গ্রহন করতে পারেন এসব বিষয় সহ ইত্যাদি বিষয় তামাদি আইন বা Limitation Act নির্দিষ্ট করে দেয়। তাই দাবী বা অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তামাদি আইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


এই আইন কোন ব্যক্তির তাহার স্বত্ব বা অধিকারের জন্য কতদিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে তার সময় নির্দিষ্ট করে দেয়। একবার এর সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলে আর মামলা করা যায় না। মামলা মোকদ্দমা করার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কোন মামলা ৩ বৎসর আবার কোন মামলা ১২ বৎসর মেয়াদের মধ্যে করতে হয়। মামলার মত আপীলেরও একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উক্ত নির্ধারিত সময়সীমা বর্ণনা করা হয়েছে।

সুতরাং উপরোক্ত উল্লেখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, তামাদি আইন বলতে এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন কে বোঝায় যে আইন দ্বারা সকল প্রকার দাবী বা স্বত্বের দ্বন্দ্বকে অবিরাম গতিতে বৃদ্ধি যা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ না দিয়ে বরং তা চিরদিনের জন্য নিস্পত্তি করায় সাহায্য করে এরুপ ব্যবস্থাকে তামাদি আইন বলে।

বিলম্বের জন্য অনেকেই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের শরনাপন্ন হতে পারেন না। আইনের সূত্র হচ্ছে বিলম্ব ন্যায় বিচারকে প্রতিহত করে”। আইনের অরো একটি নিয়ম হচ্ছে, যে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতন নয়, আইন তাকে সহায়তা করে না।

আইন সচেতনতার এবং অবহেলার কারণে মানুষের অধিকার আদায় করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। নিষ্ঠুর তামাদি আইনের প্রবল বাধা আর অতিক্রম করা যায় না। সময় একবার অতিবাহিত হয়ে গেলে আর তা ফিরে পাওয়া যায না, মামলা মোকদ্দমা আধিক্য কমাতে এবং নাগরিকদেরকে নিজ নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট করতেই তামাদি আইনের জন্ম। এজন্য অনেকে বলে থাকেন তামাদি আইন জবর দখলকে সমর্থন করে। কারণ নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে জবর দখল কারীর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা না করলে সংশ্লিষ্ট জমিতে জবর দখরকারীর একপ্রকার শক্তিশালী বিরুদ্ধ শর্ত জন্ম নেয়। যার ফলে তাকে আর উচ্ছেদ করা যায় না। বৈধ মালিক তার মালিকানা স্বত্ব হারায়।


সাধারণত কোন একটি বিষয়ে নালিশের উদ্ভব হলে অর্থাৎ কোন ব্যাপারে মামলা করার প্রয়োজন দেখা দিলে প্রশ্ন জাগে মামলাটি কখন করবো। আবার অনেকে মনে করেন- করবো এক সময় বলে বসে থাকেন। কিন্তু না ,কখন মামলা দায়ের করতে হবে সে প্রশ্নে সমাধান দিয়েছে তামাদি আইন। আর যারা মনে করেন যে করবো এক সময় তাদের সাবধান করেছে এ আইন। যে কোন সময় আপনার কেবল খুশিমত আপনি আপনার দাবীর সপক্ষে মামলা দায়ের করতে পারেন না, সব কিছুর যেমন একটি নিয়ম আছে , আইন আছে, মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও সময়ের সেই নিয়ম বেধে দিয়েছে তামাদি আইন। তামাদি আইন মানুষকে সাবধান করেছে যে , একটি বিশেষ সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরে আর মামলা করা যায় না।
দেশের প্রচলিত আইন এবং সরকার এটাই আশা করেন যে. প্রতিটি নাগরিক তাদের অধিকার সম্বন্ধে সদা জাগ্রত এবং সচেতন থাকবে। কেই তাদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিকারের জন্য আদালতে উপস্থিত না হয় , তবে সেই রকম ব্যক্তিকে আইন আদালত সাহায্য করবে না।

তামাদি আইন ধরেই নেই যে দাবী যার সত্য, সে তার দাবী আদায়ে তৎপর থাকবে। মামলা মোকদ্দমার সময় সীমা বিষয়ে কোন বাধা নিষেধ না থাকলে দীর্ঘদিন পরে আমাদের নানাভাবে মামলা মোকদ্দমা জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকতো।
বিষয়টি নিয়ে সর্বদা চিন্তান্বিত থাকতে হতো, সে কারণে মানবিক শান্তি বিত হতো।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হেতু প্রয়োজনীয় সাক্ষী এবং নির্ভর যোগ্য সাক্ষ্যের অভাব হতো ফলে বিচারকের পক্ষে কোন বিষয় সঠিকভাবে নিস্পত্তি করা কঠিন হয়ে পড়তো। কোন সময়সীমা বাধা না থাকলে মামলা মোকদ্দমা কোন দিন শেষ হতো না।

তামাদি আইন ক্ষতি গ্রস্থ পক্ষকে মামলা আপীল, দরখাস্ত রিভিশন ও রিভিউ নির্ধারিত সীমার মধ্যে দাখিল করা নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে না করলে প্রতিপক্ষ আপত্তি উত্থাপন করুক বা না করুক তামাদি আইনের নির্ধারিত নিয়মে আদালতে সেটা ডিসমিস করে দিবেন।

কোন বিশেষ ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগ যত রুঢ়ই মনে হোক না কেন আদালতের এই আইনের বিধান মেনে চলতে হবে।