Articles by "দেওয়ানী কার্যবিধি"
দেওয়ানী কার্যবিধি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

  • মালিকানা সঠিক আছে কি না?
  • হাল রেকর্ড অনুযায়ী খতিয়ান ও দাগ নম্বর সঠিক আছে কি না?
  • নকশা মোতাবেক অবস্থান ও পরিমাণ সঠিক আছে কি না?
  • হিস্যা মোতাবেক বিক্রেতার প্রাপ্য অংশ সঠিক আছে কি না?
  • জমিতে দলিলদাতার দখল আছে কি না?
  • দেওয়ানি আদালতে মামলা আছে কি না?
  • ভূমি সার্টিফিকেট মামলা আছে কি না?
  • রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা আছে কি না?
  • ভুমি উন্নয়ণ কর (খাজনা) পরিশোধ আছে কি না?
  • ভায়া দলিল (রেফারেন্স দলিল) আছে কি না?
  • নামজারি/ খারিজ করা আছে কি না?
  • সরকারি স্বার্থ জড়িত আছে কি না?
  • খাস জমি কি না?
  • অর্পিত সম্পত্তি/ পরিত্যক্তি জমি কি না?
  • কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট দায়বদ্ধ কি না?
  • আদিবাসীর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের বিক্রয় অনমুতিপত্র আছে কি না?
  • নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বৈধ ওয়ারিশ নির্ধারণ করা আছে কি না?



আপনার জমির নামজারি করুন এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন।

no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

১. তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন ও পদ্ধতিগত আইন কি?

১নং প্রশ্নের উত্তরঃ

তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন (Substantive Law): যে আইন মানুষের অধিকার নিরুপণ করে তাকে মূল আইন বলে। যেমন - দন্ডবিধি আইন, চুক্তি আইন, সুনির্দস্ট প্রতিকার আইন।

পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law): যে আইন অধিকার প্রয়োগ করে তাকে পদ্ধতিগত আইন বলে। যেমন - ফৌজদারী আইন।


০২. তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন ও পদ্ধতিগত আইন এর মধ্যে পার্থক্য লিখ।

২নং প্রশ্নের উত্তরঃ

তত্ত্বগত বা মৌলিক আইনঃ

১. কোন কাজটি অন্যায় বা অবৈধ তা নির্ধারণ করে তত্ত্বগত আইন।

২. কোন নির্দিষ্ট অপরাধ আর্থিক দণ্ডে দণ্ডনীয় না কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় তা তত্ত্বগত আইনের প্রশ্ন।

৩. মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলোপ করা হলে তা তত্ত্বগত আইনের পরিবর্তন।


পদ্ধতিগত আইনঃ

১. কোন কাজটি অন্যায় বা অবৈধ তা প্রমাণ করে পদ্ধতিগত আইন।

২. কোন নির্দিষ্ট অপরাধ আর্থিক দণ্ডে দণ্ডনীয় না কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় তা প্রমাণ করে পদ্ধতিগত আইন।

৩. ঋণের জন্য কারাদণ্ডের বিধান বিলোপ করা হলে তা পদ্ধতিগত আইনের পরিবর্তন।


৩. দেওয়ানি কার্যবিধি কি নিছক পদ্ধতিগত আইন-  যুক্তি দেখাও।

৩নং প্রশ্নের উত্তরঃ

"দেওয়ানি কার্যবিধি একটি নিছক পদ্ধতিগত আইন"- দেওয়ানি কার্যবিধি তত্ত্বগত আইন ও পদ্ধতিগত আইনের সংমিশ্রণ।

দেওয়ানি কার্যবিধিতে মোট ধারা আছে ১৫৫টি, এবং দ্বিতীয়ভাগে আদেশ আছে ৫০টি। এছাড়া বিধি ও কার্যবিধি রয়েছে। ধারাসমূহকে দেওয়ানি কার্যবিধির দেহ বলা হয়। ধারা হচ্ছে তত্ত্বগত বা মূল আইন। দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা সংশোধন করতে পারে শুধুমাত্র সংসদ।এবং আদেশসমুহ উচ্চ আদালত সংশোধন করতে পারে। 

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

 The Civil Courts Act, 1887 (Act No. XII of 1887)

Civil Courts  Act, 1887 (Amendment) 2021

(ধারা ১৯ধারা ২১ এর সংশোধন)

(Amendment) 2021 দ্বারা (Amendment) 2016 রহিত করা হয়েছে।

০১. দেওয়ানী আদালতের আর্থিক এখতিয়ারঃ

  • দেওয়ানী আদালতসমূহের আর্থিক এখতিয়ার Civil Courts Act, 1887 এর ১৮, ১৯ এবং ২১ ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে।
  • সর্বনিম্ন আদালত নির্ধারণ করা হবে আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের মাধ্যমে।
  • এই আর্থিক এখতিয়ার আদালতের আদি এখতিয়ার  এবং আপীল এখতিয়ার নির্ধারণের জন্য।


ধারা ১৯ সংশোধিত Civil Courts Act, 1887 (Amendment) 2021

আদালতের নাম আর্থিক এখতিয়ার
যুগ্ম জেলা জজ
সীমাহীন
সিনিয়র সহকারী জজ
২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
সহকারী জজ
১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত


০২. দেওয়ানী আদালতের আপীল  এখতিয়ারঃ

ধারা ২১ সংশোধিত Civil Courts Act, 1887 (Amendment) 2021

দেওয়ানী মোকদ্দমার আপীল আমলে নেওয়ার ও নিষ্পত্তি করার ২ ধরনের আদালতের এখতিয়ার রয়েছে।

ক) জেলা জজ ;

খ) হাইকোর্ট বিভাগ।

যে মূল্যমানের আপীল শুনানী করতে পারে আপীল এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত
৫ কোটি টাকার উপরের যে কোন মূল্যমানের
হাইকোর্ট বিভাগে
৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আপীল শুনতে পারবে
জেলা জজ


দেওয়ানী আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (Amendment) 2021

প্রজ্ঞাপন প্রকাশঃ মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২১



Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
আদালতের এখতিয়ার
বাংলাদেশের প্রতিটি আদালতের বিচারিক ক্ষমতা সংবিধান অথবা রাষ্ট্র কর্তৃক পাশ কৃত আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ। সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং তৎক্রমনিম্নভাবে জেলা পর্যায়ে দেওয়ানি আদালত এবং ফৌজদারি আদালত রয়েছে। এছাড়াও বিশেষ মামলাসমূহের জন্য রয়েছে বিশেষ আদালত ও ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালতের বিচারিক ক্ষমতা নিম্নে আলোচনা করা হলো-


বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট-

বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত হবে সুপ্রীম কোর্ট যা দুটি ভাগে বিভক্ত-

ক) আপীল বিভাগ, এবং

খ) হাইকোর্ট বিভাগ।

আপীল বিভাগের ক্ষমতা-

১) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা সাজার বিরুদ্ধে আপীল শুনানীর ও নিষ্পত্তির ক্ষমতা রয়েছে আপীল বিভাগের।

২) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা সাজার বিরুদ্ধে আপীল বিভাগের নিকট অধিকারবলে আপীল করা যাবে যেক্ষেত্রে

ক) হাইকোর্ট বিভাগ এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে, মামলাটির সাথে আইনের গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন জড়িত রয়েছে, অথবা

খ) কোন ব্যাক্তিকে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে, অথবা

গ) উক্ত বিভাগের অবমাননার জন্য কোন ব্যক্তিকে দন্ডদান করা হয়েছে এবং জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে অন্যান্য ক্ষেত্রে,

৩) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে যে মামলায় এই অনুচ্ছেদের (২) দফা প্রযোজ্য নয় কেবল আপীল বিভাগের অনুমতিসাপেক্ষে উক্ত মামলায় আপীল চলবে।

(৪) সংসদ আইনের দ্বারা ঘোষণা করতে পারবে যে, এই অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ হাইকোর্ট বিভাগের প্রসঙ্গে যেরূপ প্রযোজ্য, অন্য কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রেও তাহা সেইরূপ প্রযোজ্য।

হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ারঃ

বাংলাদেশ সংবিধান এবং অন্য কোন আইনের দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগের উপর আদি, আপীল ও অন্য প্রকার এখতিয়ার, ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে-

ক) আদি এখতিয়ার- রীট, কোম্পানী এডমিরালটি ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়াদি,

খ) আপীল ও রিভিশনালএখতিয়ার- জেলা ও দায়রা জজ আদালত,অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, বিশেষ জজ, অর্থঋণ আদালত, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ইত্যাদি আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আপীল অথবা বিভিশন দায়ের করা যায়।

গ) আদালত অবমাননা সংক্রান্ত বিষয়াদি

অধস্তন আদালতঃ

দেওয়ানী আদালতঃ

ক) জেলা জজ আদালত

খ) অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত

গ) যুগ্ম জেলা জজ আদালত

ঘ) সিনিয়র সহকারী জজ আদালত

ঙ) সহকারী জজ আদালত

দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারঃ

ক) জেলা জজ আদালত- রিভিশন এখতিয়ার, দেওয়ানী বিষয়বস্তুর আপীল যার মূল্যমান সর্বোচ্চ পাচ কোটি টাকা , প্রবেট সংক্রান্ত বিষয়াদি ইত্যাদি।

খ) অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত- জেলা জজ কর্তৃক প্রেরিত সকল মামলাসমূহের বিচার অত্র আদালত কর্তৃক সম্পন্ন হয়ে থাকে।

গ) যুগ্ম জেলা জজ- ১) সকল প্রকার দেওয়ানী মামলা যার মূল্যমান পচিশ লক্ষ টাকা থেকে অসীম,

২) উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়াদি,

৩) রিভিশন- জেলা জজ কর্তৃক প্রেরিত মামলাসমূহ,

৪) আপীল- জেলা জজ কর্তৃক প্রেরিত মামলাসমূহ,

ঘ) সিনিয়র সহকারী জজ- দেওয়ানী প্রকৃতির মামলার বিচার যার মূল্যমান পনের লক্ষ টাকা থেকে পচিশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত,

ঙ) সহকারী জজ- দেওয়ানী প্রকৃতির মামলার বিচার যার মূল্যমান সর্বোচ্চ পনের লক্ষ টাকা।

চ) স্মল কজেস কোর্ট- স্মল কজেস আদালত ক্ষুদ্র মামলা নিস্পত্তি করে থাকে যার মূল্যমান সর্বোচ্চ পচিশ হাজার টাকা।

ছ) পারিবারিক আদালত- পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ অনুযায়ী অত্র আইনের অধীনে দায়েরকৃত পারিবারিক বিষয়াদি সংক্রান্ত বিষয়াদি যথাক্রমে- তালাক, দেনমোহর, ভরনপোষন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার এবং নাবালকের অভিভাকত্ব সংক্রান্ত বিষয়াদির মামলার বিচার অত্র আদালতে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

ফৌজদারী আদালতঃ

ক) দায়রা আদালতঃ প্রত্যেক বিভাগে নিম্নবর্ণিত দায়রা আদালত থাকবে-

১) দায়রা জজ আদালত

২) অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত

৩)সহকারী দায়রা জজ আদালত

মেট্রোপলিটন এলাকার জন্যঃ ১) মহানগর দায়রা জজ আদালত

২) অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত

৩) যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত

খ) ম্যাজিস্ট্রেট আদালতঃ

১) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,

২) অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,

৩) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

৪) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

৫) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

মেট্রোপলিটন এলাকার জন্যঃ ১) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

২) অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

৩) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

ফৌজদারী আদালতের এখতিয়ার-

১) দায়রা জজ আদালত এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত- আইনে উল্লেখিত সকল প্রকারের দন্ড প্রদানে অত্র আদালত সক্ষম তবে মৃত্যুদন্ড প্রদান করলে উক্ত রায় হাইকোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয়।

২) যুগ্ম দায়রা জজ আদালত- অত্র আদালত মৃত্যুদন্ড,যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা দশ বছরের অধিক কারাদন্ড ব্যতীত আইনে উল্লেখিত সকল প্রকার সাজা প্রদানে সক্ষম।

৩) প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত/ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত - অত্র আদালত পাচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড এবং দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা প্রদানে সক্ষম।

৪) দ্বিতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- অত্র আদালত তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড এবং পাচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা প্রদানে সক্ষম।

৫) তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- অত্র আদালত দুই বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড এবং দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা প্রদানে সক্ষম।

ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ আদালতসমূহঃ

ক) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ উল্লেখিত অপরাধসমূহের বিচার অত্র ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সম্পাদিত হয়।

খ) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল- দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন,২০০২ এর অধীনে সুনির্দিষ্ট কিছু অপরাধের বিচার অত্র আদালত কর্তৃক সম্পাদিত হয়।

গ) দ্রুত বিচার আদালত- অত্র আদালত কর্তৃক আইন, শৃংখলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এ উল্লেখিত অপরাধসমূহের বিচার সম্পন্ন হয়।

ঘ) বিশেষ আদালত- বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর অধীনে দায়েরকৃত অপরাধসমূহের বিচার অত্র আদালত কর্তৃক সম্পন্ন হয়।

ঙ) প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল- কোন সরকারী কর্মচারীর তার চাকুরীর শর্তাবলী সংক্রান্ত ক্ষুব্ধ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন।

চ) প্রশাসনিক আপীলেট ট্রাইব্যুনাল- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আপীলেট ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করা হয়ে থাকে।

ছ) শ্রম আদালত- বাণিজ্যিক কারনে এবং কল-কারখানা হতে উদ্ভত বিরোধের নিস্পত্তি শ্রম আদালতে করা হয়ে থাকে।

জ) শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল- শ্রম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে আপীল দায়ের করা হয়ে থাকে।

ঝ) ট্যাক্সেস আপীলেট ট্রাইব্যুনাল- যদি কোন করদাতা যুগ্ম আপীল কমিশনার অথবা কমিশনার (আপীল) প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয় তবে তিনি ট্যাক্সেস আপীলেট ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করতে পারেন।

ঞ) কাস্টমস, এক্সাইজ এবং ভ্যাট আপীলেট ট্রাইব্যুনাল- যদি কোন ব্যাক্তি কমিশনার অথবা কমিশনার (আপীল) কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হন তবে তিনি কাস্টমস, এক্সাইজ এবং ভ্যাট আপীলেট ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করতে পারেন।

ট) অর্থঋন আদালত- ব্যাংক অথবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাংক ঋণের টাকা আদায়ের নিমিত্তে অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

ঠ) বিশেষ জজ আদালত- দুর্নীতি দমন আইন,১৯৫৭ এবং অপরাধ আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮ এর মামলাসমূহ অত্র আদালত কর্তৃক পরিচালিত হয়।

ড) ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল- ষ্টেট একুইজিশন এন্ড টেনেন্সী এক্ট, ১৯৫০ এর ধারা ১৪৫ক এর বিধান অনুযায়ী ভূমি জরীপ সংক্রান্ত বিরোধ অনুযায়ী ভূমি জরীপ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির নিমিত্ত অত্র আদালত স্থাপিত হয়েছে।

ঢ) মেরিন আদালত- অত্র আদালত নৌ দুর্ঘটনা, নৌযান ত্রূটি সংক্রান্ত মামলাসমূহ বিচার করে থাকে।

ণ) কোর্ট অব সেটেলমেন্ট- অত্র আদালত পরিত্যাক্ত ভবন (সম্পূরক অনুবিধি) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ অনুযায়ী স্থাপিত হয়েছে যে আদালত পরিত্যক্ত ভবন নিয়ে বিচার কার্য সম্পন্ন করে এবং দেওয়ানী আদালতের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করে। অত্র আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল দায়েরের কোন সুযোগ নেই।

ত) সাইবার ট্রাইব্যুনাল- সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত মামলাসমূহের বিচার অত্র ট্রাইব্যুনালে হয়ে থাকে।

থ) পরিবেশ আদালত- পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে অত্র আদালতে মামলা করা হয়ে থাকে।

দ) পরিবেশ আপীল আদালত- পরিবেশ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি পরিবেশ আপীল আদালতে আপীল দায়ের করতে পারে।

ধ) স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল, সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন- সিকিউরিটি এবং এক্সচেঞ্জ সম্পর্কিত বিষয়াদি সংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে অত্র ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়ে থাকে।

ন) বন আদালত- বন আইন, ১৯২৭ অনুযায়ী বনের ভেতরে সংঘটিত সকল অপরাধের বিচার বন আদালতে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- অত্র আদালত নিমোক্ত অপরাধের বিচার সম্পন্ন করে থাকে-

১) মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অপরাধ,

২) শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ,

৩) গণহত্যা,

৪) যুদ্ধসংক্রান্ত অপরাধ,

৫) জেনেভা কনভেনশন, ১৯৪৯ এ উল্লেখিত মানবাধিকার ভংগকারী অপরাধ,

৬) আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংঘটিত অন্য যে কোন অপরাধ

তথ্য সূত্রঃ বিচার বিভাগীয় বাতায়ন বাংলাদেশ (www.judiciary.org.bd)
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

আইনের প্রকৃতিঃ

মনে রাখুনঃ দসুঃ মূল আইন | অন্যান্য আইনঃ পদ্ধতিগত আইন বা উভয়
দঃ দন্ডবিধি, ১৮৬০
সুঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আই্ন, ১৮৭৭


কোনটি কত নং আইন?

মনে রাখুনঃ সাসু- ১ | ফৌদে- ৫ | তাদবা- ৯,৪৫,৪৬
সাসুঃ ১নং আইন
সাঃ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
সুঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আই্ন, ১৮৭৭

ফৌদেঃ ৫নং আইন
ফৌঃ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮
দেঃ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮

তাদবা- ৯,৪৫,৪৬নং আইন
তাঃ তামাদি আইন, ১৯০৮ : ৯নং আইন
দঃ দন্ডবিধি, ১৮৬০ : ৪৫নং আইন
বাঃ বার কাউন্সিল, ১৯৭২ : ৪৬নং আইন
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
বাংলাদেশের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন আইনের প্রচলন রয়েছে। প্রচলিত এই আইনকানুনসমূহকে প্রধানত তিন (০৩) শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়। যথাঃ
  1. দন্ডবিধি; 
  2. ফৌজদারী কার্যবিধি এবং
  3. দেওয়ানী দন্ডবিধি।



উপরিউক্ত প্রচলিত আইনসমূহের কোনটিই স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন নয়। প্রতিটি আইন বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় একে অপরের উপর নির্ভরশীল।প্রচলিত প্রধান তিন প্রকারের আইন ছাড়াও প্রয়োজনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ আইন তৈরি পাশ করা হয়।

নিম্নে বিভিন্ন আইনের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলোঃ

০১) দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)

দণ্ডবিধি থেকে অপরাধ এবং অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে জানা যায়। মোট ৫১১টি ধারা আছে দণ্ডবিধিতে, এসব ধারাগুলোর অনেকগুলোর আবার উপধারা আছে। ধারাগুলোর কোনটিতে অপরাধের বর্ণনা বা সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে আবার কোনটিতে অপরাধের শাস্তির পরিমাণ বর্ণিত হয়েছে। ১৮৬০ সালে প্রথম ভারতীয় দণ্ডবিধি প্রবর্তিত হয়। দণ্ডবিধিকে একটি দেশের মৌলিক আইন বলা হয়ে থাকে।

তথ্যকণিকা
  • আইনের ধরণঃ আইনের ধরন মূল আইন/ বিষয় ভিত্তিক আইন/ Subjective Law/ Substantive Law
  • আইন নং: ১৮৬০ সালের ৪৫নং আইন।
  • দণ্ডবিধিতে ধারাঃ ৫১১ টি। (মূল দণ্ডবিধিতে ধারা ছিলঃ ৪৮৮টি।)
  • অধ্যায়ঃ ২৩টি।

ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন গঠনঃ ১৮৩৪ সালে।
প্রথম আইন কমিশনের -
    - চেয়ারম্যানঃ থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Loard Macaulay)
    - কমিশনারঃ G.W. Anderson , F. Millet এবং J.M. Macleod
  • আইন কমিশন কর্তৃক দণ্ডবিধি প্রণয়নের খসড়া জমাঃ ১৮৩৭
  • প্রথম পাশঃ ৬ অক্টোবর, ১৮৬০
  • কার্যকরঃ ১ জানুয়ারী, ১৮৬২
  • সর্বশেষ সংশোধনঃ ২০০৪ সালে। (ধারা ৮২ এবং ধারা ৮৩)

ফৌজদারী অপরাধের অভিযুক্ত করার প্রাথমিক শর্তসমূহঃ
  1. অপরাধী মন (ল্যাটিন: Mens Rea, ইংরেজি: Guilty Mind) এবং
  2. দোষাবহ কার্য বা অপরাধজনক কার্য (Actus Reus)

০২) ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898)

অপরাধের তদন্তের পদ্ধতি, গ্রেফতার-জমিনের বিধান এবং বিচারকার্য কিভাবে পরিচালিত হবে সেটা ফৌজদারী কার্যবিধি আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধ যাতে না ঘটতে পারে তার জন্য কিছু ব্যবস্থা ফৌজদারী আইনে পাওয়া যায়।

তথ্যকণিকা
  • আইনের ধরনঃ পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law/ Adjective Law) [ এই আইনে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে নিয়ম বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার কার্য পরিচালিত হবে তার উল্লেখ থাকে বিধায় একে পদ্ধতিগত আইন বলা হয়। ]
  • আইন নংঃ ১৮৯৮ সালের ৫নং আইন।
  • সর্ব প্রথম প্রণয়নঃ ১৮৬১ সালে।
  • সংস্কারপূর্বক গ্যাজেট প্রকাশঃ ২২ মার্চ, ১৯৮৯।
  • কার্যকরঃ ১লা জুলাই, ১৮৯৮ সালে।
  • মোট ধারাঃ ৫৬৫ টি। (বর্তমানে কার্যকরঃ ৪৭৩ টি)
  • অধ্যায়ঃ ৪৬ টি।
  • মোট তফসিলঃ ৫ টি। (বাতিলঃ ১ম তফসিল; কার্যকরঃ ৪টি)
  • সর্বশেষ সংশোধনীঃ ২০১২ সালে।


দণ্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধি
হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। দণ্ডবিধির ২৯৯ এবং ৩০০ ধারায় খুন বা হত্যাকান্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে। এবং দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের শাস্তির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

কিন্তু কিভাবে এই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে, কিভাবে তদন্তকার্য পরিচালনা করা হবে, কোন আদালতে মামলাটি দায়ের করতে হবে তথা বিষয়টি কোন আদালতের আওতাধীন ইত্যাদি সম্পর্কে দণ্ডবিধিতে কোন আলোচনা করা হয়নি। ফৌজদারী কার্যবিধিতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, বিধায় বিচারিক কার্য পরিচালনায় দণ্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধির সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।

০৩) দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (The Code of Civil Procedure, 1908)

দেওয়ানী কার্যক্রমে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। যেগুলো ফৌজদারী অপরাধ নয় সহজ ভাষায় সেগুলোই দেওয়ানী আদালতের আওতায় নেয়া হয়। বাড়ি-ঘর, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ, আর্থিক দেনদেন সংক্রান্ত প্রসঙ্গ ইত্যাদি দেওয়ানী আদালাতের আওতাভুক্ত। দেওয়ানী আদালত কিভাবে তার বিচারকার্য পরিচালনা করবে দেওয়ানী কার্যবিধিতে তার উল্লেখ আছে। দেওয়ানী কার্যবিধিকে মোটাদাগে দুইভাগে ভাগ করা যায়: কার্যবিধি ও অর্ডার। প্রতিটি অর্ডারের আবার একাধিক রুল আছে।

তথ্য কণিকা
  • CPC: Code of Civil Procedure
  • সর্বপ্রথম বিধিবদ্ধ হয়ঃ ১৮৫৯ সালে। 
  • প্রথম প্রণয়নঃ ২১ মার্চ, ১৯০৮।
  • কার্যকরঃ ১ জানুয়ারি, ১৯০৯। আমাদের।
  • আইনের ধরণঃ পদ্ধতিগত আইন। (Procedural Law/ Adjective Law)
  • আইন নংঃ ৫নং (১৯০৮ সাল)।
  • মোট ধারাঃ ১৫৮টি। (কার্যকরঃ ১৫৫টি।)
  • মোট আদেশঃ ৫১টি। (কার্যকরঃ ৫০টি।)
  • মোট তফসিলঃ ০৫টি। (কার্যকরঃ ০৩টি।)
  • অধ্যায়ঃ ১১টি। কববত।তত্ত
  • সর্বশেষ সংশোধনঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭। (ধারা ৮৯ক)

দেওয়ানী কার্যবিধিকে দুই (০২) ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
  • ধারাঃ ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলা আছে। পরিবর্তন করতে পারেঃ জাতীয় সংসদ।
  • আদেশঃ পদ্ধতি প্রসঙ্গে বলা আছে। পরিবর্তন করতে পারেঃ মহামান্য হাইকোর্ট।