Articles by "সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন"
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭

[ The Specific Relief Act, 1877 ]

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে তামাদির মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্যাবলী

বিষয়                                        সংশ্লিষ্ট ধারা     তামাদির মেয়াদ    তামাদি আইন, ১৯০৮

সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারঃ                ধারা ৮                    ১২ বছর                    অনুচ্ছেদ ১৪২

⇛ স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধারঃ                      ধারা ৯                    ৬ মাস                    অনুচ্ছেদ ৩

⇛ সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারঃ            ধারা ১০                   ৩ বছর                    অনুচ্ছেদ ৩

⇛ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনঃ                        ধারা ১২                  ১ বছর                    অনুচ্ছেদ ১১৩

⇛ দলিল সংশোধনঃ                                                ধারা ৩১                ৩ বছর                    অনুচ্ছেদ (৯৫, ৯৬)

⇛ চুক্তি রদঃ                                                            ধারা ৩৫                 ১ বছর                    অনুচ্ছেদ ১১৪

⇛ দলিল রদঃ                                                           ধারা ৩৯                    ৩ বছর                    অনুচ্ছেদ ৯১

SRA 1877


⇛ ঘোষণামূলক মোকদ্দমাঃ                                ধারা ৪২                    ৬ বছর                    অনুচ্ছেদ ১২০

⇛ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাঃ                                        ধারা ৫৪                    ৬ বছর                    অনুচ্ছেদ ১২০

⇛ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞাঃ                                ধারা ৫৫                    ৬ বছর                    অনুচ্ছেদ ১২০
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭

নিষেধাজ্ঞা (Injunction):

নিষেধাজ্ঞা হলো বিচারিক সিদ্ধান্ত যার মাধ্যমে মোকদ্দমার কোনপক্ষকে সুনির্দিষ্ট কাজ করতে বা করা

হতে আদালত বিরত থাকতে আদেশ দেয়।


Injunction

নিষেধাজ্ঞা (Injunction) সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহঃ

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৫২ হতে ধারা ৫৭ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বা Injunction সম্পর্কে  আলোচনা করা হয়েছে। নিম্নে ধারা (৫২-৫৭) এর আলোচ্য বিষয়াবলি উপস্থাপন করা হলোঃ

  • ধারা ৫২: নিরোধক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়।
  • ধারা ৫৩: অস্থায়ী নিষেজ্ঞা।
  • ধারা ৫৪: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা যখন মঞ্জুর করা হয়।
  • ধারা ৫৫: বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা।
  • ধারা ৫৬: ইনজাংশন যখন প্রত্যাখ্যান করা হয়।
  • ধারা ৫৭: নেতিবাচক চুক্তি পালন করবার জন্য নিষেধাজ্ঞা।


নিষেধাজ্ঞা (Injunction) এর প্রকারভেদঃ

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এ তিন (০৩) প্রকারের নিষেধাজ্ঞার বিধান আছে। যথাঃ

  • অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) [ধারা ৫৩]
  • স্থায়ী/ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction) [ধারা ৫৩]
  • আদেশ মূলক/ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) [ধারা ৫৫]


সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৫২ ধারায় দুই (০২) প্রকারের নিষেধাজ্ঞার বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যথাঃ

  1. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  2. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা


(১) স্থায়ী/ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction):

শুধুমাত্র মামলার শুনানীর পর মামলার গুণাগুণের উপর ভিত্তি করে কোন পক্ষকে কোন কাজ করা হতে স্থায়ীভাবে বিরত থাকতে যে আদেশ দেয়া হয়, সেই আদেশকে স্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction) বলা হয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা (৫৪-৫৬) অনুসারে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া হয়।


(২) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction):

অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মামলার কোন পক্ষকে অস্থায়ীভাবে কোন কাজ করা হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয় । এমন আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন অবস্থাতেই তা মঞ্জুর করা যায় এবং দেওয়ানী কার্যবিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৫৩ এবং দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৩৯নং আদেশ অনুসারে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া হয়।


সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৫৫ ধারাতে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে।

আদেশ মূলক/ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction):

যে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদালত কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বাধ্য করেন তাকে আদেশ মূলক বা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) বলে। এটি আদালতের একটি আদেশ। এই আদেশের মাধ্যমে আদালত বিবাদীকে কোন অবস্থার পরিসমাপ্তি না ঘটাতে কোন প্রত্যক্ষ কাজ করতে নির্দেশ প্রদান করেন।

no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

১. তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন ও পদ্ধতিগত আইন কি?

১নং প্রশ্নের উত্তরঃ

তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন (Substantive Law): যে আইন মানুষের অধিকার নিরুপণ করে তাকে মূল আইন বলে। যেমন - দন্ডবিধি আইন, চুক্তি আইন, সুনির্দস্ট প্রতিকার আইন।

পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law): যে আইন অধিকার প্রয়োগ করে তাকে পদ্ধতিগত আইন বলে। যেমন - ফৌজদারী আইন।


০২. তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন ও পদ্ধতিগত আইন এর মধ্যে পার্থক্য লিখ।

২নং প্রশ্নের উত্তরঃ

তত্ত্বগত বা মৌলিক আইনঃ

১. কোন কাজটি অন্যায় বা অবৈধ তা নির্ধারণ করে তত্ত্বগত আইন।

২. কোন নির্দিষ্ট অপরাধ আর্থিক দণ্ডে দণ্ডনীয় না কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় তা তত্ত্বগত আইনের প্রশ্ন।

৩. মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলোপ করা হলে তা তত্ত্বগত আইনের পরিবর্তন।


পদ্ধতিগত আইনঃ

১. কোন কাজটি অন্যায় বা অবৈধ তা প্রমাণ করে পদ্ধতিগত আইন।

২. কোন নির্দিষ্ট অপরাধ আর্থিক দণ্ডে দণ্ডনীয় না কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় তা প্রমাণ করে পদ্ধতিগত আইন।

৩. ঋণের জন্য কারাদণ্ডের বিধান বিলোপ করা হলে তা পদ্ধতিগত আইনের পরিবর্তন।


৩. দেওয়ানি কার্যবিধি কি নিছক পদ্ধতিগত আইন-  যুক্তি দেখাও।

৩নং প্রশ্নের উত্তরঃ

"দেওয়ানি কার্যবিধি একটি নিছক পদ্ধতিগত আইন"- দেওয়ানি কার্যবিধি তত্ত্বগত আইন ও পদ্ধতিগত আইনের সংমিশ্রণ।

দেওয়ানি কার্যবিধিতে মোট ধারা আছে ১৫৫টি, এবং দ্বিতীয়ভাগে আদেশ আছে ৫০টি। এছাড়া বিধি ও কার্যবিধি রয়েছে। ধারাসমূহকে দেওয়ানি কার্যবিধির দেহ বলা হয়। ধারা হচ্ছে তত্ত্বগত বা মূল আইন। দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা সংশোধন করতে পারে শুধুমাত্র সংসদ।এবং আদেশসমুহ উচ্চ আদালত সংশোধন করতে পারে। 

Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.

আইনের প্রকৃতিঃ

মনে রাখুনঃ দসুঃ মূল আইন | অন্যান্য আইনঃ পদ্ধতিগত আইন বা উভয়
দঃ দন্ডবিধি, ১৮৬০
সুঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আই্ন, ১৮৭৭


কোনটি কত নং আইন?

মনে রাখুনঃ সাসু- ১ | ফৌদে- ৫ | তাদবা- ৯,৪৫,৪৬
সাসুঃ ১নং আইন
সাঃ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
সুঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আই্ন, ১৮৭৭

ফৌদেঃ ৫নং আইন
ফৌঃ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮
দেঃ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮

তাদবা- ৯,৪৫,৪৬নং আইন
তাঃ তামাদি আইন, ১৯০৮ : ৯নং আইন
দঃ দন্ডবিধি, ১৮৬০ : ৪৫নং আইন
বাঃ বার কাউন্সিল, ১৯৭২ : ৪৬নং আইন
no image
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭

ধারা ৫৬ নিষেধাজ্ঞা যখন প্রত্যাখ্যান করা যায় (১১টি ক্ষেত্রে)

১. যে মামলার জন্য নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে সে মামলার কার্য্যধারা স্থগিত করার জন্য, যদি না কার্য্যধারা পুনঃপৌনিকতা রোধের জন্য এইরকম নিষেধাজ্ঞা কার্য্যকর হয়
২. যে আদলতে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে সে আদালতের অধীনস্থ আদালত না হয়
৩. কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়ন বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা থেকে বিরত রাখার জন্য
৪. সরকারে কোন বিভাগের বা বিদেশী সরকারের কোন স্বাধীন কাজে হস্তক্ষেপের জন্য
৫. কোন ফৌজদারী কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য
৬. যে চুক্তি সুর্নির্দিষ্ট ভাবে কার্য্যকর করা যায় না, এমন চুক্তি নিরোধের ক্ষেত্রে
৭. উৎপাতের অজুহাতে এমন কাজ নিরোধকের জন্য করা জা উৎখাতের পর্যায়ে পড়ে
৮. এমন একটা চলমান লঙ্ঘন নিরোধের জন্য যাতে বাদির মৌন সম্মতি আছে
৯. যে ক্ষেত্রে জিম্মা ভঙ্গের প্রতিকার অন্য কোন আইনে সাধারন ভাবেই পাওয়া যায়
১০. দরখাস্তকারীর আচরন এমন হয় আদালত তাকে সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে
১১. যে ক্ষেত্রে মামলার বা দরখাস্তকারীর কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।
Online School of Law, Bangladesh. Online Law Learning Platform.
যে আইনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট দাবির প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পাওয়া যায় সেটিকে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন বলা হয়। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ দ্বারা সুনির্দিষ্ট দাবির প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনঃ

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ একটি তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন (Substantive Law)/ দেওয়ানী প্রকৃতির মূল আইন/ প্রতিকার মূলক আইন। ইংরেজিতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনকে The Specific Relief Act, 1877 এভাবে লিখা হয়। এটি ১৮৭৭ সালের ১নং আইন।  Dr. Whitley Stokes ১৮৭৭ সালে The New York Civil Code, 1862 এর আদলে বা অনুকরণের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনটির খসড়া প্রণয়ন করেন।

Specific Relief Act

এক নজরে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ঃ
  • আইনের প্রকৃতিঃ তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন (Substantive Law)/ দেওয়ানী প্রকৃতির মূল আইন/ প্রতিকার মূলক আইন
  • আইন নংঃ ১৮৭৭ সালের ১নং আইন
  • খসড়া প্রণয়ন করেনঃ Dr. Whitley Stokes [The New York Civil Code, 1862 এর অনুকরণে।]
  • প্রকাশকালঃ ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৭
  • কার্যকরঃ ১ মে, ১৮৭৭
  • সর্বশেষ সংশোধনঃ ১ জুলাই, ২০০৪ [ধারা ২১(ক) সংযুক্ত হয়।]
  • কার্যকরঃ ১ জুলাই, ২০০৫
  • মোট ধারাঃ ৫৭ টি [বাতিলঃ ৮টি (২, ৪৫- ৫১); কার্যকরঃ ৪৯টি।]
  • অধ্যায়ঃ ১০ টি
  • খন্ডঃ ৩ টি ⇔ ১ম খন্ড (ধারাঃ ১-৭) । ২য় খন্ড (ধারাঃ ৮-৫১) । ৩য় খন্ড (ধারাঃ ৫২-৫৭)

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহঃ

5, 6, (8+9+42), 10, (12+21+21A+23+27), (13+14+15), (19+29), 22, 24, (31+34), (35+36), (39+40), (42+43), 53, (54+56), 55 & 57.
 
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ অনুসারে নিম্নোক্ত মোট আট (০৮) ধরণের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়ে থাকে। যথাঃ
  1. স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (Recovery of Possession of Property) : ধারা (৮-১১)
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (Specification Performance of Contract) : ধারা (১২-৩০)
  3. দলিল সংশোধন (Rectification of Instruments) : ধারা (৩১-৩৪)
  4. চুক্তি রদ বা বাতিল (Rescission of Contracts) : ধারা (৩৫-৩৮)
  5. দলিল বাতিল (Cancellation of Instruments) : ধারা (৩৯-৪১)
  6. ঘোষনামূলক মোকদ্দমা (Declaration of Relief) : ধারা (৪২-৪৩)
  7. রিসিভার নিয়োগ (Appointment of Receiver) : ৪৪
  8. বাতিল করা হয়েছেঃ ধারা (৪৫-৫১)
  9. নিষেধাজ্ঞা (Injunction Generally) বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief) : ধারা (৫২-৫৭)

বিঃ দ্রঃ উপরিউক্ত প্রতিকারসমূহ পাচঁ (০৫) পদ্ধতিতে দেওয়া যায়। [ধারা ৫]