Articles by "সম্পত্তি হস্তান্তর আইন"
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
আমিনঃ ভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তত ও ভূমি জরিপ কাজে নিজুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।

সিকস্তিঃ নদী ভাংঙ্গনের ফলে যে জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায় তাকে সিকন্তি বলে। সিকন্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়ন্তি হয় তাহলে সিকন্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।

পয়ন্তিঃ নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়ন্তি বলে।

দাগ/ কিত্তাঃ দাগ শব্দের অর্থ ভূমিখ-। ভূমির ভাগ বা অংশ বা পরিমাপ করা হয়েছে এবং যে সময়ে পরিমাপ করা হয়েছিল সেই সময়ে ক্রম অনুসারে প্রদত্ত ওই পরিমাপ সম্পর্কিত নম্বর বা চিহ্ন।

সরেজমিনে জরিপ করার পর আমিন বা জমি পরিমাপকারী সর্ব প্রথম গ্রামের চতুঃসীমা নির্ধারণ করেন এবং গ্রামের প্রতিটি ভূমিখ- পরিমাপ করে তার অবস্থান ওই গ্রামের প্রস্তুয়মান নকশায় প্রদর্শন করার জন্য সংখ্যায়িত করেন। এভাবে নকশায় প্রদর্শিত প্রতিটি ভূমিখন্ডের সংখ্যাকে দাগ নম্বর বলে। দাগকে কোথাও কিত্তা বলা হয়।

ছুটা দাগঃ ভূমি জরিপকালে প্রাথমিক অবস্থায় নকশা প্রস্তুত অথবা সংশোধনের সময় নকশার প্রতিটি ভূমি এককে যে নাম্বার দেওয়া হয় সে সময় যদি কোন নাম্বার ভুলে বাদ পড়ে তাবে ছুটা দাগ বলে। আবার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি দুটি দাগ একত্রিত করে নকশা পুন: সংশোধন করা হয় তখন যে দাগ নাম্বার বাদ যায় তাকেও ছুটা দাগ বলে।

চিটাঃ একটি ক্ষুদ্র ভূমির পরিমাণ, রকম ইত্যাদির পূর্ণ বিবরণ চিটা নামে পরিচিত। বাটোয়ারা মামলায় প্রাথমিক ডিক্রি দেয়ার পর তাকে ফাইনাল ডিক্রিতে পরিণত করার আগে অ্যাডভোকেট কমিশনার সরেজমিন জমি পরিমাপ করে প্রাথমিক ডিক্রি মতে সম্পত্তি এমনি করে পক্ষদের বুঝায়ে দেন। ওই সময় তিনি যে খসড়া ম্যাপ প্রস্তুত করেন তা চিটা বা চিটাদাগ নামে পরিচিত।

কিস্তোয়ারঃ ভূমি জরিপ কালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভুমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।

'খতিয়ান' কি?

খতিয়ান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেঃ খতিয়ান


মৌজাঃ CS জরিপ/ ক্যাডষ্টাল জরিপ করা হয় তখন থানা ভিত্তিক এক বা একাধিক গ্রাম, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা আলাদা করে বিভিন্ন এককে ভাগ করে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্তি করা হয়েছে। আর বিভক্তকৃত এই প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে।। এক বা একাদিক গ্রাম বা পাড়া নিয়ে একটি মৌজা ঘঠিত হয়।

খানাপুরিঃ জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরন করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।

নামজারিঃ ক্রয়সূত্রে/ উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা যেকোন সূত্রে জমির নতুন মালিক হলে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলা হয়।

পর্চাঃ ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভুমি মালিকদের প্রদান করা করা হয় তাকে মাঠ পর্চা বলে। এই মাঠ পর্চা রেভিনিউ/রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তসদিব বা সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে তা শোনানির পর খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়। আর চুড়ান্ত খতিয়ানের অনুলিপিকে পর্চা বলে।

তফসিলঃ জমির পরিচয় বহন করে এমন বিস্তারিত বিবরণকে “তফসিল” বলে। তফসিল এ মৌজার নাম, নাম্বার, খতিয়ার নাম্বার, দাগ নাম্বার, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ সহ ইত্যাদি তথ্য সন্নিবেশিত থাকে।

জমাবন্দিঃ জমিদারি আমলে জমিদার বা তালুকদারের সেরেস্তায় প্রজার নাম, জমি ও খাজনার বিবরণী লিপিবদ্ধ করার নিয়ম জমাবন্দি নামে পরিচিত। বর্তমানে তহশিল অফিসে অনুরূপ রেকর্ড রাখা হয় এবং তা জমাবন্দি নামে পরিচিত।

দলিলঃ যে কোন লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারন ভাবেতাকে দলিল বলে।

দখলনামাঃ দখল হস্তান্তরের সনদপত্র। সার্টিফিকেট জারীর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি কোনো সম্পত্তি নিলাম খরিদ করে নিলে সরকার পক্ষ সম্পত্তির ক্রেতাকে দখল বুঝিয়ে দেয়ার পর যে সনদপত্র প্রদান করেন তাকে দখলনামা বলে। সরকারের লোক সরেজমিনে গিয়ে ঢোল পিটিয়ে, লাল নিশান উড়ায়ে বা বাঁশ গেড়ে দখল প্রদান করেন। কোনো ডিক্রিজারির ক্ষেত্রে কোনো সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় হলে আদালত ওই সম্পত্তির ক্রেতাকে দখল বুঝিয়ে দিয়ে যে সার্টিফিকেট প্রদান করেন তাকেও দখলনামা বলা হয়। যিনি সরকার অথবা আদালতের নিকট থেকে কোনো সম্পত্তির দখলনামা প্রাপ্ত হন, ধরে নিতে হবে যে, দখলনামা প্রাপ্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে দখল আছে।

খাজনাঃ সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে প্রজার নিকট থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।

দাখিলাঃ সরকার বা সম্পত্তির মালিককে খাজনা দিলে যে নির্দিষ্ট ফর্ম বা রশিদ (ফর্ম নং১০৭৭) প্রদান করা হয় তা দাখিলা বা খাজনার রশিদ নামে পরিচিত। দাখিলা কোনো স্বত্বের দলিল নয়, তবে তা দখল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বহন করে।

DCR: ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে DCR বলে।

কবুলিয়তঃ সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।

বয়নামাঃ ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশের ৯৪ নিয়ম অনুসারে কোনো স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হলে আদালত নিলাম ক্রেতাকে নিলামকৃত সম্পত্তির বিবরণ সংবলিত যে সনদ দেন তা বায়নামা নামে পরিচিত। বায়নামায় নিলাম ক্রেতার নামসহ অন্যান্য তথ্যাবলি লিপিবদ্ধ থাকে। কোনো নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হলে ক্রেতার অনুকূলে অবশ্যই বায়নামা দিতে হবে। যে তারিখে নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হয় বায়নামায় সে তারিখ উল্লেখ করতে হয়।

ফারায়েজঃ ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।

ওয়ারিশঃ ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী। ধর্মীয় বিধানের অনুয়ায়ী কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলেতার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে ওয়ারিশ বলে।

হুকুমনামাঃ আমলনামা বা হুকুমনামা বলতে জমিদারের কাছ থেকে জমি বন্দোবস্ত নেয়ার পর প্রজার স্বত্ব দখল প্রমাণের দলিলকে বুঝায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে জমিদার কর্তৃক প্রজার বরাবরে দেয়া জমির বন্দোবস্ত সংক্রান্ত নির্দেশপত্রই আমলনামা।

জমা খারিজঃ জমা খারিজ অর্থ যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করা। প্রজার কোন জোতের কোন জমি হস্তান্তর বা বন্টনের কারনে মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমি নিয়ে নুতন জোত বা খতিয়ান খোলাকে জমা খারিজ বলা হয়। অন্য কথায় মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমির অংশ নিয়ে নতুন জোত বা খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে।
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
খতিয়ান- এর সংজ্ঞাঃ জরিপকালীন সময়ে জরিপের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ ফরম নাম্বার-৫৪৬২ (সংশোধিত)- তে ভূমির মালিকানা/ দাগের বর্ণনাসহ যে তথ্যচিত্র প্রকাশিত হয়, তাকে খতিয়ান বলে। সাধারণভাবে স্বত্ব সংরক্ষণ ও রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে জরীপ বিভাগ কর্তৃক প্রত্যেক মৌজার ভূমির মালিক বা মালিকগণের নাম, পিতা অথবা স্বামীর নাম, ঠিকানা, হিস্যা (অংশ) এবং তাদের স্বত্বাধীন দাগসমূহের নম্বরসহ ভূমির পরিমাণ, শ্রেণী, এদের জন্য দেয় খাজনা ইত্যাদি বিবরণ সহ ক্রমিক সংখ্যা অনুসারে যে স্বত্ব তালিকা বা স্বত্বের রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়। ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে “থতিয়ান” বলে। খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক।

খতিয়ানগুলো ১,২,৩,৪,৫ ইত্যাদি ক্রমিক সংখ্যা দ্বারা সাজানো হয়ে থাকে। প্রত্যেক খতিয়ানে একটি সংখ্যা রয়েছে। ইহাদেরকে খতিয়ান নম্বর বলা হয়। প্রত্যেক মৌজার খতিয়ান ১(এক) হতে শুরু হয়। কোন কোন মৌজায় কয়েক হাজারের বেশি খতিয়ান থাকতে পারে। কোন মৌজায় কতটি খতিয়ান রয়েছে তা উক্ত স্বত্বের রেকর্ড পাওয়া যায়।



খতিয়ানের প্রকারভেদঃ বাংলাদেশে প্রচলিত চার (০৪) ধরনের খতিয়ান রয়েছে। যথাঃ
১) সি, এস খতিয়ান (Cadastral Survey),
২) এস, এ খতিয়ান (State Acquisition Survey),
৩) আর, এস খতিয়ান (Revisional Survey) এবং
৪) বি, এস খতিয়ান/ সিটি জরিপ (City Survey)।

নিম্নে বিভিন্ন প্রকার খতিয়ান সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ

১) সি, এস খতিয়ান (Cadastral Survey): ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪০ সালে সরকার জরিপের মাধ্যমে যে খতিয়ান প্রস্তত করেন তাকে সি, এস খতিয়ান বলে। আমাদের দেশে জেলা ভিত্তিক প্রথম যে নক্সা ও ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় তাকে সি, এস রেকর্ড বলা হয়।

২) এস, এ খতিয়ান (State Acquisition Survey): ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২৭ হতে ৩১ ধারা অনুযায়ী ১৯৫৬-৬৩ সালে যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস, এ থতিয়ান বলে। অর্থাৎ সরকার কর্তৃক ১৯৫০ সনে জমিদারি অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন জারি করার পর যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস, এ খতিয়ান বলা হয়। কোনো অঞ্চলে এ খতিয়ান আর, এস খতিয়ান নামেও পরিচিত। বাংলা ১৩৬২ সালে এই খতিয়ান প্রস্তুত হয় বলে বেশির ভাগ মানুষের কাছে এসএ খতিয়ান ৬২র খতিয়ান নামেও পরিচিত।

৩) আর, এস খতিয়ান (Revisional Survey): একবার জরিপ হওয়ার পর তাতে উল্লেখিত ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য পরবর্তীতে যে জরিপ করা হয়, তাকে আর, এস খতিয়ান নামে পরিচিত। দেখা যায় যে, এস, এ জরিপের আলোকে প্রস্তুতকৃত খতিয়ান প্রস্তুতের সময় জরিপ কর্মচারীরা সরেজমিনে তদন্ত করেনি। তাতে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। ওই ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ভূমি মাপ-ঝোঁক করে পুনরায় খতিয়ান প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই খতিয়ান আর, এস খতিয়ান নামে পরিচিত। সারাদেশে এখন পর্যন্ত তা সমাপ্ত না হলেও অনেক জেলাতেই আর, এস খতিয়ান চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি আমিনরা মাঠে গিয়ে সরেজমিনে জমি মাপামাপি করে এই খতিয়ান প্রস্তুত করেন বলে তাতে ভুলত্রুটি কম লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের অনেক এলাকায় এই খতিয়ান বি, এস খতিয়ান নামেও পরিচিত।

৪) বি, এস খতিয়ান/ সিটি জরিপ (City Survey): ১৯৯৮-৯৯ সাল হতে বর্তমানে চলমান জরিপকে বি, এস খতিয়ান বা সিটি জরিপ বলে। যা এখনো চলমান। ঢাকা অঞ্চলে মহানগর জরিপ হিসাবেও পরিচিত।
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ৬ ধারার বিধান সাপেক্ষে যে কোন সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়।

এই ধারায় বলা হয়েছে যে, এই আইনে বা বর্তমান বলবৎ অন্য আইনে ভিন্নরুপ কোন বিধান না থাকলে যে কোন প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যেতে পারে তবে কতিপয় সম্পত্তির কথা এ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলি কোন অবস্থায় হস্থান্তরিত নয়-

ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারের সম্ভবনাঃ সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীর সম্পত্তি পাবার সম্ভবনা, আত্নীযের মৃত্যুর পর তার ওছিয়তের অনুসারে সম্পত্তি পাবার সম্ভাবনা অর্থাৎ সম্পত্তি লাভে কোন সম্ভাবনাকে হস্তান্তর করা যায় না।

পুন:প্রবেশের অধিকারঃ পরবর্তীকালীন শর্তের ভঙ্গের জন্য দখল পাবার অধিকার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিক ব্যতীত অন্য কারো নিকট হস্তান্তর করা যায় না।

ব্যবহার স্বত্বঃ এটা হচ্ছে একজনের সম্পত্তি উপর আরেক ব্যক্তির অধিকার।যেমন Easement Right ব্যবহার স্বত্বের অধিকার অন্যের নিকট হস্তান্তর করা যায় না।

ব্যক্তিগত স্বার্থঃ কোন সম্পত্তির ভোগ দখলের অধিকার মালিকের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে সীমাবদ্ধ থাকলে তিনি তা হস্তান্তর করতে পারেন না।

ভবিষ্যত খোরপোষের অধিকারঃ ভবিষ্যৎ খোরপোষের অধিকার জনস্বার্থে হস্তান্তর অযোগ্য করা হয়েছে।

কেবলমাত্র মামলা করার অধিকারঃ

সরকারী পদ বা বেতনঃ কোন সরকারী পদ বা বেতন পাওনা হবার আগে বা পরে হস্তান্তর করা যায় না।

বৃত্তি বা পেনশনঃ বৃত্তি বা পেনশন হস্তান্তর যোগ্য নহে।

সংশ্লিষ্ট স্বার্থের প্রকৃতি বিরোধী কোন স্বার্থ হস্তান্তর করা যায় না।
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সম্পত্তিঃ

আইনে সম্পত্তি খুব ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন আই্ন বিশারদগণ সম্পত্তিকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। নিম্নে তা উপস্থাপন করা হলোঃ


আইন বিশারদ হ্যালস্ বেবী এর মতে,
সম্পত্তি হচ্ছে কোন ব্যক্তির নিরঙ্কষ অধিকার যা দর কষাকষি এবং বিক্রি করা যায়। ব্যবসায়ের সুনাম, ট্রেডমার্ক, পেটেন্টস্বত্ব,গ্রন্থস্বত্ব, চুক্তিগত অধিকার সবই সম্পত্তি অন্তভূক্ত।

Law Lexicon গ্রন্থে সম্পত্তির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে নিম্নরুপভাবে-
সম্পত্তি বলতে কোন কিছুর উপর সর্বোচ্চ অধিকারকে বুঝায়, যে অধিকার বলে ভূমিতে বসবাস করেও বস্তু ব্যবহার করে যা অন্যের সৌজন্যে নয়।


ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টের অভিমত হল,
যে অধিকার বলে মানুষ একগুচ্ছ অধিকার এবং ইন্দ্রীয় গ্রাহ্য সম্পত্তির ক্ষেত্রে দখলের অধিকার, ভোগের অধিকার, বিনষ্ট করার অধিকার, রেখে দেওয়ার অধিকার এবং হস্তান্তর করার অধিকার লাভ করে তাকে সম্পত্তি বলে।

এলাহবাদ হাই কোর্টের মতে,
সম্পত্তি বলতে শুধুমাত্র বস্তুগত পদার্থ সমূহকেই বুঝায় এবং পদার্থের উপর হতে লব্ধ সকল প্রকার অধিকার ও স্বত্বকে এইমত অনুযায়ী সম্পত্তি শব্দটি দ্বারা বন্ধকী দায় মোচনের ন্যায় সংগত অধিকার কায়েমী স্বার্থ প্রভৃতি মামলাযোগ্য অধিকার সমূহকেও অন্তভূক্ত করে।


বিষয়ের ব্যাপকতার কারণে সম্ভবত ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হসবতান্তর আইনে সম্পত্তির সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি, তবে এটা স্পষ্ট যে ইন্দ্রীয় গ্রাহ্য বা অইন্দ্রীয়গ্রাহ্য সকল বস্তু যার উপর কোন ব্যক্তি তার নিজের সুবিধার্থে পূর্ণ অধিকার ও কতৃত্ব প্রয়োগ করতে পারে তা হচ্ছে ঐ ব্যক্তির সম্পত্তি।