Articles by "মুসলিম আইন"
মুসলিম আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

জাতীয়  বিশ্ববিদ্যালয়

এল এল. বি. প্রিলিমিনারী

বিষয়ঃ মুসলিম আইন (Muslim Law)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর এলএল.বি. প্রিলিমিনারী পরীক্ষার মুসলিম আইন বিষয়ের সম্ভাব্য টীকা উপস্থাপন করা হলো। স্বল্প সময়ে ভাল নম্বর প্রাপ্তির জন্য এ অংশ থেকে পড়ার বিকল্প নেই। 


মুসলিম আইন- টীকা লিখনঃ

ওয়াকফ

অগ্রক্রয়াধিকার

দান, উইল এবং হেবা

মুশার দান (Gift of Musha)

হেবা-বিল-এওয়াজ (Hiba-bil-ewaz)

মারজুল মউত কালিন দান  (Gift during Marz-ul-Maut)

আউল ও রাদ মতবাদ

মূল ওয়ারিশগণ (Primary heirs)

উমারাইয়াতান সিদ্ধান্ত (The Case of Umaryyiatan)

মোহরানা এবং ইদ্দত

বাতিল এবং ফাসিদ বিয়ে

ইজমা এবং কিয়াস

ইজতিহাদ এবং তাকলিদ

অভিভাবক এবং রক্ষক



বিঃ দ্রঃ  বিগত কয়েক বছরের প্রশ্ন পর্যালোচনায় দেখা যায়, মুসলিম আইন থেকে টীকা লিখন অংশে প্রতি বছর প্রশ্ন হয় না। তবে উপরিউক্ত বিষয়গুলো ভালভাবে আয়ত্ব করলে শুধুমাত্র টীকা লিখন নয়, পার্থক্য এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। 

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
এলএল. বি (১ম পর্ব) পরীক্ষা ২০১৩
মুসলিম আইন
বিষয় কোড: ৫০৩
সময়্রঃ ৪.০০ ঘন্টা |পূর্ণমানঃ ১০০

মুসলিম আইন এলএল. বি (১ম পর্ব) পরীক্ষা ২০১৩ এর প্রশ্ন



চুক্তি আইন ও টর্ট আইন | এলএল. বি (১ম পর্ব) পরীক্ষা ২০১৩

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

০১. উত্তরাধিকার কি?

কোন নারী বা পুরুষের মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে মৃতের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনের খরচ, দেনাশোধ বা মৃতব্যক্তি যদি কোন উইল সম্পাদন করে যান তবে তা হস্তান্তরের পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে তার উপর মৃতের সন্তান সন্তানাদি ও আত্মীয় স্বজনের যে অধিকার জন্মায় তাকে উত্তরাধিকার বলে।

০২. উত্তরাধিকার আইন কি?

যে নির্দিষ্ট আইন দ্বারা মৃতের সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টন করা হয় তাকে উত্তরাধিকার আইন বলে।


মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি বণ্টন পদ্ধতিঃ

মুসলিম আইনে মৃত ব্যক্তির সম্পদের সুষম বন্টনের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে, মুসলিম আইনে পরিষ্কার ভাবে বলা আছে মৃত ব্যক্তির সম্পদ তাঁর উত্তরাধিকারীরা কে কিভাবে পাবেন। একজন মুসলমান যদি মারা যায় তবে তাঁর সম্পদ বন্টনের আগে কিছু বিষয়ে তাঁর আত্মীয় স্বজনদের বিশেষ মনোযোগ রাখতে হয় এবং ঐ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই কেবল মৃত ব্যক্তির সম্পদ ভাগ বাটোয়ারা করা যাবে।

একজন মুসলমানের মৃত্যুর পর তাঁর সম্পদ ভাগের আগে যা করনীয়ঃ

  1. যদি মৃত ব্যক্তির পর্যাপ্ত সম্পদ থাকে তবে তাঁর সম্পদ থেকে তাঁর দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা।
  2. মৃত ব্যক্তির কোন প্রকারের ঋণ কিংবাদ ধার দেনা থাকলে তা ঐ ব্যক্তির সম্পদ থেকে পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা।
  3. মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর দেনমোহোর পরিশোধ হয়েছে কিনা দেখা যদি না হয়ে থাকে তা পরিশোধ করা।
  4. মৃত ব্যক্তি যদি কোন হেবা বা দান কিংবা অসিহত করে যান তবে তার সম্পত্তির একতৃতীয়াংশ মাল দিয়ে তা আদায় করা।

উপরিউক্ত কাজসমূহ সমাপ্তির পরে মৃত ব্যক্তির কোন সম্পদ অবশিষ্ট থাকলে, অবশিষ্ট সম্পত্তি তাঁর উত্তরাধিকারীদের মাঝে মুসলিম আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে বন্টন করতে হবে।

মৃত ব্যক্তির সম্পদের উপর তাঁর উত্তরাধিকারীরা কে কি পরিমাণ পাবেনঃ

০৩. মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীর শ্রেণীবিভাগ কিভাবে হয়?

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ৩ শ্রেনীর উত্তরাধিকার আছে। যেমন : অংশীদার, অবশিষ্টাংশ ভোগী, দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ।

০৪. অংশীদার কারা ?

যে উত্তরাধিকারীদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট করা হয়েছে তারাই অংশীদার।

০৫. অবশিষ্টাংশভোগী কারা?

কোরআনে নির্দিষ্ট অংশীদারদের সম্পত্তি বন্টনের পর মৃতের সাথে যাদের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তিতে যাদের অধিকার রয়েছে তারাই অবশিষ্টাংশ ভোগী।

০৬. দূরবর্তী আত্মীয়দের মধ্যে কারা সম্পত্তি পাবে?

যাদের সাথে মৃতের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু তারা অংশীদার বা অবশিষ্টাংশভোগী নয় তারাই মৃতের দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ। যদি মৃতের অংশীদার এবং অবশিষ্টাংশ ভোগী উত্তরাধিকার না থাকে তাহলেই কেবল মৃতের দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ সম্পত্তি পাবেন।

০৭. মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী আমি কি সম্পত্তির উত্তরাধিকার?

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ৩ শ্রেণীর মধ্যে অংশীদারগণই প্রধান উত্তরাধিকার। কোরআনে নির্ধারিত অংশ তাদেরকে দেয়ার পর যদি সম্পত্তি থাকে তবে তা অন্যদের মধ্যে বন্টন করতে হবে অর্থাৎ অংশীদারগণ সকল উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অগ্রাধিকার পান। অংশীদারগণের মধ্যে স্ত্রী অন্যতম। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নিচের ৬ জন কোন অবস্থায়ই উত্তরাধিকার হতে বাদ যায় নাঃ
  1. পিতা
  2. মাতা
  3. ছেলে
  4. মেয়ে
  5. স্বামী
  6. স্ত্রী
উল্লেখ্য, স্বামীর অবর্তমানে স্ত্রী এবং স্ত্রীর অবর্তমানে স্বামী সম্পত্তি পাবেন।

০৮. মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে আর কে কে অংশীদার আছেন?

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মোট ১২ জন অংশীদার আছেন। তাদের ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী। পিতা, মাতা, স্বামী, স্ত্রী, কন্যাসহ অন্যরা হলেন-দাদা, পুত্রের কন্যা, দাদী বা নানী, আপন বোন, বৈমাত্রেয় বোন, বৈপিত্রেয় ভাই, বৈপিত্রেয় বোন।


০৯. মৃতের বাবা কতটা সম্পত্তি পায়?

মৃত ব্যক্তির পিতা উত্তরাধিকার লাভে তিন অবস্থায় পড়তে পারেনঃ
ক. মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র বা পুত্রের পুত্র, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে বাবা ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন।
খ. পুত্র, পুত্রের পুত্র না থাকলে কিন্তু কন্যা, পুত্রের কন্যা থাকলে ছয় ভাগের এক ভাগ ( ১/৬) পাবেন এবং তাদের দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তাও পাবেন।
গ. মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকলে অন্যান্য অংশীদারদের দেয়ার পর বাকী সমস্ত সম্পত্তি পিতা পাবেন।


১১. মৃতের মাতা কতটা সম্পত্তি পায়?

মৃত ব্যক্তির মাতা তিনভাবে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারেনঃ
ক. মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে অথবা যদি পূর্ণ, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন থাকে তবে মাতা ছয় ভাগের এক ভাগ ( ১/৬) পাবেন।
খ. কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকলে এবং যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ ( ১/৩) পাবেন।
গ. কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকলে অথবা কমপক্ষে দুইজন ভাইবোন না থাকলে এবং যদি মৃত ব্যক্তি স্বামী বা স্ত্রী হয়, তবে তার স্বামী বা স্ত্রী, মাতা ও পিতা উত্তরাধিকারী হলে সেই স্বামী বা স্ত্রীর অংশ বাদ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার তিন ভাগের এক ভাগ ( ১/৩) মাতা পাবেন। মৃত ব্যক্তির এক ভাই থাকলেও মাতা ১/৩ অংশ পাবেন।

১২. স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তি কতটা পাবেন ?

স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তি দুইভাবে পাবেনঃ
ক. সন্তান বা সন্তানের সন্তান থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির চারভাগের একভাগ (১/৪) পাবেন।
খ. যদি সন্তান বা সন্তানের সন্তান, যত নিম্নের হউক, না থাকে তাহলে স্বামী মোট সম্পত্তির দুই ভাগের এক ভাগ (১/২) পাবেন।

১৩. স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি কতটা পাবেন ?

স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি দুইভাবে পাবেনঃ
ক. সন্তান বা পুত্রের সন্তান, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) পাবেন।
খ. যদি সন্তান না থাকে তাহলে স্ত্রী মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) পাবেন। এখানে উল্লেখ্য, যদি মৃতের একাদিক স্ত্রী থাকেন তাহলে কোরআনে বর্ণিত অংশ স্ত্রীদের মধ্যে সমান ভাবে ভাগ হবে।

১৪. ছেলে মৃত বাবার সম্পত্তি কতটুকু পাবেন?

মৃত ব্যক্তির ছেলে / ছেলেরা সকল ক্ষেত্রেই সম্পত্তি লাভ করবেন। যেক্ষেত্রে মৃতব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে বর্তমান সেক্ষেত্রে ছেলে/ ছেলেরা, মেয়ে বা মেয়েদের দ্বিগুন সম্পত্তি পাবেন। মৃতব্যক্তির সম্পত্তিতে পিতা, মাতা, স্বামী/স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে। তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলে পাবে।

১৫. মেয়ে মৃত বাবার সম্পত্তি কতটুকু পাবেন?

উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মেয়ে তিনভাবে সম্পত্তি পেতে পারেনঃ
ক. একজন কন্যার অংশ দুইভাগের একভাগ (১/২)
খ. একাধিক মেয়ে হলে সকলে মিলে সমানভাবে তিন ভাগের দুই ভাগ (২/৩) পাবে।
গ. যদি পুত্র থাকে তবে পুত্র ও কন্যার সম্পত্তির অনুপাত হবে ২:১ অর্থাৎ এক মেয়ে এক ছেলের অর্ধেক অংশ পাবে।

১৭. কেউ যদি সন্তানকে ত্যাজ্য করে তাহলে এই সন্তান কি সম্পত্তি পাবে?

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কোন সন্তানকে ত্যাজ্য করা যায় না। ফলে সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিতও করা যায় না। তবে কোন ব্যক্তি রেজিস্ট্রিকৃতভাবে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করে গেলে এবং সন্তানকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে সন্তানের অংশ উল্লেখ না করে গেলে ঐ সন্তান সম্পত্তি পাবে না।


গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসাঃ

০১. প্রশ্নঃ একজন মুসলিম নারী বা পুরুষকে কি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য ত্যাজ্য করা যায়?
উত্তরঃ না, একজন মুসলিম নারী বা পুরুষকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা বা ত্যাজ্য ঘোষণা করা যায় না।

০২. প্রশ্নঃ মৃত ব্যক্তির ছেলে না থাকলে মেয়ে কি সম্পূর্ণ সম্পত্তি পাবে?
উত্তরঃ না, যদি মেয়ে সন্তান একজন হয় তবে মৃত ব্যক্তির মোট সম্পত্তির অর্ধেক পাবে (১/২), একাধিক মেয়ে হলে মোট সম্পত্তির তিন ভাগের দুই (২/৩) ভাগ পাবে। তবে যদি মৃতব্যক্তি জীবিত অবস্থায় মেয়েকে বা মেয়েদেরকে সম্পূর্ণ সম্পত্তি দান করে যায় তাহলে মেয়েরা সম্পূর্ণ সম্পত্তি পাবে।

০৩. প্রশ্নঃ মেয়েরা কি মায়ের সম্পত্তি ছেলের চাইতে বেশি পায়?
উত্তর. না, মেয়েরা সবসময়ই ছেলের চাইতে অর্ধেক সম্পত্তি পাবে। মৃত ব্যক্তি মা বা বাবা যেই হোক না কেন উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একজন পুত্র, একজন কন্যার দ্বিগুন সম্পত্তি পাবে।

০৪. প্রশ্নঃ সৎ ছেলে মেয়েরা কি বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাবেন ?
উত্তরঃ না, কোন সৎ ছেলে-মেয়ে, সৎ বাবা-মায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন না। এমন কি সৎ বাবা-মাও সৎ ছেলে-মেয়ের সম্পত্তির উত্তররাধিকারী হবেন না।

তথ্যসূত্রঃ
  • মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১।
  • এ্যাডভোকেট শাহানা, দিলরুবা, মুসলিম আইনে উত্তরাধিকার।
  • পারিবারিক আইনে বাংলাদেশের নারী।
  • ইন্টারনেট।
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

প্রশ্নঃ ইসলামী আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর?

উত্তরঃ
ইসলামী আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
ইসলামী আইন এমন আইন যা ব্যক্তি ও সমাজ তথা সকলের অধিকার নিশ্চিত করে। আল্লাহ তা‘য়ালা প্রদত্ত ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদর্শিত পথনির্দেশ মেনে চলা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। এটি ছাড়া পৃথিবীতে যত পথ ও মত রয়েছে সবই মানব রচিত। জ্ঞানের স্বল্পতা ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেকেই এই ত্রুটিপূর্ণ ও ভারসাম্যহীন আইনকে ইসলামী আইনের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকে যা অন্যায় ও অনভিপ্রেত।

নিম্নে ইসলামী আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলোঃ

#আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত সংবিধানঃ ইসলামী আইন মহা আল্লাহ কর্তৃক মানুষের প্রতি প্রেরিত সংবিধান, যা মানুষের আর্থিব ও অপার্থিব জগতের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে।

#আল্লাহর নির্দেশ ও মহানবীর আদর্শ বাস্তবায়নঃ মানুষের রাষ্ট্রীয় সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সমস্ত কর্মকান্ডে আল্রাহর নির্দেশকে ও মহানবীর আদর্শকে বাস্তবায়ন করাই ইসলামী আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য বলে অভিহিত করা হয়।

#ঈমান ও বিশ্বাসঃ ঈমান ও বিশ্বাসই হল ইসলামী আইনের অনন্য বৈশিষ্ট্য।

#ধর্ম নির্ভরশীল ও নৈতিকতা ভিত্তিকঃ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আইন ধর্মের প্রতি উদাসীন। কিন্তু েইসলামী আইন সেক্ষেত্রে ধর্ম নির্ভরশীল এবং নৈতিকতাভিত্তিক বলে আখ্যায়িত।

#টেকসই ও গ্যারান্টির দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বঃ
ইসলামী আইন হলো, চিরন্তন-শাশ্বত আইন যা প্রায় ১৫০০ বছর ধরে অবিকৃত আছে এবং কিয়ামাত পর্যন্ত এর ধারা অব্যাহত থাকবে। এটি একটি নিত্য-নতুন যুগপোযোগী আইন যা যুগ বা কালের আবর্তনের সাথে পরিবর্তনশীল নয় বরং টেকসই ও গ্যারান্টিযুক্ত আইন। অপরপক্ষে, মানব রচিত আইন সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং ত্রুটিপূর্ণ আইন। কেননা এর ভিত্তি খুবই দুর্বল, ফলে এর দ্বারা সুষ্ঠুভাবে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করা একেবারেই অসম্ভব। সুতরাং সকল ক্ষেত্রেই ইসলামী আইনকে প্রাধান্য দেয়া উচিত।মুসলিম ব্যবহারতত্ত্ব পরিবর্তনীয় নহে। কারণ একমাত্র আল্লাহর এর প্রণেতা অন্যান্য আইন যেমন পরিবর্তন করে যুগোপযোগী করা হয় তেমনি যুগের পরিবর্তনের ফলে মুসলিম আইনের ব্যাখ্যা পরিবর্ধনের মাধ্যমে আইনবিদগণ জন-জীবনে এর প্রতিফলন ঘটাতে পারেন।

#পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণসাধনঃ ইসলামী আইনের আকেটি বৈশিষ্ট্য হল এই যে, এই আইন মানুষের পার্থিব মঙ্গলের সাথে সাথে মানুষের পারলৌকিক কল্যাণের নিমিত্তে আল্লাহর আনুগত স্বাকার করে।

#কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশাবলী পালনঃ ইসলামী আইন কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশাবলী পালনে মানুষকে বাধ্য করে।

#কোরআন মোতাবেক জীবন যাপনঃ ইসলামী আইন শরিয়ত ভিত্তিক বিধায় এই আইন কোরআন মোতাবেক জীবন যাপন করতে নির্দেশ দেয়।

#ইহকাল ও পরকালের শাস্তি বিধানঃ এছাড়া, ইহকাল ও পরকালের শান্তি-শৃংখলা বিধান করাই মুসলিম আইনের অনন্য বৈশিষ্ট্য।

#পূর্ণ জীবন বিধানঃ সুমলিম বা ইসলামী আইনকে পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য একটি পূর্ণ জীবন বিধি হিসাবে অভিহিত করা হয়।

#দোজখের শাস্তি ও বেহেস্তের পুরস্কারঃ এই আইনে রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত শাস্তি বা পুরস্কারের বিধান ছাড়াও শেষ বিচারের আল্লাহ কর্তৃক দোজখের শাস্তি ও বেহেস্তের পুরস্কারের বিধান রয়েছে- যা অন্যান্য আইন হতে এক স্বতত্ব বৈশিষ্ট্য দান করেছে।

#গোপন অপরাধের প্রবণতা কমানোঃ এছাড়া ইসলামী আইনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল যে, এই আইন সমাজে লোকচক্ষুর অন্তরালে সংঘটিত গোপন অপরাধের প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে এবং সৎ কাজ করতে উৎসাহ দান করে।

#কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী হবেনাঃ ইসলামী আইনে কোরআন এবং সুন্নাহর বিপরীতে কোন আইন প্রণয়নের অনুমোদন নাই।

#স্বয়ং সম্পূর্ণ আইনঃ সর্বোপরি, ইসলামী ব্যবহারতত্ব বা আইনবিজ্ঞান হল একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সুন্দর ও বিকশিত আইন, যার তুলনায় অন্যান্য পার্থিব আইন অসম্পূর্ণ ও মুসলিম আইনের মুখাপেক্ষী।
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

সংজ্ঞা, টিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএল.বি. (প্রিলিমিনারী) ইসলামী আইনতত্ত্ব ও মুসলিম আইন - তৃতীয় পত্র এর সংজ্ঞা, টিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা অত্যাবশাকঃ


  • মুসলিম আইন এবং মুসলিম আইনের বিভিন্ন উৎস।
  • ইসলামী আইন ঐশ্বরিক উৎস।
  • ইসলামী আইন মানবসৃস্ট আইন হতে স্বতন্ত্র।
  • সুন্নি ও শিয়া মুসলমান।
  • খিলাফত ও ইমামতি।
  • বিবাহ এবং মোহরানা।
  • শরীয়া এবং ফিকহ্।
  • মুসলমান
  • ইজমা এবং কিয়াস।
  • ইজমার দরজা বন্ধ নয়।
  • ইজতিহাদ এবং তাকদির।
  • মুজতাহিদ
  • বিবাহ, বৈধ বিবাহ, বাতিল বিবাহ এবং ফাসিদ বিবাহ।
  • বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯।
  • মোহরানা বা দেনমোহর এবং ইদ্দত।
  • নির্ধারিত দেনমোহর, তলবি বা মূলতবি দেনমোহর, পূর্ণ মোহর বা সম্পূর্ণ দেনমোহর, অর্ধেক দেনমোহর বা কোন দেনমোহর নয়।
  • নির্দিষ্ট অথবা অনির্দিষ্ট দেনমোহর।
  • তাৎক্ষণিক দেনমোহর বা বিলম্বিত দেনমোহর।
  • মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন।
  • তালাক-ই-তাউফিজ।
  • পারিবারিক আদালত।
  • রা'জী, বা'ইন এবং বিদাত তালাক।
  • প্রত্যাহারযোগ্য, অপ্রত্যাহারযোগ্য এবং তিন তালাক।
  • মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ আইন, ১৯৬১।
  • হিজানত এবং উলিয়াত।
  • আইনত এবং কার্যত অভিভাবক।
  • অভিভাবক এবং রক্ষক।
  • ভরণপোষণ বা খোরপোষ (নাফাকা)।
  • মুসলিম আইনে বৈধতার স্বীকৃতি।
  • দান (হিবা) এবং উইল।
  • মারজ-উল-মাউত।
  • মৃত্যু পীড়া।
  • হেবা এবং হেবাবিল এওয়াজ।
  • মৃত্যুকালীন ঘোষণা।
  • মুশার দান।
  • ওয়াকফ্ এবং মুতাওয়াল্লী।
  • অগ্রক্রয়য়াধিকার/ সুফা।
  • ওমারিয়াতান।
  • রাদ্দ।
  • রদ এবং আউল।
  • উমরিয়াতান সিদ্ধান্ত।
  • প্রাইমারি বা মূল ওয়ারিশগণ।

বিঃ দ্রঃ পোস্টটি পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।