Articles by "ফৌজদারী কার্যবিধি"
ফৌজদারী কার্যবিধি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
আমল-অযোগ্য অপরাধের (Non Cognizable Offence) ক্ষেত্রে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না। কিন্তু ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারার বিধান অনুযায়ী পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়াই ৯ (নয়) প্রকার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে।



            অর্থাৎ, নিম্নোক্ত ৯ (নয়) প্রকার ব্যক্তিকে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেঃ

০১. আমলযোগ্য অপরাধ যদি কেউ করে থাকে/ আমলযোগ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে

০২. আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত যার কাছে ঘর ভাঙার কোনো সরঞ্জাম রয়েছে

০৩. সরকার/ আদালত কর্তৃক ঘোষিত কোন অপরাধীকে

০৪. চোরাই মাল থাকলে বা মাল সম্পর্কিত কোনো অপরাধে যুক্ত থাকার সন্দেহ থাকলে

০৫. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধাদান বা আইনগত হেফাজত থেকে পলায়নকারী ব্যক্তি

০৬. সশস্ত্রবাহিনী থেকে পলায়নকারী ব্যক্তি

০৭. বাংলাদেশের বাইরে (বিদেশে) বাংলাদেশের আইনে আমলযোগ্য অপরাধ করলে

০৮. কোন জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত আসামী ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৬৫(৩) ধারা লংঘন করলে

০৯. কাউকে গ্রেফতার করার জন্য অন্য পুলিশ অফিসারের নিকট হতে অনুরোধ আসলে

     ✅  তথ্যকণিকাঃ 

                ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪, ৫৫, ৫৭, ৬৬, ১২৪(৬), ১২৮, ১৫১, ৪০১(৩) ধারা অনুযায়ী পুলিশ বিনা পরোয়ানায় যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে।

👉 ধারা ৫৪ : যেকোনো পুলিশ অফিসার বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারেঃ 
                            ৯ টি ক্ষেত্রে, বর্ণিত ৯ প্রকার ব্যক্তিকে

👉 ধারা ৫৫ : থানায় ভারপ্রাপ্ত অফিসার বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারেঃ 
                            ৩ টি ক্ষেত্রে, বর্ণিত ৯ প্রকার ব্যক্তিকে
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

ফৌজদারী অপরাধ বলতে সেসব অপরাধ বোঝায় যেগুলো দেশে প্রচলিত ফৌজদারী আইন অনুযায়ী বিচারযোগ্য এবং শাস্তিযোগ্য। এই অপরাধের বিচার পরিচালিত হয় ফৌজদারী আদালতের মাধ্যমে। ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ২য় তফসিল অনুসারে কোন অপরাধটি কোন শ্রেণীভুক্ত তা নির্ধারণ করা হয়।


ফৌজদারী কার্যবিধিতে নিম্নোক্ত অপরাধের শ্রেণী বর্ণিত হয়েছেঃ

  • আমলযোগ্য অপরাধ (Cognizable Offence)
  • আমলঅযোগ্য অপরাধ (Non-cognizable Offence)
  • জামিনযোগ্য অপরাধ (Bailable Offence)
  • জামিনঅযোগ্য অপরাধ (Non-bailable Offence)
  • সমন মামলা (Summon Cases)
  • ওয়ারেন্ট মামলা (Warrant Cases)
  • আপসযোগ্য অপরাধ (Compoundable Offences)
  • আপসঅযোগ্য অপরাধ (Not Compoundable Offences)


⇛ আমলযোগ্য অপরাধ (Cognizable Offence): 

যে অপরাধ সমুহ সংগঠিত হলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া (arrest without warrant) অর্থ্যাৎ বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে,

  • ফৌজদারী কার্যবিধির, ১৮৯৮ এর ২য় তফসিল অনুসারে অথবা বর্তমানে বলবৎযোগ্য অন্যকোন আইনের অধীন। [যেমনঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮]

        এছাড়া আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ১৫৪ ধারায় এজহার রুজুর মাধ্যমে মামলা এবং ১৫৬ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত পরিচালনা করতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৩য় কলামে আমলযোগ্য অপরাধের তালিকা প্রদত্ত হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধকে সাধারণত জামিনঅযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


⇛ আমলঅযোগ্য অপরাধ (Non-cognizable Offence):

যে অপরাধ সমুহ সংগঠিত হলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া অর্থ্যাৎ বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে না (may not arrest without warrant)।
এছাড়া আমলঅযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ১৫৪ ধারায় এজহার রুজুর মাধ্যমে মামলা এবং ১৫৬ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত পরিচালনা করতে পারে না। আমলঅযোগ্য অপরাধকে সাধারণত জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

offences


👉 বিঃ দ্রঃ আমলযোগ্য অথবা আমলঅযোগ্য অপরাধের বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ২য় তফসিল এর ৩য় কলামে বর্ণিত।

আমলযোগ্য অথবা আমলঅযোগ্য অপরাধসমূহ নিম্নোক্তভাবে চিহ্নিত করতে হয়ঃ

  • May arrest without warrant- লেখা থাকলে  অপরাধটি 'আমলযোগ্য'।
  • Shall not arrest without warrant- লেখা থাকলে অপরাধটি 'আমলঅযোগ্য'।


জামিনযোগ্য অপরাধ (Bailable Offence):

যে সকল অপরাধ ফৌজদারী কার্যবিধির ২য় তফসিলে জামিনযোগ্য বলে দেখানো হয়েছে এবং যা বর্তমানে বলবৎ কোন আইন দ্বারা জামিনযোগ্য করা হয়েছে তাকে জামিনযোগ্য অপরাধ বলা হয়। ফৌজধারী কার্যবিধি ৪(খ) ধারায় জামিনযোগ্য অপরাধ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। 

জামিনযোগ্য অপরাধের ধারাসমূহ (দন্ডবিধি, ১৮৬০)

👉 বিঃ দ্রঃ ফৌজদারী কার্যবিধির ২য় তফসীলে ৫ম কলামে কোন কোন অপরাধগুলো জামিনযোগ্য ও কোন কোন অপরাধগুলো অ-জামিনযোগ্য তা বর্ণিত হয়েছে৷ জামিনযোগ্য অপরাধকে সাধারণত জামিনঅযোগ্য অপরাধের চেয়ে কম গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয় ৷

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

ব্যক্তির অধিকার ও সম্পত্তির অধিকার ব্যতিত যে কোন অপরাধ ফৌজদারী মামলার অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার ফলে যে মামলা পরিচালিত হয় সেগুলোই ফৌজদারী মামলা।  বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হাঙ্গামা, ব্যক্তির জীবন হরণ, অর্থসম্পদ লুটপাট ও যৌন হয়রানির অপরাধে ফৌজদারি মামলার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।


Criminal justice system

চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, লুটপাট, খুন, জখম, বিস্ফোরণ, অপহরণ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, বেআইনি সমাবেশ, প্রতারণা, জালিয়াতি, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান প্রভৃতি অপরাধে যেসব মামলা রুজু করা হয় তাকে ফৌজদারী মামলা বলে। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে জেল-জরিমানা, যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।


সাধারণত কয়েকটি ধাপে এসকল ফৌজদারী মামলার বিচার ব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে থাকে। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার ধাপসমূহ আলোচনা করা হলোঃ


ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থা

👉 প্রথম ধাপঃ মামলা দায়ের

ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয় ০২ (দুই) স্থানে। যথাঃ

ক) থানায় অথবা খ) আদালতে

  • সংশ্লিষ্ট মামলার ঘটনাস্থল যে থানার সীমানার মধ্যে অবস্থিত সেই থানায় এজাহার দাখিল করতে হয়।
  • থানায় এজাহার না নিলে কোর্টে নালিশী দরখাস্ত দাখিল করতে হয়।


ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির দ্বারা মামলা দায়ের হলে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশীট অথবা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে। পুলিশ চার্জশিট দিলে বিচারিক কোর্ট অভিযোগ গ্রহণ করে বিচারকার্য শুরু করেন।


👉 দ্বিতীয় ধাপঃ গ্রেফতার

পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (আসামী) গ্রেফতার করতে পারেঃ

  • আদালত এর আদেশের ভিত্তিতে,
  • অথবা আদালত এর আদেশ ব্যতীত (গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলে)।


👉 তৃতীয় ধাপঃ অভিযোগ শুনানি

অভিযোগ শুনানির সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নিম্নোক্ত সুযোগ পাবেঃ

  • তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পারবে।
  • দোষ স্বীকার/ নির্দোষ দাবী করতে পারে।
  • অভিযোগ থেকে অব্যাহতি/ জামিন আবেদন করতে পারে। 

মামলার যে কোন পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনের দরখাস্ত করে জামিন পেতে পারেন।


👉 চতুর্থ ধাপঃ সাক্ষী পরীক্ষা

  • অভিযোগকারী/ বাদী পক্ষ আদালতে স্বাক্ষী উস্থাপন করবে।
  • আত্মপক্ষ সমর্থনে অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবী অভিযোগকারীর/ বাদী পক্ষের সাক্ষীকে জেরা করবে।


👉 পঞ্চম ধাপঃ আসামীর পরীক্ষা

  • অভিযুক্ত/ আসামী আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে।
  • দোষ স্বীকার/ নির্দোষ দাবী করতে পারে।


👉 ষষ্ঠ ধাপঃ যুক্তিতর্ক

  • বাদী ও অভিযুক্ত/ আসামী পক্ষ স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবে।
  • আদালত রায় প্রদানের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবে।


👉 সপ্তম ধাপঃ খালাস/ সাজা

  • অভিযুক্ত/ আসামী নির্দোষ প্রমাণিত হলে খালাস পাবে।
  • দোষী সসাব্যস্ত হলে সাজা পাবে।

এক কথায়, বিচার শেষে বিচারিক কোর্ট খালাস অথবা শাস্তির আদেশ প্রদান করেন।


👉 অষ্টম ধাপঃ আপিল

আপিল দায়ের করা হয় নিম্নোক্ত কারণেঃ

  • বাদী অথবা সংক্ষুব্ধ আসামী পক্ষের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে।
  • কারাবন্দির ক্ষেত্রে জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আপিল দায়ের করা হয়ে থাকে।

সুনির্দিষ্ট সময়ের (তামাদির) মধ্যে আপিল দায়ের করতে হয়।


👉 নবম ধাপঃ আপিল নিষ্পত্তি

আপিল আদালত নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনঃ

  • বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখতে পারেন;
  • অথবা রায় খারিজ করতে পারেন।
রায় খারিজ হলে অভিযুক্ত/ আসামীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণে মাজদার হোসেন মামলা এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে জ্বলজ্বল করছে। মাসদার হোসেন মামলার ধারাবাহিকতায় সরকার ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর ফৌজদারী কার্যবিধি সংশোধন করে রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ পৃথক করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদ প্রনয়ন করেন।


masdar hossain case


সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে মাজদার হোসেন মামলার রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।  নিম্নে বিখ্যাত মাজদার হোসেন মামলার আদ্যোপান্ত উপস্থাপন করা হলোঃ


প্রথম ধাপঃ

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের উদ্দেশ্যে জনাব মাজদার হোসেনসহ কতিপয় বিচার বিভাগীয় অফিসার ১৯৯৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং- ২৪২৪ /৯৫ দায়ের করেছিলেন।


তাঁরা রিট পিটিশনে নিম্নোক্ত যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেনঃ

  1. জুডিসিয়াল সার্ভিসকে ১৯৮০ সালের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস আদেশ এর অধীনে অন্তর্ভুক্তিকরণ সংবিধান বহির্ভূত।
  2. সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের দ্বিতীয় অধ্যায়ে অধস্তন বিচার আদালত সম্পর্কিত বিধান আছে সেখানে সংবিধানের দ্বারাই অধস্তন আদালতগুলো পৃথক হয়েছে। শুধুমাত্র সংবিধান ১১৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিধি প্রণয়ন করে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ কার্যকর করা সাংবিধানিকভাবে আবশ্যক।
  3. অধস্তন আদালতের বিচারকগণ বিচারক থাকাবস্থায় তাঁরা কোন ট্রাইবুনালের অধীন হতে পারেনা এবং এই ধরনের বিচার বিভাগীয় অফিসারগণ প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের এখতিয়ারভুক্ত নহেন।


দ্বিতীয় ধাপঃ

বিষয়টির উপর ১৩ জুন ১৯৯৬ সাল থেকে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্ট বিভাগ ৭ মে ১৯৯৭ সালে রায় প্রদান করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপীল করে (দেওয়ানী আপীল নং- ৭৯/ ১৯৯৯) এবং আপীল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত রায় নিরীক্ষণ করে ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে রায় প্রদান করে ( ৫২ ডি এল আর, ৮২ )।


রায়ে অন্যান্যের মধ্যে সরকারকে নিচের ০৫ (পাঁচ) টি নির্দেশনা (Direction ) প্রদান করা হয়ঃ

  1. সরকার অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৫নং অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিধিমালা প্রণয়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্য হিসাবে পরিচিত এবং সুপ্রিমকোর্ট এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের সমন্বয়ে জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে ।
  2. বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৩ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের পোষ্টিং, পদোন্নতি, ছুটি , শৃঙ্খলা, ছুটি ভাতা এবং সার্ভিসের অন্যান্য যেসব শর্ত থাকে সে সংক্রান্ত আইন বা বিধিমালা বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৫ ও ১১৬ প্রণয়ন করতে হবে।
  3. বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৫নং অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে জুডিশিয়াল পে-কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
  4. বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৬নং অনুচ্ছেদ অনুসারে বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতার শর্তাবলী যেমনঃ চাকুরীর মেয়াদের নিরাপত্তা, বেতন এবং অন্যান্য সুবিধাদি এবং পেনশনের নিরাপত্তা পার্লামেন্ট ও নির্বাহী বিভাগ হতে সাংবিধানিক স্বাধীনতা রচিত করে সংবিধানের ১৩নং অনুচ্ছেদ অনুসারে আইন বা বিধিমালা প্রনয়ন করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে ।
  5. সুপ্রিমকোর্টের ফান্ডে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা থেকে খরচ করতে হলে সুপ্রিমকোর্টকে নির্বাহী সরকার হতে সে বিষয়ে কোন অনুমোদন নেয়ার আবশ্যক নেই।


তৃতীয় ধাপঃ মামলার রায় বাস্তবায়ণ সংক্রান্ত

১৯৯৯ সালে রায় প্রদানের পরবর্তীতে ২০০০ সাল পর্যন্ত উক্ত রায় বাস্তবায়িত হয়নি। ২০০১ সালে সরকার তিনটি আইন ও বিধিমালার খসড়া তৈরি করলেও এটা বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ আদালতের রায় হিসাবে মাজদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য আইনগত বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু উহা বাস্তবায়ন করা হয়নি।


সুপ্রিমকোর্টের বারংবার চাপের মুখে সরকার নিম্নোক্ত চার (০৪) টি বিধিমালা তৈরি করেঃ

  1. বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা, ২০০৪;
  2. বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস ( পে- কমিশন ) বিধিমালা, ২০০৬;
  3. বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (গঠন, প্রবেশ পদে নিয়োগ এবং সাময়িক বরখাস্তকরন, বরখাস্তকরণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৬;
  4. বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরী, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধান এবং চাকুরীর অন্যান্য শর্তাবলী) বিধিমালা, ২০০৬।


উপরিউক্ত বিধিমালাসমূহ আপীল বিভাগের মতে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। ফলে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার উপরোক্ত চার (০৪) টি বিধিমালা বাতিল করে ২০০৭ সালে নতুন করে নিম্নোক্ত বিধিমালা জারী করেঃ

  1. বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা, ২০০৭;
  2. বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পে- কমিশন বিধিমালা, ২০০৭;
  3. বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (গঠন, প্রবেশ পদে নিয়োগ এবং সাময়িক বরখাস্তকরন, বরখাস্তকরণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৭;
  4. বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরী, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধান এবং চাকুরীর অন্যান্য শর্তাবলী) বিধিমালা, ২০০৭।


শেষ ধাপ (চূড়ান্ত পর্যায়): রায় বাস্তবায়ণের শেষ ধাপ

    উপরিউক্ত বিধিমালাসমূহ জারীর পরপরই ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের কাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষে The Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2007 জারী করা হয়। ফল শ্রুতিতে ফৌজদারী কার্যবিধির মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়। ফৌজদারী আদালত ব্যবস্থাকে নতুন করে পুনর্গঠনপূর্বক বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা করা হয়।

            উপরিউক্ত বিধিমালাসমুহ গেজেটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে। ২০০৯ নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৭ সালের অধ্যাদেশের আলোকে ফৌজদারী কার্যবিধি (সংশোধনী) আইন ২০০৯ পাশ করে। এর মাধ্যমে মাজদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে ধরা হয়।


মাসদার হোসেন মামলা সর্ম্পকে যা মনে রাখা প্রয়োজনঃ

  • জনাব মাসদার হোসেন ছিলেনঃ পেশায় একজন জজ
  • রীট পিটিশন দায়েরঃ ১৯৯৫ সালে
  • রীট পিটিশন নং: ২৪২৪/৯৫
  • হাইকোর্ট বিভাগের রায়ঃ ৭ মে, ১৯৯৯ সালে
  • হাইকোর্টে বিভাগের রীটকারীর পক্ষে রায়ে নির্দেশনা ছিলঃ ১২ টি।
  • রায়ের বিরুদ্ধে আপীলঃ সরকার ১৯৯৯ সালে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে আপীল দায়ের করেন।
  • আপীল নং: ৭৯/১৯৯৯
  • আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ঃ ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সালে [ আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করে।]

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুক্ষিণ হয়ে আইনগত সহায়তা (পুলিশি) প্রয়োজন হয়। জিডি (G.D) বা সাধারণ ডায়েরি হলো আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির অন্যতম মাধ্যম। সাধারণত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (G.D) করা হয়। সাধারণ ডায়েরি (G.D) করার পর পুলিশ অফিসার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনবোধে মামলাযোগ্য বিষয় হলে উক্ত সাধারণ ডায়েরি (G.D) কে মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।

সাধারণ মানুষের G.D সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকার কারণে আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন হয়রানীর শিকার হতে হয়। সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তার কথা চিন্তা করে কখন, কোথায়, কিভাবে, কি কি কারণে সাধারণ ডায়েরি বা G.D করতে হয় তার আদ্যোপান্ত আলোচনা করা হলো।


০১. সাধারণ ডায়েরি (G.D) কি?

সাধারণ ডায়েরি (G.D):  শাব্দিক অর্থে সাধারণ ডায়েরি (ইংরেজীতে General Diary) এর সংক্ষিপ্ত রুপ হলো G.D বা জিডি ।

G.D হলো কোন বিষয়ের সাধারণ বিবরণ যা আইনগত সহায়তা প্রাপ্তিতে থানায় লিখিতভাবে ডিউটি অফিসারের (কর্তব্যরত) কাছে জমা দেওয়া  হয়।

অর্থ্যাৎ কোন প্রকারের অনাকাঙ্গিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিলে তা থানার পুলিশের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হচ্ছে সাধারণ ডায়েরি বা জিডি।

সাধারণ ডায়েরি করার অর্থ হচ্ছে কোন সমস্যা অপরাধে পরিণত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবগত করা। জিডির মাধ্যামে আমরা ভবিষ্য সম্ভাব্য কোন ক্ষতি সম্পর্কে থানা কর্তৃপক্ষকে অগ্রিম অবগত করতে পারি।


০২. সাধারণ ডায়েরি (G.D) কেন করা হয়?

সাধারণ ডায়েরি (G.D) করার কারণঃ

  • থানায় মামলাযোগ্য নয় এমন ঘটনা ঘটলে
  • কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়ায় যদি জীবন বা সম্পত্তির  নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে
  • মূল্যবান কিছু (যেমনঃ পরিচয়পত্র/ পাসপোর্ট/ ড্রাইভিং লাইসেন্স/ চেক/ দলিল/ মোবাইল ) হারিয়ে গেলে
  • কেউ নিঁখোজ হলে বা পালিয়ে গেলে
  • যে কোন অপরাধ বা ক্ষতি সংঘটনের আশঙ্কাজনিত কারণে


০৩. কোথায় ও কীভাবে সাধারণ ডায়েরি (G.D) করা হয়?

চিরাচরিত নিয়ম হিসেবে নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সাধারণ ডায়েরি (G.D) করতে হয়। থানার কর্তব্যরত অফিসার (ডিউটি অফিসার) একটি ডায়েরীতে জিডির নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য নথিভুক্ত করেন থাকেন। সাধারণ ডায়েরি বা জিডির দুই (০২) টি কপি করা হয়। একটি কপি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে অভিযোগকারীকে দেওয়া হয় এবং অন্যটি থানায় সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিটি জিডির বিপরীতে একটি নম্বর দেয়া হয়, ফলে কোন অবৈধ প্রক্রিয়া মাধ্যমে কেউ আগের তারিখ দেখিয়ে জিডি করতে পারেন না। অভিযোগকারী নিজে অথবা থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা/ কর্মচারীর সাহায্য নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (G.D) লিকতে পারেন।


👉 অনলাইনে জিডি করার জন্য আপনাকে প্রবেশ করতে হবেঃ https://gd.police.gov.bd লিংকে।


online GD


সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করার জন্য যা যা প্রয়োজনঃ

  • আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।
  •  আপনার সচল মোবাইল। 
  • আপনার লাইভ ছবি।


সাধারণ ডায়েরি (G.D) নমুনা

তারিখঃ......................................


বরাবর

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

................................... থানা,

চট্টগ্রাম।


বিষয়ঃ .......................................... হারানো সংবাদ ডায়েরিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন।


মহোদয়,

সবিনয় নিবেদন এই যে আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী আপনার থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাচ্ছি যে, আমার .......................................................... অদ্য সকাল/ দুপুর/ বিকাল আনুমানিক...................... ঘটিকার সময় ........................ রাস্তা দিয়ে পথচলাকালীন পথিমধ্যে হারিয়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায় হারানোর বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে সদয় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

........................... (হারানো দলিলাদীর বিবরণ):

..............................................................................

..............................................................................

..............................................................................

..............................................................................


বিনীত নিবেদক,

স্বাক্ষর/-

নামঃ ..............................................................................

ঠিকানাঃ..............................................................................

মোবাইল নম্বরঃ..............................................................................


০৪. সাধারণ ডায়েরি (G.D) করার সুবিধা কি?

  • যে কোন সমস্যায় পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায়
  • নাগরিক সেবা নিশ্চিত হয়
  • নাগরিকের জান-মালের রক্ষা নিশ্চিত করা
  • কোন কাগজপত্র হারিয়ে গেলে এর কপি তুলতে জিডি করতে হয়
  • কোন মালপত্র হারিয়ে গেলে জিডি করতে হয়
  • কেউ নিখোঁজ হলে জিডি করতে হয়

      এক কথায় গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদী হারিয়ে গেলে তার ডুপ্লিকেট কপি উত্তোলনে জিডির বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অনাকাঙ্গিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিলে তা থানার পুলিশের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাধারণ ডায়েরি বা জিডির গুরুত্ব অপরিসীম।


০৫. সাধারণ ডায়েরি (G.D) করার যোগ্যতা কি?

  • সেবা প্রাপ্তির যোগ্যতাঃ বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক
  • কাগজপত্রঃ আবেদনপত্র
  • খরচঃ বিনামূল্যে
  • সময়ঃ ১ ঘন্টা থেকে সর্বোচ্চ ৭ দিন
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

১. তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন ও পদ্ধতিগত আইন কি?

১নং প্রশ্নের উত্তরঃ

তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন (Substantive Law): যে আইন মানুষের অধিকার নিরুপণ করে তাকে মূল আইন বলে। যেমন - দন্ডবিধি আইন, চুক্তি আইন, সুনির্দস্ট প্রতিকার আইন।

পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law): যে আইন অধিকার প্রয়োগ করে তাকে পদ্ধতিগত আইন বলে। যেমন - ফৌজদারী আইন।


০২. তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন ও পদ্ধতিগত আইন এর মধ্যে পার্থক্য লিখ।

২নং প্রশ্নের উত্তরঃ

তত্ত্বগত বা মৌলিক আইনঃ

১. কোন কাজটি অন্যায় বা অবৈধ তা নির্ধারণ করে তত্ত্বগত আইন।

২. কোন নির্দিষ্ট অপরাধ আর্থিক দণ্ডে দণ্ডনীয় না কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় তা তত্ত্বগত আইনের প্রশ্ন।

৩. মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলোপ করা হলে তা তত্ত্বগত আইনের পরিবর্তন।


পদ্ধতিগত আইনঃ

১. কোন কাজটি অন্যায় বা অবৈধ তা প্রমাণ করে পদ্ধতিগত আইন।

২. কোন নির্দিষ্ট অপরাধ আর্থিক দণ্ডে দণ্ডনীয় না কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় তা প্রমাণ করে পদ্ধতিগত আইন।

৩. ঋণের জন্য কারাদণ্ডের বিধান বিলোপ করা হলে তা পদ্ধতিগত আইনের পরিবর্তন।


৩. দেওয়ানি কার্যবিধি কি নিছক পদ্ধতিগত আইন-  যুক্তি দেখাও।

৩নং প্রশ্নের উত্তরঃ

"দেওয়ানি কার্যবিধি একটি নিছক পদ্ধতিগত আইন"- দেওয়ানি কার্যবিধি তত্ত্বগত আইন ও পদ্ধতিগত আইনের সংমিশ্রণ।

দেওয়ানি কার্যবিধিতে মোট ধারা আছে ১৫৫টি, এবং দ্বিতীয়ভাগে আদেশ আছে ৫০টি। এছাড়া বিধি ও কার্যবিধি রয়েছে। ধারাসমূহকে দেওয়ানি কার্যবিধির দেহ বলা হয়। ধারা হচ্ছে তত্ত্বগত বা মূল আইন। দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা সংশোধন করতে পারে শুধুমাত্র সংসদ।এবং আদেশসমুহ উচ্চ আদালত সংশোধন করতে পারে। 

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

ফৌজদারি কার্যবিধিতে জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য ধারার অপরাধ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এ পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আমরা জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধ কি তা জানতে পারবো। এছাড়া দন্ডবিধি আইনের জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য ধারারসমূহ উপস্থাপন করা হবে।



জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য ধারার অপরাধ

০১. জামিনযোগ্য অপরাধ (Bailable Offence):

ফৌজধারী কার্যবিধি ৪(খ) ধারায় জামিনযোগ্য অপরাধ বা 'Bailable Offence' সম্পর্কে  বলা হয়েছে। যে সকল অপরাধ ফৌজদারী কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে জামিনযোগ্য বলে দেখানো হয়েছে যা বর্তমানে বলবৎ কোন আইন দ্বারা জামিন যোগ্য করা হয়েছে তাকে জামিনযোগ্য অপরাধ বলা হয় ।

[ আমলঅযোগ্য অপরাধঃ

যে অপরাধ সংগঠিত হলে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে না ও ১৫৪ ধারায় এজাহার রুজুর মাধ্যমে মামলা করতে পারে না এবং ১৫৬ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত পরিচালনা করতে পারে না সেই সকল অপরাধ সমূহকে আমলঅযোগ্য অপরাধ বলে। আমলঅযোগ্য অপরাধকে সাধারণত জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।]


দন্ডবিধি আইনে জামিনযোগ্য অপরাধের ধারা সমূহঃ
৩৩৪-৩৫২, ৩৫৪-৩৫৫, ৩৫৭-৩৬৩, ৩৭০, ৩৭৪, ৩৮৪, ৩৮৮, ৩৮৯, ৪০৩, ৪০৪, ৪১৭-৪৩৫, ৪৪৭, ৪৪৮, ৪৫১, ৪৬১-৪৬৫, ৪৬৯-৪৭৫, ৪৭৭ক-৪৮৯, ৪৮৯গ, ৪৯১, ৪৯৪-৫০৪ এবং ৪০৬-৫১০।

০২. জামিন অযোগ্য অপরাধ (Non-boilable Offence):

জামিন অযোগ্য অপরাধ অর্থ জামিনযোগ্য অপরাধ ব্যতিত অন্য যে কোন অপরাধকে জামিন অযোগ্য অপরাধ বলা হয়।ফৌজদারী কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসীলে পঞ্চম কলামে কোন কোন অপরাধগুলো জামিনযোগ্য ও কোন কোনগুলো অ-জামিনযোগ্য তা দেখানো হয়েছে৷ জামিনযোগ্য অপরাধকে সাধারণত জামিন অযোগ্য অপরাধের চেয়ে কম গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয় ৷


 [ আমলযোগ্য অপরাধঃ

যে অপরাধ সমুহ সংগঠিত হলে পরে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে ও ১৫৪ ধারায় এজাহার রুজুর মাধ্যমে মামলা করতে পারে এবং ১৫৬ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত পরিচালনা করতে পারে সেই সকল অপরাধ সমূহকে আমলযোগ্য অপরাধ বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৩য় কলামে আমলযোগ্য অপরাধের তালিকা প্রদত্ত হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধকে সাধারণত জামিনঅযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।]


দন্ডবিধি আইনে জামিন অযোগ্য অপরাধের ধারা সমূহঃ
৩৫৩, ৩৫৬, ৩৬৪, ৩৬৪ক, ৩৬৫, ৩৬৬ক, ৩৬৬খ-৩৬৯, ৩৭১-৩৭৩, ৩৭৬-৩৮২, ৩৮৫-৩৮৭, ৩৯২-৪০২, ৪০৬-৪১৪, ৪৩৬-৪৪০, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫২-৪৬০, ৪৬৬-৪৬৮, ৪৮৯ক, ৪৮৯খ, ৪৮৯ঘ, ৪৯৩, ৫০৫, ৫০৫ক এবং ৫১১।

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
আদালতের এখতিয়ার
বাংলাদেশের প্রতিটি আদালতের বিচারিক ক্ষমতা সংবিধান অথবা রাষ্ট্র কর্তৃক পাশ কৃত আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ। সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং তৎক্রমনিম্নভাবে জেলা পর্যায়ে দেওয়ানি আদালত এবং ফৌজদারি আদালত রয়েছে। এছাড়াও বিশেষ মামলাসমূহের জন্য রয়েছে বিশেষ আদালত ও ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালতের বিচারিক ক্ষমতা নিম্নে আলোচনা করা হলো-


বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট-

বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত হবে সুপ্রীম কোর্ট যা দুটি ভাগে বিভক্ত-

ক) আপীল বিভাগ, এবং

খ) হাইকোর্ট বিভাগ।

আপীল বিভাগের ক্ষমতা-

১) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা সাজার বিরুদ্ধে আপীল শুনানীর ও নিষ্পত্তির ক্ষমতা রয়েছে আপীল বিভাগের।

২) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা সাজার বিরুদ্ধে আপীল বিভাগের নিকট অধিকারবলে আপীল করা যাবে যেক্ষেত্রে

ক) হাইকোর্ট বিভাগ এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে, মামলাটির সাথে আইনের গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন জড়িত রয়েছে, অথবা

খ) কোন ব্যাক্তিকে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে, অথবা

গ) উক্ত বিভাগের অবমাননার জন্য কোন ব্যক্তিকে দন্ডদান করা হয়েছে এবং জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে অন্যান্য ক্ষেত্রে,

৩) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে যে মামলায় এই অনুচ্ছেদের (২) দফা প্রযোজ্য নয় কেবল আপীল বিভাগের অনুমতিসাপেক্ষে উক্ত মামলায় আপীল চলবে।

(৪) সংসদ আইনের দ্বারা ঘোষণা করতে পারবে যে, এই অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ হাইকোর্ট বিভাগের প্রসঙ্গে যেরূপ প্রযোজ্য, অন্য কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রেও তাহা সেইরূপ প্রযোজ্য।

হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ারঃ

বাংলাদেশ সংবিধান এবং অন্য কোন আইনের দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগের উপর আদি, আপীল ও অন্য প্রকার এখতিয়ার, ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে-

ক) আদি এখতিয়ার- রীট, কোম্পানী এডমিরালটি ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়াদি,

খ) আপীল ও রিভিশনালএখতিয়ার- জেলা ও দায়রা জজ আদালত,অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, বিশেষ জজ, অর্থঋণ আদালত, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ইত্যাদি আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আপীল অথবা বিভিশন দায়ের করা যায়।

গ) আদালত অবমাননা সংক্রান্ত বিষয়াদি

অধস্তন আদালতঃ

দেওয়ানী আদালতঃ

ক) জেলা জজ আদালত

খ) অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত

গ) যুগ্ম জেলা জজ আদালত

ঘ) সিনিয়র সহকারী জজ আদালত

ঙ) সহকারী জজ আদালত

দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারঃ

ক) জেলা জজ আদালত- রিভিশন এখতিয়ার, দেওয়ানী বিষয়বস্তুর আপীল যার মূল্যমান সর্বোচ্চ পাচ কোটি টাকা , প্রবেট সংক্রান্ত বিষয়াদি ইত্যাদি।

খ) অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত- জেলা জজ কর্তৃক প্রেরিত সকল মামলাসমূহের বিচার অত্র আদালত কর্তৃক সম্পন্ন হয়ে থাকে।

গ) যুগ্ম জেলা জজ- ১) সকল প্রকার দেওয়ানী মামলা যার মূল্যমান পচিশ লক্ষ টাকা থেকে অসীম,

২) উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়াদি,

৩) রিভিশন- জেলা জজ কর্তৃক প্রেরিত মামলাসমূহ,

৪) আপীল- জেলা জজ কর্তৃক প্রেরিত মামলাসমূহ,

ঘ) সিনিয়র সহকারী জজ- দেওয়ানী প্রকৃতির মামলার বিচার যার মূল্যমান পনের লক্ষ টাকা থেকে পচিশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত,

ঙ) সহকারী জজ- দেওয়ানী প্রকৃতির মামলার বিচার যার মূল্যমান সর্বোচ্চ পনের লক্ষ টাকা।

চ) স্মল কজেস কোর্ট- স্মল কজেস আদালত ক্ষুদ্র মামলা নিস্পত্তি করে থাকে যার মূল্যমান সর্বোচ্চ পচিশ হাজার টাকা।

ছ) পারিবারিক আদালত- পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ অনুযায়ী অত্র আইনের অধীনে দায়েরকৃত পারিবারিক বিষয়াদি সংক্রান্ত বিষয়াদি যথাক্রমে- তালাক, দেনমোহর, ভরনপোষন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার এবং নাবালকের অভিভাকত্ব সংক্রান্ত বিষয়াদির মামলার বিচার অত্র আদালতে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

ফৌজদারী আদালতঃ

ক) দায়রা আদালতঃ প্রত্যেক বিভাগে নিম্নবর্ণিত দায়রা আদালত থাকবে-

১) দায়রা জজ আদালত

২) অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত

৩)সহকারী দায়রা জজ আদালত

মেট্রোপলিটন এলাকার জন্যঃ ১) মহানগর দায়রা জজ আদালত

২) অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত

৩) যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত

খ) ম্যাজিস্ট্রেট আদালতঃ

১) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,

২) অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,

৩) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

৪) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

৫) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

মেট্রোপলিটন এলাকার জন্যঃ ১) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

২) অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

৩) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

ফৌজদারী আদালতের এখতিয়ার-

১) দায়রা জজ আদালত এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত- আইনে উল্লেখিত সকল প্রকারের দন্ড প্রদানে অত্র আদালত সক্ষম তবে মৃত্যুদন্ড প্রদান করলে উক্ত রায় হাইকোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয়।

২) যুগ্ম দায়রা জজ আদালত- অত্র আদালত মৃত্যুদন্ড,যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা দশ বছরের অধিক কারাদন্ড ব্যতীত আইনে উল্লেখিত সকল প্রকার সাজা প্রদানে সক্ষম।

৩) প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত/ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত - অত্র আদালত পাচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড এবং দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা প্রদানে সক্ষম।

৪) দ্বিতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- অত্র আদালত তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড এবং পাচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা প্রদানে সক্ষম।

৫) তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- অত্র আদালত দুই বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড এবং দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা প্রদানে সক্ষম।

ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ আদালতসমূহঃ

ক) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ উল্লেখিত অপরাধসমূহের বিচার অত্র ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সম্পাদিত হয়।

খ) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল- দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন,২০০২ এর অধীনে সুনির্দিষ্ট কিছু অপরাধের বিচার অত্র আদালত কর্তৃক সম্পাদিত হয়।

গ) দ্রুত বিচার আদালত- অত্র আদালত কর্তৃক আইন, শৃংখলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এ উল্লেখিত অপরাধসমূহের বিচার সম্পন্ন হয়।

ঘ) বিশেষ আদালত- বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর অধীনে দায়েরকৃত অপরাধসমূহের বিচার অত্র আদালত কর্তৃক সম্পন্ন হয়।

ঙ) প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল- কোন সরকারী কর্মচারীর তার চাকুরীর শর্তাবলী সংক্রান্ত ক্ষুব্ধ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন।

চ) প্রশাসনিক আপীলেট ট্রাইব্যুনাল- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আপীলেট ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করা হয়ে থাকে।

ছ) শ্রম আদালত- বাণিজ্যিক কারনে এবং কল-কারখানা হতে উদ্ভত বিরোধের নিস্পত্তি শ্রম আদালতে করা হয়ে থাকে।

জ) শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল- শ্রম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে আপীল দায়ের করা হয়ে থাকে।

ঝ) ট্যাক্সেস আপীলেট ট্রাইব্যুনাল- যদি কোন করদাতা যুগ্ম আপীল কমিশনার অথবা কমিশনার (আপীল) প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয় তবে তিনি ট্যাক্সেস আপীলেট ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করতে পারেন।

ঞ) কাস্টমস, এক্সাইজ এবং ভ্যাট আপীলেট ট্রাইব্যুনাল- যদি কোন ব্যাক্তি কমিশনার অথবা কমিশনার (আপীল) কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হন তবে তিনি কাস্টমস, এক্সাইজ এবং ভ্যাট আপীলেট ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করতে পারেন।

ট) অর্থঋন আদালত- ব্যাংক অথবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাংক ঋণের টাকা আদায়ের নিমিত্তে অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

ঠ) বিশেষ জজ আদালত- দুর্নীতি দমন আইন,১৯৫৭ এবং অপরাধ আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮ এর মামলাসমূহ অত্র আদালত কর্তৃক পরিচালিত হয়।

ড) ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল- ষ্টেট একুইজিশন এন্ড টেনেন্সী এক্ট, ১৯৫০ এর ধারা ১৪৫ক এর বিধান অনুযায়ী ভূমি জরীপ সংক্রান্ত বিরোধ অনুযায়ী ভূমি জরীপ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির নিমিত্ত অত্র আদালত স্থাপিত হয়েছে।

ঢ) মেরিন আদালত- অত্র আদালত নৌ দুর্ঘটনা, নৌযান ত্রূটি সংক্রান্ত মামলাসমূহ বিচার করে থাকে।

ণ) কোর্ট অব সেটেলমেন্ট- অত্র আদালত পরিত্যাক্ত ভবন (সম্পূরক অনুবিধি) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ অনুযায়ী স্থাপিত হয়েছে যে আদালত পরিত্যক্ত ভবন নিয়ে বিচার কার্য সম্পন্ন করে এবং দেওয়ানী আদালতের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করে। অত্র আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল দায়েরের কোন সুযোগ নেই।

ত) সাইবার ট্রাইব্যুনাল- সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত মামলাসমূহের বিচার অত্র ট্রাইব্যুনালে হয়ে থাকে।

থ) পরিবেশ আদালত- পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে অত্র আদালতে মামলা করা হয়ে থাকে।

দ) পরিবেশ আপীল আদালত- পরিবেশ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি পরিবেশ আপীল আদালতে আপীল দায়ের করতে পারে।

ধ) স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল, সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন- সিকিউরিটি এবং এক্সচেঞ্জ সম্পর্কিত বিষয়াদি সংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে অত্র ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়ে থাকে।

ন) বন আদালত- বন আইন, ১৯২৭ অনুযায়ী বনের ভেতরে সংঘটিত সকল অপরাধের বিচার বন আদালতে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- অত্র আদালত নিমোক্ত অপরাধের বিচার সম্পন্ন করে থাকে-

১) মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অপরাধ,

২) শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ,

৩) গণহত্যা,

৪) যুদ্ধসংক্রান্ত অপরাধ,

৫) জেনেভা কনভেনশন, ১৯৪৯ এ উল্লেখিত মানবাধিকার ভংগকারী অপরাধ,

৬) আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংঘটিত অন্য যে কোন অপরাধ

তথ্য সূত্রঃ বিচার বিভাগীয় বাতায়ন বাংলাদেশ (www.judiciary.org.bd)
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

আইনের প্রকৃতিঃ

মনে রাখুনঃ দসুঃ মূল আইন | অন্যান্য আইনঃ পদ্ধতিগত আইন বা উভয়
দঃ দন্ডবিধি, ১৮৬০
সুঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আই্ন, ১৮৭৭


কোনটি কত নং আইন?

মনে রাখুনঃ সাসু- ১ | ফৌদে- ৫ | তাদবা- ৯,৪৫,৪৬
সাসুঃ ১নং আইন
সাঃ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
সুঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আই্ন, ১৮৭৭

ফৌদেঃ ৫নং আইন
ফৌঃ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮
দেঃ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮

তাদবা- ৯,৪৫,৪৬নং আইন
তাঃ তামাদি আইন, ১৯০৮ : ৯নং আইন
দঃ দন্ডবিধি, ১৮৬০ : ৪৫নং আইন
বাঃ বার কাউন্সিল, ১৯৭২ : ৪৬নং আইন
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
বাংলাদেশের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন আইনের প্রচলন রয়েছে। প্রচলিত এই আইনকানুনসমূহকে প্রধানত তিন (০৩) শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়। যথাঃ
  1. দন্ডবিধি; 
  2. ফৌজদারী কার্যবিধি এবং
  3. দেওয়ানী দন্ডবিধি।



উপরিউক্ত প্রচলিত আইনসমূহের কোনটিই স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন নয়। প্রতিটি আইন বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় একে অপরের উপর নির্ভরশীল।প্রচলিত প্রধান তিন প্রকারের আইন ছাড়াও প্রয়োজনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ আইন তৈরি পাশ করা হয়।

নিম্নে বিভিন্ন আইনের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলোঃ

০১) দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)

দণ্ডবিধি থেকে অপরাধ এবং অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে জানা যায়। মোট ৫১১টি ধারা আছে দণ্ডবিধিতে, এসব ধারাগুলোর অনেকগুলোর আবার উপধারা আছে। ধারাগুলোর কোনটিতে অপরাধের বর্ণনা বা সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে আবার কোনটিতে অপরাধের শাস্তির পরিমাণ বর্ণিত হয়েছে। ১৮৬০ সালে প্রথম ভারতীয় দণ্ডবিধি প্রবর্তিত হয়। দণ্ডবিধিকে একটি দেশের মৌলিক আইন বলা হয়ে থাকে।

তথ্যকণিকা
  • আইনের ধরণঃ আইনের ধরন মূল আইন/ বিষয় ভিত্তিক আইন/ Subjective Law/ Substantive Law
  • আইন নং: ১৮৬০ সালের ৪৫নং আইন।
  • দণ্ডবিধিতে ধারাঃ ৫১১ টি। (মূল দণ্ডবিধিতে ধারা ছিলঃ ৪৮৮টি।)
  • অধ্যায়ঃ ২৩টি।

ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন গঠনঃ ১৮৩৪ সালে।
প্রথম আইন কমিশনের -
    - চেয়ারম্যানঃ থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Loard Macaulay)
    - কমিশনারঃ G.W. Anderson , F. Millet এবং J.M. Macleod
  • আইন কমিশন কর্তৃক দণ্ডবিধি প্রণয়নের খসড়া জমাঃ ১৮৩৭
  • প্রথম পাশঃ ৬ অক্টোবর, ১৮৬০
  • কার্যকরঃ ১ জানুয়ারী, ১৮৬২
  • সর্বশেষ সংশোধনঃ ২০০৪ সালে। (ধারা ৮২ এবং ধারা ৮৩)

ফৌজদারী অপরাধের অভিযুক্ত করার প্রাথমিক শর্তসমূহঃ
  1. অপরাধী মন (ল্যাটিন: Mens Rea, ইংরেজি: Guilty Mind) এবং
  2. দোষাবহ কার্য বা অপরাধজনক কার্য (Actus Reus)

০২) ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898)

অপরাধের তদন্তের পদ্ধতি, গ্রেফতার-জমিনের বিধান এবং বিচারকার্য কিভাবে পরিচালিত হবে সেটা ফৌজদারী কার্যবিধি আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধ যাতে না ঘটতে পারে তার জন্য কিছু ব্যবস্থা ফৌজদারী আইনে পাওয়া যায়।

তথ্যকণিকা
  • আইনের ধরনঃ পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law/ Adjective Law) [ এই আইনে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে নিয়ম বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার কার্য পরিচালিত হবে তার উল্লেখ থাকে বিধায় একে পদ্ধতিগত আইন বলা হয়। ]
  • আইন নংঃ ১৮৯৮ সালের ৫নং আইন।
  • সর্ব প্রথম প্রণয়নঃ ১৮৬১ সালে।
  • সংস্কারপূর্বক গ্যাজেট প্রকাশঃ ২২ মার্চ, ১৯৮৯।
  • কার্যকরঃ ১লা জুলাই, ১৮৯৮ সালে।
  • মোট ধারাঃ ৫৬৫ টি। (বর্তমানে কার্যকরঃ ৪৭৩ টি)
  • অধ্যায়ঃ ৪৬ টি।
  • মোট তফসিলঃ ৫ টি। (বাতিলঃ ১ম তফসিল; কার্যকরঃ ৪টি)
  • সর্বশেষ সংশোধনীঃ ২০১২ সালে।


দণ্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধি
হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। দণ্ডবিধির ২৯৯ এবং ৩০০ ধারায় খুন বা হত্যাকান্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে। এবং দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের শাস্তির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

কিন্তু কিভাবে এই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে, কিভাবে তদন্তকার্য পরিচালনা করা হবে, কোন আদালতে মামলাটি দায়ের করতে হবে তথা বিষয়টি কোন আদালতের আওতাধীন ইত্যাদি সম্পর্কে দণ্ডবিধিতে কোন আলোচনা করা হয়নি। ফৌজদারী কার্যবিধিতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, বিধায় বিচারিক কার্য পরিচালনায় দণ্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধির সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।

০৩) দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (The Code of Civil Procedure, 1908)

দেওয়ানী কার্যক্রমে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। যেগুলো ফৌজদারী অপরাধ নয় সহজ ভাষায় সেগুলোই দেওয়ানী আদালতের আওতায় নেয়া হয়। বাড়ি-ঘর, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ, আর্থিক দেনদেন সংক্রান্ত প্রসঙ্গ ইত্যাদি দেওয়ানী আদালাতের আওতাভুক্ত। দেওয়ানী আদালত কিভাবে তার বিচারকার্য পরিচালনা করবে দেওয়ানী কার্যবিধিতে তার উল্লেখ আছে। দেওয়ানী কার্যবিধিকে মোটাদাগে দুইভাগে ভাগ করা যায়: কার্যবিধি ও অর্ডার। প্রতিটি অর্ডারের আবার একাধিক রুল আছে।

তথ্য কণিকা
  • CPC: Code of Civil Procedure
  • সর্বপ্রথম বিধিবদ্ধ হয়ঃ ১৮৫৯ সালে। 
  • প্রথম প্রণয়নঃ ২১ মার্চ, ১৯০৮।
  • কার্যকরঃ ১ জানুয়ারি, ১৯০৯। আমাদের।
  • আইনের ধরণঃ পদ্ধতিগত আইন। (Procedural Law/ Adjective Law)
  • আইন নংঃ ৫নং (১৯০৮ সাল)।
  • মোট ধারাঃ ১৫৮টি। (কার্যকরঃ ১৫৫টি।)
  • মোট আদেশঃ ৫১টি। (কার্যকরঃ ৫০টি।)
  • মোট তফসিলঃ ০৫টি। (কার্যকরঃ ০৩টি।)
  • অধ্যায়ঃ ১১টি। কববত।তত্ত
  • সর্বশেষ সংশোধনঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭। (ধারা ৮৯ক)

দেওয়ানী কার্যবিধিকে দুই (০২) ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
  • ধারাঃ ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলা আছে। পরিবর্তন করতে পারেঃ জাতীয় সংসদ।
  • আদেশঃ পদ্ধতি প্রসঙ্গে বলা আছে। পরিবর্তন করতে পারেঃ মহামান্য হাইকোর্ট।
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

তল্লাশি (Search) কাকে বলে?

ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ৯৬, ৯৮, ৯৯ক, ১০০ ধারা মোতাবেক পরোয়ানা মূলে বা ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৫, ১৬৬ ধারা মোতাবেক বিনা পরোয়ানায় পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অপর কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধ সংশ্লিষ্ট আলামত, বস্তগত সাক্ষ্য, চোরাই বা লুন্ঠিত মালামাল, অপহৃত ও ভিকটিম উদ্ধারের জন্য কোন গৃহ বা আবদ্ধ স্থান, যানবাহন, অপরাধীর দেহ বা প্রকাশ্য স্থানে সাক্ষীর উপস্থিতিতে পরিচালিত কার্যক্রমকে তল্লাশি বলে। (ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১০২, ১০৩ ধারা এবং পিআরবি বিধি ২৮০)


তল্লাশি কিভাবে করা হয়?

তল্লাশির পদ্ধতিঃ
তল্লাশির পদ্ধতি আলোচনা করলে তিনটি উপাদান পাওয়া যায়। যথাঃ
ক) তল্লাশি পূর্বে,
খ) তল্লাশির সময় এবং
গ) তল্লাশির পরে।

নিম্নে তল্লাশির পদ্ধতি বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
ক) তল্লাশি পূর্বেঃ

তল্লাশির জন্য নির্ধারিত স্থানটি প্রয়োজনীয় পাহারা দিয়ে ঘিরে রাখতে হবে। যাতে কোন রকম অপরাধ জনক জিনিস কেউ সরিয়ে নিতে না পারে। (পিআরবি ১৪৫ বিধি)

দুই/ তিন জন গণ্যমান্য স্থানীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সাক্ষী করার জন্য হাজির করতে হবে। (ফৌঃকাঃবিঃ ১০৩(১) ধারা এবং পিআরবি বিধি ৪৬৫)

তল্লাশির জন্য নির্ধারিত স্থানের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট হতে অনুমতি নিতে হবে। (ফৌঃকাঃবিঃ ১০২(১) ধারা)

তল্লাশির স্থানে কোন পর্দানশীল মহিলা থাকলে তাদের শালীনতার প্রতি লক্ষ্য রেখে মহিলাদের সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে অপরাধী যাতে অপরাধজনক মালামাল নিয়ে মহিলার বেশ ধরে পালিয়ে যেতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

যে সমস্ত পুলিশ অফিসার তল্লাশির কাজে অংশ নিবে তাদেরকে পুলিশের পোষাক পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে। (পিআরবি ৯৫১ বিধি)


খ) তল্লাশির সময়ঃ
  1. বাড়ির মালিক ও সাক্ষীদের সাথে রেখে তল্লাশি চালাতে হবে।
  2. তল্লাশি পরোয়ানায় যে স্থানে তল্লাশির জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে শুধু সে স্থান তল্লাশি করতে হবে।
  3. তল্লাশির সময় সন্দেহজনক ব্যক্তির শরীর ভালভাবে তল্লাশি করতে হবে।
  4. বাড়ীর সন্দেহজনক প্রত্যেকটি জায়গায় ভালভাবে তল্লাশি করতে হবে।
  5. বেআইনী ও বিরক্তিজনক তল্লাশি করা যাবে না।
  6. হয়রানিমূলক তল্লাশি করা যাবে না এবং তল্লাশির সময় বাদীকে সাথে রাখা যাবে না।
  7. নির্দিষ্ট জিনিস ও অপরাধজনক মালামাল ব্যতীত অন্য কোন মালামাল হস্তগত করা যাবে না।

গ) তল্লাশির পরেঃ
আটককৃত সকল মালামালের জব্দ তালিকা তৈরী করে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিয়ে এক কপি বাড়ীর মালিককে, এক কপি থানায় এবং এক কপি কোর্টে প্রেরণ করতে হবে।
কোন রকম অপরাধজনক মালামাল না পাওয়া গেলেও ৩ কপি জব্দ তালিকা তৈরী করে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিতে হবে। প্রতিটি অপরাধজনক মালামাল কোথায়, কিভাবে পাওয়া গেছে তা বিস্তারিত লিখে মালের গায়ে লেবেল লাগাতে হবে।


গৃহ তল্লাশি সম্পর্কিত আইনি বিধানসমূহ কি?

গৃহ তল্লাশি সম্পর্কিত আইনি বিধানসমূহঃ
নিম্নোক্ত দুইভাবে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে পুলিশ কোনো নাগরিকের গৃহ তল্লাশি করতে পারেঃ

  1. আদালত থেকে ইস্যুকৃত তল্লাশি পরোয়ানায়। অথবা,
  2. কোনো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে সেই মামলার আসামি গ্রেফতার বা মালামাল উদ্ধার করে।


ফৌজদারি কার্যবিধি ১০৩ ধারা মোতাবেক গৃহ তল্লাশির পদ্ধতি ও নিয়মঃ
  1. তল্লাশি শুরুর আগেই পুলিশ কর্মকর্তা স্থানীয় দুই বা ততোধিক সম্মানিত অধিবাসীকে সরেজমিন উপস্থিত থেকে, তাতে সাক্ষী হওয়ার জন্য প্রয়োজনে লিখিতভাবে অনুরোধ করবেন।
  2. তল্লাশিকালে গৃহকর্তা অথবা তার মনোনীত কোনো প্রতিনিধিকে অবশ্যই সাথে রাখতে হবে।
  3. কাক্সিক্ষত কোনো মালামাল পাওয়া গেলে পুলিশ কর্মকর্তা তার একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন।
  4. এরপর সেই তালিকার একটি অনুলিপি চাহিদা মোতাবেক গৃহকর্তা বা তার প্রতিনিধিকে এবং সাক্ষীদের দেবেন।
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

প্রশ্নঃ ফৌজদারী কার্যবিধি কি?


উত্তরঃ

ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC):

ফৌজদারী কার্যবিধিতে ফৌজদারী মামলার কার্যপ্রণালী বা ফৌজদারী মামলার বিচার পদ্ধিত সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়েছে। কিভাবে অপরাধের তদন্ত করতে হবে, গ্রেফতার-জামিনের বিধান এবং বিচারকার্য কিভাবে পরিচালনা করা হবে এ বিষয়গুলো ফৌজদারী কার্যবিধি থেকে জানা যায়। এছাড়া আরো কিছু বিষয় আছে, অপরাধ যাতে না ঘটতে পারে তার জন্য কিছু ব্যবস্থা ফৌজদারী আইনে পাওয়া যায়। ফৌজদারী কার্যবিধির চতুর্থ ভাগ অপরাধের প্রতিরোধ বিষয়ে নিবেদিত।

ফৌজদারী কার্যবিধিতে মোট ৫৬৫টি ধারা আছে, এসব ধারাগুলোর অনেকগুলোর আবার উপধারা আছে। ১৮৬২ সালের ১লা জানুয়ারী হতে ফৌজদারী কার্যবিধি বলবৎ হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়, আবার কিছু ধারা আবার বিভিন্ন সময়ে বাতিলও করা হয়।

CrPC




এক কথায় ফৌজদারী কার্যবিধি বলতে বুঝায়, ফৌজদারী মামলার কার্যপ্রণালী বা ফৌজদারী মামলার বিচার পদ্ধতি সংক্রান্ত আইন।

এক নজরে, ফৌজদারী কার্যবিধিঃ 
  • আইনের নামঃ ফৌজদারী কার্যবিধি [The Code of Criminal Procedure, সংক্ষেপেঃ CrPC]
  • আইনের ধরণঃ পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law)
  • আইন নংঃ ১৮৯৮ সালের ৫নং আইন
  • প্রথম পাশ হয়ঃ ১৮৬১ সালে
  • কার্যকরঃ ১ লা জুলাই, ১৮৯৮ সালে
  • মোট ধারাঃ ৫৬৫ টি
  • মোট তফসিলঃ ৫ টি (বাতিলঃ ১ টি- ১ম তফসিল, বর্তমানে বলবৎ আছেঃ ৪ টি)
  • অধ্যায়ঃ ৪৬ টি
  • সর্বশেষ সংশোধনঃ ২০১২ সালে।